রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের হলের ক্যান্টিনের সিটে বসাকে কেন্দ্র করে শাহ মখদুম হলের এবং নবাব আব্দুল লতিফ হলের দুই শিক্ষার্থীর মাঝে তর্কাতর্কির ঘটনা ঘটেছে। এর জের ধরে ওই শিক্ষার্থীকে ‘উল্টো করে ঝুলিয়ে’ পেটানোর হুমকি দিয়েছেন লতিফ হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এবং হল শাখা শিবিরের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম শহীদ।
শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে শাহ মখদুম হলের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
হলের ক্যান্টিনে তর্কে জড়ানো শিক্ষার্থীরা হলেন, শাহ মখদুম হলের আবাসিক শিক্ষার্থী মোহাম্মদ মাসুদ এবং নবাব আব্দুল লতিফ হলের আবাসিক শিক্ষার্থী আরিফ।
প্রত্যক্ষদর্শী এবং ওই দুই শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জুমার নামাজ শেষে মাসুদ হলের ক্যান্টিনে খাবার খাচ্ছিলেন মাসুদ। এ সময় তার পাশে বসতে চান আরিফ। এতে মাসুদ একটু অপেক্ষা করতে বলেন। পরে উভয়ে এক টেবিলে বসেন। এক পর্যায়ে আরিফ মাসুদের পরিচয় জানতে চাইলে মাসুদ চটে যায়। পরে তাদের দু’জনের মধ্যে তর্কাতর্কির ঘটনা ঘটে।
এ বিষয়ে মাসুদ বলেন, ‘আমি উনাদের একটু অপেক্ষা করতে বলি। কিন্ত তারা সেটি করে না এমনকি টেবিলে বসে তিনি আমার পরিচয় জানতে চান। এর পরে আমাদের মাঝে তর্কাতর্কি হয়। এরপরে উনি নিজের হলের শিক্ষার্থীদের ডাকেন এবং তারা এসে তো হুমকিই দিয়ে গেল।’
অন্যদিকে আরিফ বলেন, ‘আমি উনাকে একটু সরে বসতে বলি কিন্ত উনি সেটি না করে আমার ওপর চটে যান। আমি পরিচয় জানতে চাইলেও তিনি উত্তেজিত হয়ে যান এবং গালি দেন।’
হলের জিএসের হুমকি
এ দিকে দুই হলের শিক্ষার্থীর তর্কাতর্কির ঘটনার পরে শাহ মখদুম হলের সামনে আসেন নুরুল ইসলাম শহীদ। তিনি এবং ওই হলের শিক্ষার্থীরা মাসুদের সঙ্গে তর্কাতর্কি শুরু করেন। এতে মাসুদের পক্ষ নেন উপস্থিত কয়েকজন শিক্ষার্থী। এক পর্যায়ে নরুল ইসলাম শহীদ শাহ মখদুম হলের ওই শিক্ষার্থীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আমি ওই হলের দায়িত্বপ্রাপ্ত আমি আসব। তুই কে রে? তোকে ফারদার এরকম করতে দেখলে লতিফ হলের সামনে উল্টা ঝুলায় মারব। শুকরের বাচ্চা। ওর রাহট আছে ও লতিফ হলে খেতে যাবে।’
পরে অন্যপাশে থেকে এক শিক্ষার্থী তাকে গালি দেন। এরপরে তিনি আরও চটে গিয়ে বলেন, ‘ও গালি দেয় কেন? ও গালি দেয় কেন? শুকরের বাচ্চা।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নুরুল ইসলাম শহীদ বলেন, ‘আমার হলের শিক্ষার্থীর সঙ্গে এমন ঝামেলা হওয়ায় কষ্টে বলে ফেলেছি। আমার এটি বলার কোনো ইচ্ছা ছিল না। দায়িত্বশীল হিসেবে এরকম শব্দচয়ন করা উচিত হয়নি। আমি এর জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি।’
শাকিবুল/মাহফুজ