টিউশনিতে যাওয়ার পথে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীকে লোহার রড দিয়ে পেটানোর অভিযোগ উঠেছে এক অটোচালকের বিরুদ্ধে।
শনিবার (১৬ মে) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে নগরীর ভদ্রা মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
এ সময় আশেপাশে থাকা লোকজন ওই রিকশাচালককে ধরে পুলিশে দিয়েছেন। এ ঘটনার পরই আহত শিক্ষার্থী নগরীরর বোয়ালিয়া থানায় মামলা করেছেন।
আহত শিক্ষার্থীর নাম শাকিল দেওয়ান। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য ব্যবস্থা বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র। মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে বর্তমানে তার কয়েকটি সেলাই লেগেছে বলে জানা গেছে।
মামলার এজাহার ও ভুক্তোভুগী সূত্রে জানা যায়, শনিবার (১৬ মে) রাত আনুমানিক ৮টা ১০ মিনিটে শাকিল তার হল থেকে সাইকেল চালিয়ে টিউশনির উদ্দেশ্যে রওনা হন। রাত ৮টা ৩০ মিনিটের দিকে তিনি ভদ্রা মোড়ের সামনে পৌঁছালে পেছন থেকে এক অটোচালক আকস্মিক ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন ‘এত আস্তে কেউ সাইকেল চালায়?’ শাকিল প্রথমে কোনো উত্তর না দিলেও উক্ত চালক তাকে উদ্দেশ্য করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন।
গালিগালাজের কারণ জানতে চাইলে চালক প্রথমে শাকিলকে ধাক্কা দিয়ে আহত করেন। পরে মুহূর্তের মধ্যে তার অটোরিকশা থেকে একটি লোহার রড বের করে ওই শিক্ষার্থীকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় সজোরে আঘাত করতে থাকেন। লোহার রডের আঘাতে শাকিলের মাথা ফেটে গুরুতর জখম হয়। এক পর্যায়ে আশেপাশে থাকা লোকজন তাকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (রামেক) নিয়ে যায়।
এজাহারভুক্ত আসামির নাম মো. আশিকুল ইসলাম। তিনি কাটাখালী থানার কাপাসিয়া এলাকার আজিজুল সরকারের ছেলে এবং বর্তমানে বোয়ালিয়া থানাধীন হেতেমখাঁ কলাবাগান এলাকায় বসবাস করেন। পেশায় তিনি একজন অটোরিকশা চালক।
ঘটনার বিষয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী শাকিল বলেন, ‘আমি সাইকেল নিয়ে টিউশনিতে যাচ্ছিলাম। ভদ্রা মোড়ে পৌছালে এক অটোচালক পেছন থেকে আমাকে উদ্দেশ্য করে বলে ‘এত আস্তে কেউ সাইকেল চালায়?’ একই সঙ্গে তিনি আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। আমি এই আচরণের প্রতিবাদ জানালে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে লোহার রড দিয়ে আমার মাথায় আঘাত করেন।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বলেন, ঘটনাটি জানার পরপরই শিক্ষার্থীর চিকিৎসা নিশ্চিত করতে আমরা দ্রুত অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করি। পাশাপাশি অভিযুক্ত অটোরিকশাচালক যেন পালিয়ে যেতে না পারে, সেজন্য বোয়ালিয়া থানার ওসির সঙ্গে কথা বলে দ্রুত পুলিশি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ওই রাস্তায় শিক্ষার্থীরা প্রায়ই হেনস্তা ও ছিনতাইয়ের শিকার হচ্ছে। তাই তাদের নিরাপদ চলাচল ও সার্বিক নিরাপত্তা জোরদারে আমরা আজই পুলিশ কমিশনারকে চিঠি দিচ্ছি এবং উপাচার্যের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
মামলার বিষয়ে নগরীর বোয়ালিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রবিউল ইসলাম বলেন, অভিযুক্ত রিকশাচালক বর্তমানে আটক আছে। তাকে আজকেই কোর্টে পাঠানো হতে পারে। এ বিষয়ে আমাদের তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই তাওহিদ কাজ করছেন।
শাকিবুল হাসান/অন্তরা