নওগাঁ জেলার তকিপুর গ্রামের রিহাব হোসেন ছোট থেকেই পরিবেশ ও সমাজকল্যাণের প্রতি আগ্রহী। বর্তমানে তিনি হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজে অধ্যয়নরত এবং কলেজজীবনের শুরু থেকেই ‘গ্রীন ভয়েস’ নামের পরিবেশবাদী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত। এবার তিনি তার স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিয়েছেন পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট থেকে শুরু করে কক্সবাজারের টেকনাফ পর্যন্ত দীর্ঘ পদযাত্রা করে গাছ রোপণ ও পরিবেশ সচেতনতা ছড়ানোর মাধ্যমে।
প্রথম দিন রিহাব বাংলাবান্ধা থেকে হাইওয়ে ধরে হাঁটতে শুরু করেন। প্রচণ্ড রোদ ও ক্লান্তির মধ্যে স্থানীয় মানুষদের সাহায্য নিয়ে পথ খুঁজে পান। গ্রামের রাস্তায় ছায়া ও একটি পুকুর দেখার সঙ্গে সঙ্গে আনন্দে আপ্লুত হন। ঠিক তখনই তার মাথায় আসে— প্রতিটি জেলায় গাছ লাগানো যেতে পারে। আগে থেকেই পরিবেশ ও সচেতনতার কাজে যুক্ত থাকার কারণে রিহাব এ ধরনের কাজে আত্মবিশ্বাসী ছিলেন। ‘গ্রীন ভয়েস’ সংগঠনের সহ-সমন্বয়ক শাকিলের সহযোগিতায় তিনি প্রতিদিন তিন থেকে পাঁচটি গাছ রোপণ করেন।
ভ্রমণের সময় প্রতিটি জেলায় তিনি স্থানীয়দের সঙ্গে পরিবেশ নিয়ে কথা বলেছেন। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, মসজিদ, মাদরাসা এবং হাইওয়ে রোডে গাছ রোপণ করেছেন। কম-বেশি সব জায়গায় মানুষ এসে তার সঙ্গে পরিবেশের বার্তা শেয়ার করেছেন। গাছ রোপণের সময় রিহাব স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনা করেছেন এবং সচেতনতামূলক বার্তা ছড়িয়েছেন।
তবে পদযাত্রা সহজ ছিল না। মানুষ মাঝে মাঝে তাকে দেখে হাসত, দুবার ছিনতাইও হয়েছে। রোদ, ব্যাগের ভার, অজানা জায়গায় রাত কাটানো— সবই বড় চ্যালেঞ্জ। প্রথম দিনের রাতে ভোজনপুরের একটি কলেজ মাঠে তাঁবু খাটানোর সময় ভয় পেয়েছিলেন। তার পরও থেমে যাননি।
স্থানীয় মানুষের সহায়তা ছিল আনন্দের এক বড় অংশ। ২৬ দিনের পদযাত্রার পর শাহপরীর দ্বীপ জিরো পয়েন্টে পৌঁছানো ছিল তার জন্য খুব আনন্দের। ছিনতাইয়ের ঘটনায় কিছু স্মৃতি হারালেও মনোবল অটুট থাকে।
স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া ছিল উৎসাহব্যঞ্জক। টেকনাফের বাসিন্দা সাইফুর রহমান বলেন, ‘রিহাব আমাদের এলাকায় গাছ লাগাচ্ছেন, এতে প্রকৃতি সুন্দর হচ্ছে। আমরা ওদের দেখে অনুপ্রাণিত হচ্ছি।’
একইভাবে মোহাম্মদ আলী যোগ করেন, ‘ছেলে-মেয়েরা দেখে শিখছে কীভাবে পরিবেশ রক্ষা করতে হয়। এ ধরনের উদাহরণ আমাদের সমাজের জন্য বড় শিক্ষা।’
রিহাবের লক্ষ্য শুধু গাছ রোপণ নয়, সাধারণ মানুষের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি করা। ‘প্রাকৃতিক জীবনকে হ্যাঁ বলুন, দূষণকে না বলুন’— এই প্রতিপাদ্য সামনে রেখে মানুষরা উৎসাহিত হয়েছে। নবীনদের গাছ দিয়ে বরণ, ক্যাম্পাসে সচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং বিভিন্ন অংশে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান—সবই তার উদ্যোগের অংশ।