ঢাকা ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪

সিলেটে রেকর্ড ছাড়াচ্ছে তাপমাত্রা, আজ ৩৭.৭ ডিগ্রি

প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৪, ০৮:০৮ পিএম
আপডেট: ২৪ মে ২০২৪, ০৮:০৮ পিএম
সিলেটে রেকর্ড ছাড়াচ্ছে তাপমাত্রা, আজ ৩৭.৭ ডিগ্রি
ছবি : খবরের কাগজ

সিলেটজুড়ে বইছে মৃদু তাপপ্রবাহ। প্রতিদিনই রেকর্ড ছাড়াচ্ছে সিলেটের তাপমাত্রা। শুক্রবার (২৪ মে) দুপুর ৩টায় সিলেটের তাপমাত্রা ছিলো ৩৭.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ। এই তাপমাত্রা সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চলমান ছিল।

সিলেট আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা শাহ মোহাম্মদ সজিব হোসেন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে গতকাল ছিল ৩৭.৫ ডিগ্রি তাপমাত্রা। মাত্র ২৪ ঘন্টার ব্যবধানে ভেঙে যায় তাপমাত্রার এই রেকর্ড। এরআগে গত সপ্তাহে ১৬ মে সিলেটে ছিলো সর্বোচ্চ ৩৭ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা। ওই তাপমাত্রাকে ধরে নেওয়া হয়েছিলো বছরের সর্বোচ্চ। কিন্তু শুক্রবার মাত্র আট দিনের মাথায় গত সপ্তাহের রেকর্ড ভাঙে।

সপ্তাহখানেক ধরে সিলেটের উপর দিয়েও মৃদু থেকে মাঝারি ধরণের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এই তাপপ্রবাহের কারণে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। গরমের তীব্রতায় ছোট-বড় সবার হাঁসফাঁস অবস্থা। বিশেষ করে বৃদ্ধ, শিশু ও শ্রমজীবী মানুষজন এই গরমে চরম কষ্টে আছেন। প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছেন না অনেকে। তবে জীবিকার তাগিদে প্রচণ্ড গরমের মধ্যে কেউ মাথায় ছাতা দিয়ে বের হচ্ছেন। তারপরও হিট স্ট্রোকসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষজন।

সিলেট আবহাওয়া অধিদপ্তরের ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আকাশ আংশিক মেঘলা থেকে অস্থায়ী মেঘলা থাকবে। অস্থায়ী দমকা/ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি/বজ্রবৃষ্টি হতে পারে সিলেটের এক বা দুই জায়গায়। সিলেটে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে। আর্দ্রতা বৃদ্ধির কারণে অস্বস্তি বাড়তে পারে। সিলেটের উপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে।

এ ব্যাপারে সিলেট আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা শাহ মোহাম্মদ সজিব হোসেন বলেন, সিলেটের উপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে। আজকের তাপমাত্রা গতকালের রেকর্ড ছাড়িয়েছে। আজ বিকাল ছয়টায় রেকর্ডকৃত তাপমাত্রা ৩৭.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা এই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এরআগে বিকাল তিনটায় তাপমাত্রা ছিল ৩৭.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

শাকিলা ববি/এমএ/

মোবাইল ব্যাংকিংয়ের টাকা আত্মসাৎ চক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৪, ০৮:১৪ পিএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৪, ০৮:১৫ পিএম
মোবাইল ব্যাংকিংয়ের টাকা আত্মসাৎ চক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার
ছবি : সংগৃহীত

ঠাকুরগাঁওয়ে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের টাকা আত্মসাৎকারী প্রতারক  চক্রের ৩ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের ব্যবহৃত সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। এই প্রতারক চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে অভিনব কায়দায় প্রতিবন্ধী ভাতা ভোগীদের অর্থ আত্মসাৎ করে আসছিল। 

বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) দুপুরে ঠাকুরগাঁও জেলা পুলিশের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ঠাকুরগাঁও জেলা পুলিশ উত্তম প্রসাদ পাঠক বিষয়টি জানান। 

তিনি জানান, এক চক্রটি ভাতা ভোগীদের তালিকা সংগ্রহ করে তাদের ফোন দিয়ে ওটিপি সংগ্রহ করত পরে ওই ভাতা ভোগীর মোবাইলে থাকা সকল টাকা হাতিয়ে নিতো। আমরা  অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নামি।  

গত ১১ জুন ঠাকুরগাঁও পুলিশের একটি চৌকস টিম গোবিন্দগঞ্জ থানা এলাকাসহ গাইবান্ধা জেলার বিভিন্ন স্থানে নিরবচ্ছিন্নভাবে অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় প্রতারক চক্রের ৩ সদস্য কে আটক করা হয়। তারা হলেন, মোন্নাপাড়া গ্রামের মিহির উদ্দিনের ছেলে মো. আজল হক (৫৭), চণ্ডিপুর গ্রামের মো. মোশারফ হোসেনের ছেলে কামরুল ইসলাম হিরু (২৫), বিশ্বনাথপুর গ্রামের মো. আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে মো. শাকিল (২৩)। আটকৃতরা গাইবান্ধা জেলার, গোবিন্দগঞ্জ থানার বাসিন্দা। 

গ্রেপ্তারকৃতদের নিকট থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন মোবাইল ফোন, সিম, বায়োমেট্রিক রেজিস্ট্রেশনের কিট, অর্থ লেনদেনের রেকর্ডপত্র ও সিপিইউ জব্দ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লিজা বেগম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ, সদর থানার অফিসার ইনচার্জ এ বি এম ফিরোজ ওয়াহিদ, ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবের সভাপতি মনসুর আলী প্রমুখ।

নবীন হাসান/এমএ/
 

 

স্মার্ট নাগরিক গড়ে তুলবে 'ভূমির পাঠশালা': রাজশাহীর ডিসি

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৪, ০৬:৩৪ পিএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৪, ০৬:৩৪ পিএম
স্মার্ট নাগরিক গড়ে তুলবে 'ভূমির পাঠশালা': রাজশাহীর ডিসি
ছবি : খবরের কাগজ

রাজশাহী জেলা প্রশাসক (ডিসি) শামীম আহমেদ বলেছেন, 'স্মার্ট বাংলাদেশ রোডম্যাপের চারটি পিলার- স্মার্ট সিটিজেন, স্মার্ট সোসাইটি, স্মার্ট ইকোনমি ও স্মার্ট গর্ভন্যান্স। এই চারটি পিলারের মধ্যে স্মার্ট নাগরিক এমন একটি পিলার যা মজবুত না হলে অন্য তিনটি পিলার হবে ভঙ্গুর, প্রকারান্তরে স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণ হবে দুরূহ ও অসম্ভব এক ব্যাপার। এজন্য স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে প্রথম এবং প্রধান শর্ত স্মার্ট নাগরিক তৈরি করা। কারণ স্মার্ট নাগরিকের মাধ্যমেই তৈরি হবে স্মার্ট সমাজ, স্মার্ট অর্থনীতি, যা একইসাথে নিশ্চিত করবে জবাবদিহিমূলক সরকার অর্থাৎ 'স্মার্ট গর্ভন্যান্স'। আর সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে ভূমি বিষয়ক জ্ঞান প্রদানের মাধ্যমে স্মার্ট নাগরিক গড়ে তুলবে 'ভূমির পাঠশালা'।

বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) ভূমিসেবা সপ্তাহ-২০২৪ উপলক্ষে জনসচেতনতামূলক সভা, বিতর্ক ও কুইজ প্রতিযোগিতা এবং স্মার্ট নাগরিক তৈরির প্রয়াসে নির্মিত 'ভূমির পাঠশালা' র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

পবা উপজেলা ভূমি অফিস চত্ত্বরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক শামীম আহমেদ বলেন, সৃষ্টির শুরু থেকেই ভূমি নিয়ে মানুষের ভোগান্তি। বাংলাদেশে অধিকাংশ পরিবারেই ভূমি সংক্রান্ত জটিলতা রয়েছে। অথচ এই ভূমি নিয়েই মানুষের জ্ঞানচর্চা সবচেয়ে কম। তাই 'ভূমির পাঠশালা' ভূমি সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। পাশাপাশি আগামী ২০৪১ সালের মধ্যে স্মার্ট ও উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যেও 'ভূমির পাঠশালা' গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।'

ভূমি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় পবা উপজেলা ভূমি অফিস আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবু সালেহ মোহাম্মদ হাসনাত। এসময় বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সরকার অসীম কুমার, সোনার দেশ পত্রিকার সম্পাদক আকবারুল হাসান মিল্লাত, প্রথম আলো পত্রিকার নিজস্ব প্রতিবেদক আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই স্বাগত বক্তব্যে 'ভূমির পাঠশালা'র লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) অভিজিত সরকার। তিনি জানান, 'ভূমির পাঠশালা' ভূমি সেবা সপ্তাহের একটি উদ্ভাবনী উদ্যোগ। যার মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য- জনগণকে ভূমি সংক্রান্ত সামগ্রিক জ্ঞান প্রদানের মাধ্যমে স্মার্ট নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সরকার অসীম কুমার জানান, পবার উদ্ভাবনী উদ্যোগ 'মাটির মায়ার'র হাত ধরে সমগ্র বাংলাদেশের ভূমি ব্যবস্থাপনায় আমূল পরিবর্তন সূচিত হয়ে ছিল। 'ভূমির পাঠশালা' সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে 'স্মার্ট বাংলাদেশ' বিনির্মাণে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে। এই উদ্ভাবনী উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে, আকাশচুম্বী প্রত্যাশার স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণ করা সম্ভবপর হবে বলেও জানান তিনি।

পরে 'ভূমির পাঠশালা'য় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ভূমি বিষয়ক কুইজ প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

এনায়েত করিম/এমএ/

চাঁদপুরে সংঘর্ষের ঘটনায় দুই মামলায় আসামি ৩৭৮, গ্রেপ্তার ৫

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৪, ০৬:০২ পিএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৪, ০৬:০২ পিএম
চাঁদপুরে সংঘর্ষের ঘটনায় দুই মামলায় আসামি ৩৭৮, গ্রেপ্তার ৫
ছবি : খবরের কাগজ

চাঁদপুর শহরের পুরাণ বাজারে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় আল-আমিন নামে অটোরিকশা চালক নিহত হয়। আহত হয় পুলিশসহ কমপক্ষে ২০ জন। নিহত ও আহতের ঘটনায় চাঁদপুর সদর মডেল থানায় পৃথক দুটি মামলায় আসামি করা হয়েছে ৩৭৮ জনকে। এ পর্যন্ত গ্রেপ্তার হয়েছে ৫ জন।

বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) দুপুরে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন চাঁদপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মো. মুহসীন আলম।

গ্রেপ্তার ৫ আসামিরা হলেন- শহরের পুরান বাজারের সঞ্জয় বর্মণ (১৯), জাকির হোসেন (২৮), বাবুল বেপারী (৪৪), ইয়াছিন মহব্বত (২৫) ও রিপন ইসলাম (২৮)।

থানা পুলিশ জানায়, অটোচালক আল-আমিন হত্যার ঘটনায় তার পিতা মজিদ খান ডেঙ্গু ১২ জুন থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় প্রধান আসামি নিতাইগঞ্জ রোডের বাসিন্দা সজিব মাঝি, দুই নম্বর আসামি তার পিতা পৌরসভার প্যানেল মেয়র মোহাম্মদ আলী মাঝি ও তিন নম্বর আসামি তার বড় ভাই রাকিব মাঝি। এই মামলায় ২৮ জন নামসহ এবং অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে ১৫০ জনকে।

এছাড়া একইদিন সরকারি কাজে বাধা ও সরকারি কর্মচারীর ওপর আক্রমণের ঘটনায় ২০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে থানায় অপর মামলাটি করেন উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবদুল কুদ্দুস সরকার।

চাঁদপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মো. মুহসীন আলম বলেন, ঘটনার পর থেকে পুলিশ জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রেখেছে। এ পর্যন্ত ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদেরকে আজ বৃহস্পতিবার আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তার করার জন্য চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। দুটি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হলেন পুরাণ বাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ রাজিব শর্মা।
 
গত ১১ জুন মঙ্গলবার দিনগত রাতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে শহরের পুরাণ বাজার পলাশের মোড় মেরকাটিজ রোড ও নিতাইগঞ্জ রোডের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এই ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে আল-আমিন খান (৩০) নামে অটোরিকশা চারক নিহত হয়। আহত হয় কমপেক্ষ ২০ জন। এই ঘটনায় পুলিশ ৪০ রাউন্ড রাবার বুলেট ও টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

শরীফুল ইসলাম/এমএ/ 
 

সিলেটে বাস-লেগুনা সংঘর্ষে নিহত ২

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৪, ০৫:৫৫ পিএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৪, ০৫:৫৫ পিএম
সিলেটে বাস-লেগুনা সংঘর্ষে নিহত ২

সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার লামাকাজী এলাকায় সুনামগঞ্জগামী শ্যামলী পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে যাত্রীবাহী লেগুনার মুখোমুখি দুইজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও একজন।

বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) সকাল ৭টার দিকে সিলেট-সুনামগঞ্জ মহাসড়কের লামাকাজী এলাকার সিরাজপুর সাহেবনগর পয়েন্ট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন, দক্ষিণ সুনামগঞ্জের পাইকাপন এলাকার কৌসর আলমের ছেলে শাহিন মিয়া (২৮) এবং বদরুল আলমের ছেলে শিব্বির আহমেদ (৪২)। তারা লেগুনার যাত্রী।

এ ঘটনায় আহত লেগুনাচালক নাইম (১৮) সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

পুলিশ জানায়, বাসের সঙ্গে সুনামগঞ্জ থেকে আসা লেগুনার মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই দুইজনের মৃত্যু হয়। আহত আরেকজনকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বিশ্বনাথ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আব্দুর রউফ বলেন, দুর্ঘটনার পর রাস্তায় যানজট সৃষ্টি হয়। পুলিশ গিয়ে তা স্বাভাবিক করে। লেগুনা ও বাসটি জব্দ করা হয়েছে। এ বিষয়ে জয়কলস হাইওয়ে পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছে।

শাকিলা ববি/অমিয়/

সিলেটে বৃষ্টিতে আবারও বাড়ছে নদ-নদীর পানি

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৪, ০৫:১৯ পিএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৪, ০৫:১৯ পিএম
সিলেটে বৃষ্টিতে আবারও বাড়ছে নদ-নদীর পানি
সিলেটে বাড়ছে নদ-নদীর পানি। ছবি: মামুন হোসেন

সিলেটে বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) ভোররাত থেকে শুরু হয় বজ্রসহ বৃষ্টিপাত। ভারী বৃষ্টির সঙ্গে প্রকট বজ্রের শব্দে ঘুম ভাঙে নগরীর বাসিন্দাদের। এতে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় তৈরি হয় জলাবদ্ধতার। পাশাপাশি ভারতের চেরাপুঞ্জি ও সিলেটে টানা বৃষ্টির কারণে বাড়তে শুরু করেছে নদ-নদীর পানি। 

বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত জেলায় ১০৫ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। কুশিয়ারা নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্ট ছাড়া অন্য নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে অবস্থান করছে। ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ৪৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এদিকে আজ থেকে আগামী টানা তিন দিন এ অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাতের আভাস দিয়েছে সিলেট আবহাওয়া অফিস। পাশাপাশি জেলাজুড়ে বজ্রসহ ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

সিলেট আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, সিলেটে গত ২৪ ঘণ্টায় (বুধবার সকাল ৬টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত) বৃষ্টিপাত হয়েছে ৪ দশমিক ৬ মিলিমিটার। আজ সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত ১০৫ মিলিমিটার এবং সকাল ৯টা থেকে ১২টা পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হয়েছে ৮১ মিলিমিটার। এর মধ্যেই বজ্রপাত নিয়ে সর্তক করেছে আবহাওয়া অফিস। 

সিলেট আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ শাহ মো. সজীব হোসাইন বলেন, ‘সিলেটে আজ সকাল থেকে যে বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে তা অব্যাহত থাকবে তিন দিন। সিলেটের আকাশে বর্তমানে বজ্রমেঘের অবস্থান আছে। এটা কেটে যেতে সময় লাগবে। তাই সবাইকে বজ্রপাত থেকে সাবধান থাকতে হবে।’

এদিকে, সিলেটের এই দুর্যোগ পরিস্থিতি বিবেচনা করে যেকোনো উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য কর্মকর্তাদের প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক শেখ রাসেল হাসান।

এক খুদে বার্তায় তিনি বলেন, ‘গতকাল বুধবার থেকে আজ দুপুর ১২টা পর্যন্ত চেরাপুঞ্জি ও সিলেট মিলিয়ে মোট বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ৫৩৫ মিমি। আরও বেশিও হতে পারে এবং আরও বৃষ্টি হওয়ার পূর্বাভাস পাওয়া যাচ্ছে।’ 

পানি উন্নয়ন বোর্ডের সিলেট কার্যালয়ের তথ্যমতে, বর্ষাকালে সুরমা নদীর কানাইঘাট এলাকার ডেঞ্জার লেভেল ১২.৭৫ সেন্টিমিটার। গতকাল এই পয়েন্টে নদীর পানি ছিল ১১.৬০ সেন্টিমিটার। আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় এই পয়েন্টে পানি ছিল ১২.৩৭ সেন্টিমিটার। সিলেট পয়েন্টে সুরমা নদীর ডেঞ্জার লেভেল ১০.৮০ সেন্টিমিটার। গতকাল এই পয়েন্টে নদীর পানি ছিল ৯.৫৮ সেন্টিমিটার। আজ দুপুর ১২টায় এই পয়েন্টে পানি ছিল ১০.১১ সেন্টিমিটার।

কুশিয়ারা নদীর আমলশিদ পয়েন্টে পানির ডেঞ্জার লেভেল ১৫.৪০ সেন্টিমিটার। গতকাল এই পয়েন্টে নদীর পানি ছিল ১৩.৫৭ সেন্টিমিটার। আজ দুপুর ১২টায় এই পয়েন্টে পানি ছিল ১৩.৪৪ সেন্টিমিটার। কুশিয়ারা নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে পানির ডেঞ্জার লেভেল ৯.৪৫ সেন্টিমিটার। গতকাল এই পয়েন্টে পানি ছিল ৯.৯১ সেন্টিমিটার। আজ দুপুর ১২টায় এই পয়েন্টে পানি ছিল ৯.৯৩ সেন্টিমিটার। সারি নদীর সারিঘাট পয়েন্টে ডেঞ্জার লেভেল ১২.৩৫ সেন্টিমিটার। গতকাল এই পয়েন্টে নদীর পানি ছিল ১০.২০ সেন্টিমিটার। আজ দুপুর ১২টায় এই পয়েন্টে পানি ছিল ১১.৫১ সেন্টিমিটার।

সারিগোয়াইন নদীর গোয়াইনঘাট পয়েন্টে ডেঞ্জার লেভেল হল ১০.৮২ সেন্টিমিটার। গতকাল এই পয়েন্টে নদীর পানি ছিল ৯.১৪ সেন্টিমিটার। আজ দুপুর ১২টায় এই পয়েন্টে পানি ছিল ৯.৫২ সেন্টিমিটার। ডাউকি নদীর জাফলং পয়েন্টে ডেঞ্জার লেভেল ১৩.০০ সেন্টিমিটার। গতকাল এই পয়েন্টে নদীর পানি ছিল ৯.২৯ সেন্টিমিটার। আজ দুপুর ১২টায় এই পয়েন্টে পানি ছিল ১০.১৭ সেন্টিমিটার।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাস খবরের কাগজকে বলেন, ‘এই বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টিপাত হলে বন্যার আশঙ্কা তো অবশ্যই থাকে। তা ছাড়া আমাদের নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পায় মূলত উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে। ভারতের চেরাপুঞ্জিতে বৃষ্টিপাত হচ্ছে। তাই উজানের ঢলে আমাদের নদ-নদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে। পাশাপাশি সিলেটেও ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। তার ওপর গত মাসের বন্যার কারণে ইতোমধ্যে সিলেটের নদ-নদীতে পানি বেশি আছে। এখন যেহেতু এখানেও বৃষ্টিপাত হচ্ছে, আবার ভারতে বৃষ্টিপাত হচ্ছে তাই নদ-নদীর পানি দ্রুতই বৃদ্ধি পাবে। এজন্য আমাদের বন্যা মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকতে হবে।’

শাকিলা ববি/সালমান/