মানসিক স্বাস্থ্য নারীর সার্বিক সুস্থতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। দৈনন্দিন চাপ, পারিবারিক দায়িত্ব ও সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি নারীর মানসিক সুস্থতায় প্রভাব ফেলে। কিছু সচেতন পদক্ষেপ মানসিক প্রশান্তি ফেরাতে পারে। এ বিষয়ে লিখেছেন সাজেদা আক্তার
বর্তমান সময়ে নারীরা ঘরে-বাইরে নানা দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। এ দায়িত্ব পালনের মাঝে অনেকেই নিজের মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নিতে ভুলে যান। ফলে উদ্বেগ, ক্লান্তি, অবসাদ বা আত্মবিশ্বাসহীনতা দেখা দেয়। একজন নারী যতই দক্ষ হোন না কেন, মানসিকভাবে সুস্থ না থাকলে তার জীবনযাত্রায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে বাধ্য। তাই নারীর মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষা করা আজকের দিনে অত্যন্ত জরুরি।
নারীরা জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে ভিন্ন ভিন্ন মানসিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হন যেমন-
• কৈশোরে শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন
• মাতৃত্বকালীন চাপ
• পারিবারিক দায়িত্ব
• উচ্চশিক্ষার চাপ
• কর্মস্থলের চাপ ইত্যাদি।
এসব চাপ দীর্ঘ মেয়াদে ডিপ্রেশন, উদ্বেগ, আত্মবিশ্বাসের অভাব, এমনকি আত্মহননের প্রবণতাও তৈরি করতে পারে। তাই নারীর মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে কিছু কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
টিপস
নিজেকে সময় দিন: নিজের প্রতি যত্ন নেওয়া শিখতে হবে। প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট নিজের জন্য সময় বের করতে হবে। নিজেকে সময় দেবেন, বই পড়বেন, গান শুনবেন, ধ্যান করবেন কিংবা হাঁটতে বের হবেন। অর্থাৎ নিজের পছন্দ অনুযায়ী কাজ করবেন। এ সময়টা শুধু নিজের মানসিক প্রশান্তির জন্য হওয়া উচিত।
নিজের অনুভূতি শেয়ার করুন: খোলামেলা মনের সঙ্গে কথা বলা খুব জরুরি। পরিবার, বন্ধু কিংবা কাউন্সেলরের সঙ্গে নিজের অনুভূতির কথা ভাগ করে নেওয়া মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। বিশেষ করে অনেক সময় মনের মধ্যে নানা নেতিবাচক চিন্তা আসে। সেগুলো নিয়ে কথা বলা উচিত। সমাজে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে ট্যাবু দূর করতে আমাদের সবার সচেতনতা প্রয়োজন।
স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করুন: স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন যেমন সুষম খাদ্য, পর্যাপ্ত ঘুম, ও নিয়মিত ব্যায়াম মানসিক সুস্থতায় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে নিজেকে বিরত রাখা দরকার। কারণ এগুলো অনেক সময় আত্মমূল্যায়নে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
অনাকাঙ্ক্ষিত তুলনা থেকে দূরে থাকুন: মানসিক সুস্থতার অন্যতম একটি উপায় হলো অনাকাঙ্ক্ষিত তুলনা থেকে নিজেকে দূরে রাখা। অর্থাৎ অন্যদের বিলাসবহুল জীবনের সঙ্গে নিজের জীবনের তুলনা না করে; বরং নিজস্বতা নিয়ে বেঁচে থাকা। নিজের অর্জনকে সম্মান করুন ও ধীরে ধীরে আত্মবিশ্বাস গড়ে তুলুন।
‘না’ বলতে শিখুন: সবকিছু নিজে করার চাপ নেবেন না। প্রয়োজন হলে ‘না’ বলতে শিখুন। এটা আত্মরক্ষা এবং মানসিক ভারসাম্য রক্ষার একটি উপায়।
বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে, নারীর মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করা শুধু তার একান্তই নিজের নয়। বরং একটি পরিবার, সমাজ এবং জাতির সামগ্রিক কল্যাণের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ। কেননা মানসিক শান্তি মানেই হলো জীবনের ভারসাম্য। একজন নারী যখন মানসিকভাবে সুস্থ থাকেন, তখন তিনি তার সব ভূমিকাই (মা, কর্মী, স্ত্রী, কন্যা) সার্থকভাবে পালন করতে পারেন। এজন্যই, ‘নিজেকে ভালোবাসুন, নিজের যত্ন নিন’ এ বার্তাটি নারীর মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষার মূলমন্ত্র হতে পারে।
.jpg)