ঢাকা ৬ আষাঢ় ১৪৩১, বৃহস্পতিবার, ২০ জুন ২০২৪

যশোরে ‘সততা স্টোরে’ অর্থ দেওয়া পরিবার-সমাজ থেকে শিশুরা অসৎ হওয়ার শিক্ষা পায়’

প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৪, ০৯:৫১ এএম
আপডেট: ২৪ মে ২০২৪, ০৯:৫১ এএম
পরিবার-সমাজ থেকে শিশুরা অসৎ হওয়ার শিক্ষা পায়’

‘সব শিশু ভূমিষ্ঠ হওয়ার সময় সততা নিয়ে জন্ম নেয়। কিন্তু এরপর পরিবার ও সমাজ থেকে শিশুরা অসৎ হওয়ার শিক্ষা পায়। এ কারণে শিশুকে প্রথমে পরিবার থেকেই সততার শিক্ষা দিতে হবে। পাশাপাশি প্রাথমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সততার বিষয়ে বিশেষ উদ্যোগ নিতে হবে। আর সেই কাজ করে যাচ্ছে ‘সততা স্টোর’। প্রতিটি স্কুলে ‘সততা স্টোর’ সততা চর্চার একটি অন্যতম প্লাটফর্ম। এটি একটি প্রতীক। নতুন প্রজন্মকে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা এবং অল্প বয়স থেকেই দুর্নীতিবিরোধী নৈতিকতায় উদ্বুদ্ধ করার কাজ করে যাচ্ছে।’

বৃহস্পতিবার (২৩ মে) যশোর জিলা স্কুল অডিটোরিয়ামে ‘দুর্নীতির সময় শেষ গর্ব সোনার বাংলাদেশ’ স্লোগানকে সামনে রেখে দুর্নীতি দমন কমিশনের শিক্ষাবৃত্তি, শিক্ষা উপকরণ বিতরণ, প্রতিষ্ঠানে সততা স্টোরে অর্থ দেওয়া ও শিক্ষার্থী সমাবেশে বক্তারা এসব কথা বলেন।

এতে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক আবরাউল হাছান মজুমদার। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দুর্নীতি দমন কমিশন সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক আল-আমিন। প্রধান অতিথি এ উদ্যোগকে স্বাগত জানান। একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি প্রতিটি পরিবারে সততা স্টোর গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মাহফুজুল হোসেন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিপন বিশ্বাস, জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি মিজানুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক বিনয় কৃষ্ণ মল্লিক, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম, জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক সোয়েব হোসেন ও সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক নারায়ণ চন্দ্র দেবনাথ।
বক্তারা বলেন, ‘সততা স্টোর’ থেকে যেসব শিক্ষার্থী পণ্য কিনছে, তারা পণ্য কেনার পাশাপাশি তাদের দিতে হচ্ছে সততা এবং বিবেকের পরীক্ষা। যে কেউ চাইলে এখান থেকে মূল্য পরিশোধ না করে চুপিচুপি পণ্য নিয়ে চলে যেতে পারবে। কিন্তু তারা সেটা করছে না। অর্থাৎ সরকারের এ উদ্যোগ সার্থক হয়েছে।

দুর্নীতি দমন কমিশন সমন্বিত যশোর জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক আল-আমিন বলেন, যশোরের ১৭৫টি স্কুলে সততা স্টোরে টাকা দেওয়া হবে। বৃহস্পতিবার ৩৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঝে সততা স্টোরের টাকা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া দুদকের পক্ষ থেকে ১৪ জনকে উপবৃত্তি ও শিক্ষা উপকরণও এ অনুষ্ঠানে বিতরণ করা হয়।

তিনি আরও বলেন, ‘কৈশোরেই শিক্ষার্থীরা লোভ-লালসা ত্যাগ করে সততার সঙ্গে বেড়ে ওঠার ‘হাতে-কলমে’ নতুন পাঠ নেবে। সততা স্টোর হচ্ছে- স্কুল প্রাঙ্গণে স্থাপিত বিক্রেতাবিহীন দোকান। এসব দোকানে বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণের পাশাপাশি বিস্কুট, চিপস, চকলেট ইত্যাদি রাখা হয়। প্রতিটি সততা স্টোরে পণ্যের মূল্য তালিকা ও পণ্য মূল্য পরিশোধের জন্য ক্যাশ বাক্স রাখা হয়। কোনো বিক্রেতা থাকে না। শিক্ষার্থীরা তাদের প্রয়োজনীয় পণ্য কিনে তারাই ক্যাশ বাক্সে পণ্যের মূল্য দিয়ে রাখবে। এভাবেই শিক্ষার্থীরা হাতে-কলমে শিখবে সততার প্রথম পাঠ।’

তিনি বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশন, সমন্বিত জেলা কার্যালয়, যশোরের আওতায় ২০২২-২৩ অর্থবছরে যশোর ও নড়াইল জেলার ২৪টি বিদ্যালয়ে সততা স্টোর স্থাপনের জন্য স্কুলপ্রতি ১০ হাজার টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়। আর ২০২৩-২৪ অর্থবছরে যশোর ও নড়াইল জেলার ২৫০টি বিদ্যালয়ের অনুকূলে ২৫ লাখ টাকা বরাদ্দ হয়েছে। এর মধ্যে যশোর জেলার ১৭৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। আর সদর উপজেলায় ৩৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সাতটি উপজেলায় ২০টি করে ১৪০টি প্রতিষ্ঠানে এ অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

সিলেটের নদ-নদীর পানি কিছুটা কমেছে

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৪, ০৩:০০ পিএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৪, ০৩:০৪ পিএম
সিলেটের নদ-নদীর পানি কিছুটা কমেছে
ছবি: খবরের কাগজ

সিলেটে বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় এবং গত ২৪ ঘন্টায় ভারতের চেরাপুঞ্জিতে কোনো বৃষ্টিপাত না হওয়ায় সিলেটেরে নদনদীর পানি কিছুটা কমেছে। তবে এখনো সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর ছয় পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে এবং সিলেটের বন্যা পরিস্থিতি এখনো অপরিবর্তনীয় রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২০ জুন) সকাল থেকে সিলেটে বৃষ্টিপাত না হলেও আকাশ মেঘলা রয়েছে।

এদিকে সিলেটে দ্বিতীয় দফা বন্যায় মহানগর ও জেলাজুড়ে ৮ লাখ ২৫ হাজার ২৫৬ জন মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। এর মধ্যে সিলেট মহানগরীতে বন্যা আক্রান্ত হয়েছেন ৫০ হাজার মানুষ।

সিলেট আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, সিলেটে গত ২৪ ঘণ্টায় (বুধবার সকাল ৬টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত) বৃষ্টিপাত হয়েছে ১১০ মিলিমিটার। 

বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত সিলেটে বৃষ্টিপাত হয়েছে ১০ মিলিমিটার। সকাল ৯টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হয়েছে ১০ মিলিমিটার। 

সিলেট আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ শাহ মো. সজীব হোসাইন বলেন, ‘সিলেটে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ৭২ ঘন্টা অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কিছু কিছু এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা আছে। তাই সবাইকে সাবধান থাকতে হবে।’

ভারতের আবহাওয়া বিভাগের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় (বুধবার সকাল ৯টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত) ভারতের চেরাপুঞ্জিতে কোনো বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়নি। এর আগে গত মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে বুধবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ভারতের  চেরাপুঞ্জিতে ১১০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। যার ফলে সিলেটের সবকটি নদনদীর পানি দ্রুত গতিতে বৃদ্ধি পেতে শুরু করে।

এদিকে বুধবার (১৯ জুন) দুপুরে সিলেট জেলা প্রশাসন জানায়, সিলেট মহানগরীর ২৩টি ওয়ার্ডসহ জেলার ১২৯টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার ১ হাজার ৫৪৮টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে পড়েছে। ৮ লাখ ২৫ হাজার ২৫৬ জন বন্যা আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে সিলেট মহানগরীতে বন্যা আক্রান্ত হয়েছেন ৫০ হাজার মানুষ। জেলা ও মহানগর মিলিয়ে ৬৫৬টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এর মধ্যে সিলেট মহানগরীতে ৮০টি। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে ১৯ হাজার ৯৪৯ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।

অপরদিকে আশ্রয়কেন্দ্র ছাড়াও অনেক মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন পাড়া-প্রতিবেশীদের উঁচু বাসা-বাড়ি। অনেকেই সড়কের পাশে ট্রাক, পিকআপে আশ্রয় নিয়েছেন। কেউবা আবার আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে গিয়ে উঠেছেন। আশ্রয়কেন্দ্র ও অন্যান্য জায়গায় আশ্রয় নেওয়া মানুষজন খুবই দুর্বিসহ জীবনযাপন করছেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সিলেট কার্যালয়ের তথ্যমতে, বর্ষাকালে সুরমা নদীর কানাইঘাট এলাকার ডেঞ্জার লেভেল ১২ দশমিক ৭৫ সেন্টিমিটার। বুধবার এই পয়েন্টে নদীর পানি ছিল ১৩ দশমিক ৭১ সেন্টিমিটার। 

বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় এই পয়েন্টে পানি ছিল ১৩ দশমিক ৫৫ সেন্টিমিটার। এই পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার ৮০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবহিত হচ্ছে। 

সিলেট পয়েন্টে সুরমা নদীর ডেঞ্জার লেভেল ১০ দশমিক ৮০ সেন্টিমিটার। গতকাল এই পয়েন্টে নদীর পানি ছিল ১১ দশমিক ১৭ সেন্টিমিটার। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় এই পয়েন্টে পানি ছিল  ১১ দশমিক ০৫ সেন্টিমিটার। এই পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার ২৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

কুশিয়ারা নদীর পানি আমলশিদ পয়েন্টে পানির ডেঞ্জার লেভেল হচ্ছে  ১৫ দশমিক ৪০ সেন্টিমিটার। গতকাল এই পয়েন্টে নদীর পানি ছিল ১৬ দশমিক ০২ সেন্টিমিটার। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় এই পয়েন্টে পানি আছে ১৬ দশমিক ২৫ সেন্টিমিটার। এই পয়েন্টে কুশিয়ারা নদীর পানি বিপদসীমার ৮৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবহিত হচ্ছে। 

কুশিয়ারা নদী ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে পানির ডেঞ্জার লেভেল ৯ দশমিক ৪৫ সেন্টিমিটার। গতকাল এই পয়েন্টে নদীর পানি ছিল ১০ দশমিক ৪৫ সেন্টিমিটার। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় এই পয়েন্টে পানি আছে ১০ দশমিক ৪৭ সেন্টিমিটার। এই পয়েন্টে কুশিয়ারা নদীর পানি বিপদসীমার ১০২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবহিত হচ্ছে।

সারি নদীর সারিঘাট পয়েন্টে ডেঞ্জার লেভেল হল ১২ দশমিক ৩৫ সেন্টিমিটার। গতকাল এই পয়েন্টে নদীর পানি ছিল ১২ দশমিক ১৪ সেন্টিমিটার। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় এই পয়েন্টে পানি আছে ১১ দশমিক ৭১ সেন্টিমিটার। সারিগোয়াইন নদীর গোয়াইনঘাট পয়েন্টে ডেঞ্জার লেভেল হল ১০ দশমিক ৮২ সেন্টিমিটার। গতকাল এই পয়েন্টে নদীর পানি ছিল ১০ দশমিক ৮৪ সেন্টিমিটার।  বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় এই পয়েন্টে পানি আছে ১০ দশমিক ৫৮ সেন্টিমিটার।

পিয়াইন (ডাউকি) নদীর জাফলং পয়েন্টে ডেঞ্জার লেভেল হল ১৩ দশমিক ০০ সেন্টিমিটার। গতকাল এই পয়েন্টে নদীর পানি ছিল ১১ দশমিক ১১ সেন্টিমিটার। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় এই পয়েন্টে পানি আছে  ১০ দশমিক ৭৫ সেন্টিমিটার। ধলাই নদীর পানির কোনো বিপদসীমা নেই। গতকাল ধলাই নদীর ইসলামপুর পয়েন্টে নদীর পানি ছিল ১১ দশমিক ২১ সেন্টিমিটার। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় এই পয়েন্টে পানি আছে ১১ দশমিক ০১ সেন্টিমিটার।

শাকিলা ববি/সাদিয়া নাহার/অমিয়/

বঙ্গবন্ধু এক্সপ্রেসওয়েতে বিআরটির অভিযান

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৪, ০২:২০ পিএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৪, ০২:২০ পিএম
বঙ্গবন্ধু এক্সপ্রেসওয়েতে বিআরটির অভিযান
ছবি: খবরের কাগজ

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে বঙ্গবন্ধু এক্সপ্রেসওয়েতে চলাচলরত যানবাহনের অতিরিক্ত গতি প্রতিরোধে অভিযান পরিচালনা করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)।

বৃহস্পতিবার (২০ জুন) বেলা সাড়ে ১১টা থেকে হাইওয়ে পুলিশের সহযোগিতায় বিআরটিএর সদর কার্যালয়ের আদালত-১০ এর ম্যাজিস্ট্রেট মো. মোতাছেম বিল্লাহ এ অভিযান পরিচালনা করেন।

মহাসড়কে চলাচলরত বিভিন্ন যানবাহনে অভিযানে ৮০ থেকে ১১০ কিলোমিটার গতিতে যেসব যানবাহন চলাচল করছিল সেগুলোকে আটক করে জরিমানা করা হয়েছে। যাত্রীবাহী বাস ও মোটরসাইকেলচালকদের ১০ টি মামলা দিয়ে মোট ১৬ হাজার টাকা আর্থিক জরিমানা আদায় করা হয়।

অভিযানে উপস্থিত ছিলেন মুন্সীগঞ্জ বিআরটিএর মোটরযান শাখার পরিদর্শক লিটন কুমার দত্ত, বেঞ্চ সহকারী মো. মোস্তাফিজুর রহমান, হাসাড়া হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রাশেদুল ইসলাম, সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আমিনুল ইসলামসহ অন্যরা।

সাদিয়া নাহার/অমিয়/

পাথরে ঢাকা ছিল ২৭৫ বস্তা চোরাই চিনি, গ্রেপ্তার বাহক

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৪, ০২:০৩ পিএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৪, ০২:০৩ পিএম
পাথরে ঢাকা ছিল ২৭৫ বস্তা চোরাই চিনি, গ্রেপ্তার বাহক
পাথরচাপা দিয়ে এভাবেই ট্রাকে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল চোরাই চিনি। ইনসেটে গ্রেপ্তার চিনির বাহক রুবেল। ছবি: খবরের কাগজ

চোরাই চিনির ২৭৫টি বস্তা পাথর দিয়ে ঢাকা। দেখলে মনেই হবে না পাথরচাপা দিয়ে রাখা হয়েছে বস্তাগুলো। সিলেটের শাহপারান থানা পুলিশের একটি দল চলতিপথে একটি ট্রাকটিকে ধাওয়া করে অভিনব এ পদ্ধতির চোরাই চিনির পাচার ঠেকিয়েছে।

বুধবার (১৯ জুন) রাতে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বুধবার সন্ধ্যায় সিলেটের তামাবিল মহাসড়ক দিয়ে একটি ট্রাক দ্রুত যাচ্ছিল। শাহপরান থানা পুলিশের টহল দল ট্রাকটি থামানোর নির্দেশ দিলেও চালক ট্রাকটি থামায়নি। শেষে ধাওয়া করে ট্রাকটি আটক করা হয়। পরে ট্রাক তল্লাশি করে পাথরের নিচে চাপা দেওয়া অবস্থায় ২৭৫ বস্তা চিনি পাওয়া যায়। চিনিগুলো ভারতীয় এবং চোরাই পথে আনা।

এ সময় ট্রাকের সঙ্গে থাকা মো. রুবেল মিয়াকে (৩৫) আটক করা হয়। রুবেলের বাড়ি হবিগঞ্জের গভরাঙ্গাচর গ্রামে।

এ ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে রুবেলকে বৃহস্পতিবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
 
এর আগে গত ১৪ জুন শাহপরান থানা এলাকায় একই কায়দায় পাচারের সময় ২০০ বস্তা চোরাই চিনি জব্দ করা হয়েছিল। একইসঙ্গে ট্রাকের দুই শ্রমিককে গ্রেপ্তার করে হয়। জব্দ চিনির আনুমানিক বাজার মূল্য ১১ লাখ ৭৬ হাজার টাকা।

এই ঘটনার এক সপ্তাহের মধ্যে পাথরচাপা দিয়ে চিনি পাচারের দ্বিতীয় ঘটনা ঘটল।

বুধবারের ঘটনায় শাহপারান থানা সূত্র জানায়, ট্রাকের (ঢাকা মেট্রো-ট-১১-৮৮৫০) ভেতরে কাটা পাথরের তিন ইঞ্চি স্তর দিয়ে নিচে ত্রিপল দিয়ে মোড়ানো ভারতীয় ২৭৫ বস্তা চিনি জব্দ করা হয়। চিনির বস্তায় ইংরেজিতে লেখা MANUFACTURED AT ATHANI SUGAR LIMITED, Maharashtra, India। প্রতি বস্তায় ৪৯ কেজি করে মোট ১৩ হাজার ৪৭৫ কেজি চিনি রয়েছে। বাজারদর অনুযায়ী প্রতি কেজি চিনির মূল্য ১২০ টাকা করে মোট দাম ১৬ লাখ ১৭ হাজার  টাকা।

এসএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশানার (এডিসি, মিডিয়া) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম খবরের কাগজকে বলেন, চোরাই চিনির বিরুদ্ধে পুলিশি অভিযান চলমান থাকায় এ রকম নানা কৌশল অবলম্বন করছে পাচারকারীরা। এ ঘটনায় আটক মো. রুবেল মিয়াকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে তার বিরুদ্ধে শাহপরাণ (রহ.) থানায় মামলা করে বৃহস্পতিবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

সিলেট ব্যুরো/অমিয়/

তিস্তার পানি বেড়ে কাউনিয়ার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৪, ১২:৪৮ পিএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৪, ১২:৪৮ পিএম
তিস্তার পানি বেড়ে কাউনিয়ার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত
ছবি : খবরের কাগজ

তিস্তা নদীর পানি বেড়ে কাউনিয়ার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পানি বাড়ায় তিস্তার নদীর ভাঙন বেড়েছে। ভাঙন-আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে নদীপাড়ের মানুষ।

বুধবার (১৯ জুন) সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, উজানের ঢলে সকাল থেকে তিস্তায় পানি বাড়তে থাকে। এতে তিস্তা ব্যারেজের ভাটিতে অবস্থিত কাউনিয়া উপজেলার বেশ কয়েকটি চরাঞ্চল পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে পাহাড়ি ঢলের পানি আসায় ডালিয়া ব্যারেজের সবকটি কপাট খুলে দেওয়া হয়েছে। এ কারণে তিস্তার পানি বেড়েছে।

চর এলাকার মানুষের তথ্য মতে, পানি বেড়ে গদাই, ঢুষমারা, তালুক শাহবাজ,পূর্ব নিজপাড়ার অংশ, গোপীডাঙ্গা, আরাজি হরিশ্বর, চর প্রাননাথ, শনশনিয়া, চর হয়বত খাঁ, চর গনাই, আজমখাঁর চরের নিম্ন এলাকায় পানি উঠতে শুরু করেছে।

এ ছাড়াও আমন ধানের বীজতলা, উঠতি বাদামখেত পানিতে ডুবে গেছে। প্রায় অর্ধশতাধিক পুকুর ও মৎস্য খামারের মাছ ভেসে গেছে।

পানি বাড়তে থাকলে আরও নতুন নতুন এলাকায় বন্যা দেখা দিতে পারে।

কাউনিয়ার বালাপাড়া ইউনিয়নের ঢুষমারার চর এলাকার চাষী নজরুল ইসলাম খবরের কাগজকে জানান, বৃষ্টি আর উজানের পাহাড়ি ঢলে  তিস্তার পানি বেড়েছে। তাদের এলাকার ২০০ পরিবার অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। আমন ধানের বীজতলা, বাদামখেত ও বিভিন্ন সবজিখেত  পানিতে তলিয়ে গেছে।

বালাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আনছার আলী বলেন, তার এলাকায় পাঁচটি গ্রামের নিম্নাঞ্চলে পানি ওঠতে শুরু করেছে। নদী ভাঙনও বেড়েছে। 

কাউনিয়া উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আহসান হাবীব বলেন তিস্তার পানি বেড়ে চরাঞ্চলের গ্রামগুলোতে পানি ঢুকছে। বাড়িঘর পানিতে ডুবে যাওয়ার সংবাদ পাওয়া যায়নি। তবে উপজেলা প্রশাসন ও আমরা ত্রাণ বিভাগ বন্যা মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছি।

রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রবিউল ইসলাম বলেন, কাউনিয়ার তিস্তা রেল সেতু পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। তবে ভারী বৃষ্টিপাত ও উজানের পাহাড়ি ঢল না এলে তিস্তার পানি কমতে শুরু করবে। 

কাউনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মহিদুল হক বলেন, বন্যায় যাতে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে ব্যাপারে সরকারিভাবে সব ধরনের আগাম প্রস্তুতি নেওয়া আছে।

সাইফুর রহমান রানা/অমিয়/

নেত্রকোণার ৩ উপজেলায় বন্যা

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৪, ১২:৪৫ পিএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৪, ১২:৪৫ পিএম
নেত্রকোণার ৩ উপজেলায় বন্যা
ছবি: খবরের কাগজ

ভারতীয় পাহাড়ি ঢল আর একটানা ভারী বৃষ্টির কারণে নেত্রকোণার সীমান্তবর্তী উব্দাখালি নদী পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে কলমাকান্দা উপজেলার আটটি ইউনিয়নে অন্তত ৬৫টি গ্ৰাম প্লাবিত হয়েছে। প্লাবিত হয়েছে নেত্রকোনা সদর ও পার্শ্ববর্তী বারহাট্টা উপজেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলও। 

এতে করে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে শতাধিক মানুষ। গবাদিপশু নিয়ে অনেকেই বিপাকে পড়েছেন। কাঁচা সড়কে কাঁদা সৃষ্টি হয়ে চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাদের। পানি উঠতে শুরু করেছে বিভিন্ন বিদ্যালয়ের মাঠে। 

বাউসী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. সামছুল হক জানান, বারহাট্টা উপজেলার কংস নদের পানি বৃদ্ধি পেয়ে কয়েকটি গ্ৰামের নিম্নাঞ্চল ইতোমধ্যে প্লাবিত হয়েছে। বাউসী ও রায়পুর ইউনিয়নের কয়েকটি গ্ৰামে পানি উঠতে শুরু করেছে। পানি এভাবে বাড়তে থাকলে রূপগঞ্জ বাজারের তাতিয়ার আশ্রয়কেন্দ্রও তলিয়ে যাবে। তবে পার্শ্ববর্তী বাউসী অর্দ্ধচন্দ্র উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা যাবে।

কলমাকান্দার ইউএনও মো. আসাদুজ্জামান জানান, পাহাড়ি ঢল আর একটানা বৃষ্টির কারণে উপজেলার অন্তত ৭/৮টি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বরখাস্ত, হোগলা ও সদর ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে বেশি। তবে প্রস্তুত আছে আশ্রয়কেন্দ্রসহ প্রয়োজনীয় খাবারের ব্যবস্থা। ইতোমধ্যে আশ্রয়কেন্দ্রে ২০/২৫টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। তাদের খেয়াল রাখা হচ্ছে।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সারোয়ার জাহান জানান, উব্দাখালি নদীর পানি বিপৎসীমার ৫১ সেমি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অপরদিকে হাওর অঞ্চলে খলিয়াজুরীর ধনু নদীর পানিও বাড়ছে। বাড়ছে দুর্গাপুরে সোমেশ্বরী নদীর পানি।

জেলা প্রশাসক মো. শাহেদ পারভেজ জানান, জেলার সীমান্তবর্তী পাহাড়ি এলাকা, হাওর অঞ্চলে আশ্রয়কেন্দ্রে বন্যার্তদের জন্য সরকারি সহায়তা প্রদান করা হবে। নগদ অর্থ, শুকনো খাবার, ঔষধপত্র দেওয়া হবে। স্থানীয় প্রশাসন বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছেন। বন্যার্তদের সহযোগিতার জন্য সকলের সহানুভূতি ও তথ্য নিশ্চিতকরণে এগিয়ে আসা উচিত।

বিজয় চন্দ্র দাস/সাদিয়া নাহার/অমিয়/