বিগত আওয়ামী আমলে শিক্ষক সমিতির ডায়েরি থেকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নাম মুছে ফেলার নেতৃত্ব দেন বলে অভিযোগ রয়েছে জিয়া পরিষদের কেন্দ্রীয় মহাসচিব এবং ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেনের বিরুদ্ধে। এখন তিনিই আবার বঙ্গবন্ধু চেয়ারের আদলে শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান চেয়ার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, কলা অনুষদের ডিন হিসেবে তার মেয়াদের শেষের দিকে এসে বিশেষ উদ্দেশ্যে এ উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। কেননা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. এম এয়াকুব আলীর নেতৃত্বে একটি ‘শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান স্মৃতি সংগ্রহশালা’ প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এর আওতায় প্রথমত শহিদ জিয়ার স্মৃতি সংগ্রহশালা এবং পরবর্তীতে গবেষণামূলক কাজ হতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. এম এয়াকুব আলী।
এদিকে গত ২১ ডিসেম্বর ড. এমতাজের সভাপতিত্বে কলা অনুষদের ১৯তম সভায় উক্ত চেয়ারের প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে সিদ্ধান্তটি একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় পাঠানোর অনুমোদন দেওয়া হয়।
জানা যায়, বিগত আওয়ামী ফ্যাসিস্ট আমলে ২০১৭ সালে ড. এমতাজের নেতৃত্বে শিক্ষক সমিতি প্রকাশিত ডায়েরি থেকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নাম বাদ দেওয়া হয়। ওই সময় তিনি ইবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি ছিলেন। বিষয়টি নিয়ে বিএনপিপন্থি শিক্ষক-কর্মকর্তাদের মধ্যে সে সময় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এজন্য তৎকালীন ইবি জিয়া পরিষদ থেকে তাকে এ বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশও দেওয়া হয়।
এছাড়া তিনি কখনো ইবি জিয়া পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত না হলেও বিশেষ প্রক্রিয়ায় কেন্দ্রীয় মহাসচিব মনোনীত হন বলে জানা যায়। তার বিরুদ্ধে ইবিতে বিএনপিপন্থি শিক্ষক-কর্মকর্তাদের ভেতরে গ্রুপিং তৈরির অভিযোগও রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শিক্ষক অভিযোগ করেন, আওয়ামী সখ্যতার কারণে তিনি মাদরাসা শাখা পরিচালনাসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিলেও ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে বিএনপিতে নিজের অবস্থান পাকাপোক্ত করতে নানাভাবে চেষ্টা চালাচ্ছেন। এর অংশ হিসেবে আওয়ামীপন্থিদের অনুকরণে শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান চেয়ার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন। তার নিজেরই ওই চেয়ারের প্রফেসর হওয়ার উদ্দেশ্য রয়েছে।
জিয়া পরিষদের এক শিক্ষক জানান, আওয়ামী সরকারের আমলে আওয়ামীপন্থি শিক্ষক নেতাদের সঙ্গে সখ্যতা রেখে ড. এমতাজ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করেছেন। এমনকি সংখ্যাগরিষ্ঠ আওয়ামীপন্থি শিক্ষকের ভেতরেও তিনি বিশেষ সম্পর্কের কারণে সভাপতি হয়ে যান। তিনি শিক্ষক সমিতি কর্তৃক প্রকাশিত ডায়েরি থেকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নাম বাদ দিয়েছেন। বর্তমানে তিনি শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান চেয়ার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছেন এটাকে আমরা সাধুবাদ জানাই। তবে বিগত সময়ের কর্মকাণ্ড ঢাকতে তিনি এখন অতিরিক্ত দলপ্রীতি দেখাচ্ছেন বলে মনে হয়।
এ বিষয়ে ড. এমতাজ বলেন, জিয়া চেয়ার মূলত বঙ্গবন্ধু চেয়ারের আদলে নয়। আলাদা করে জিয়াউর রহমান স্মৃতি সংগ্রহশালা হচ্ছে কি না, আমি জানি না। তবে সেটি হলেও জিয়া চেয়ারের প্রয়োজন আছে।
শিক্ষক সমিতির ডায়েরি থেকে শহিদ জিয়ার নাম মুছে দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রথমত শিক্ষক সমিতি ডায়েরি প্রকাশ করেনি। এটি মূলত একটি নোটবুক ছিল। আর এর আহ্বায়ক ছিলেন প্রফেসর এয়াকুব আলী।
এ বিষয়ে প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. এম এয়াকুব আলী বলেন, আমি উপকমিটিতে ছিলাম। তবে শিক্ষক সমিতির সভাপতি হিসেবে ড. এমতাজ এটি ছাপিয়ে ছিলেন। আর ডায়েরিতে কোনো ভুল হয়েছে কি না, তা আমি জানতাম না। ড. এমতাজ সাহেব ভালো বলতে পারবেন।
উল্লেখ্য, এর আগেও প্রতিষ্ঠিত বঙ্গবন্ধু চেয়ার নিয়ে আওয়ামীপন্থিদের দুর্নীতি ও অভ্যন্তরীণ দলাদলির অভিযোগ রয়েছে।
নেয়ামত উল্লাহ/রিফাত/