সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে (বুধবার) থেকে শুরু হচ্ছে মাদারীপুরের কালকিনির ২২০ বছরের ঐতিহ্যবাহী কুণ্ডুবাড়ির মেলা। মেলা চলবে তিন দিন। তবে থাকবে না ইজারা প্রথা। কয়েক দিন ধরে মেলা নিয়ে দুই পক্ষের অবস্থানের কারণে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল এর আয়োজন। পরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আয়োজিত সভায় মেলা আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার থেকে পুলিশ ও প্রশাসনের নেতৃত্বে মেলার জায়গায় মুজাহিদ কমিটির (চরমোনাইপন্থি) স্থাপিত নেতিবাচক প্রচারণাসহ ব্যানার অপসারণ করা হয়। মেলায় আয়োজক ও জেলা পূজা উদযাপন কমিটির পক্ষ থেকে স্বেচ্ছাসেবক নিয়োজিত থাকবে। মুজাহিদ কমিটির পক্ষ থেকে জুয়া, অশ্লীল নৃত্য, চাঁদাবাজির অভিযোগ তোলা হয়েছে। মেলায় এসব বিষয় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতিবছর কালীপূজাকে ঘিরে মাদারীপুরের কালকিনির ভুরঘাটা এলাকার ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের পাশেই অনুষ্ঠিত হয় এই কুণ্ডুবাড়ির মেলা। মেলার বিভিন্ন ধরনের আসবাবপত্র এবং দৈনন্দিন ব্যবহার্য জিনিসপত্র বিক্রি হয়। আগে ইজারাদারদের চাহিদা অনুযায়ী ১ সপ্তাহ মেলার অনুমোদন দেওয়া হলেও মেলা এক মাস পর্যন্ত দীর্ঘায়িত হতো। মেলার অধিকাংশ স্টল থাকতো ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের দুই পাশজুড়ে। এতে মহাসড়কে যানজট সৃষ্টি হতো। তবে এ বছর কুণ্ডুবাড়ি পূজার আয়োজক স্বপন কুণ্ডুর লিখিত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ৩০ অক্টোবর থেকে ১ নভেম্বর পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী মেলার অনুমতি দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে কুণ্ডুবাড়ির কালীমন্দির কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি স্বপন কুণ্ডু বলেন, ‘আমার আবেদনের ভিত্তিতে তিন দিনের জন্য মেলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আমরা চাই, সবাই যাতে সুন্দরভাবে অনুষ্ঠান উদযাপন করতে পারে। এ জন্য সবার সহযোগিতা চাই।’
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরেই কালকিনি উপজেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতারা কুণ্ডুবাড়ির মেলায় ইজারার নামে লাখ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করে আসছিলেন। হাসিনা সরকার পতনের পর চলতি বছরেও কালকিনির সাবেক মেয়র এস এম হানিফের চাচাতো ভাই আকবর সরদারকে ইজারা দেওয়ার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়।
তবে একাংশ এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে। এরপরও আকবর সরদারকেই ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এতে ক্ষুব্ধ হন স্থানীয়রা। পরে চাঁদাবাজি, জুয়া, অশ্লীল নৃত্য ও মাদক সেবনসহ নানা অভিযোগ এনে মেলা বন্ধের আবেদন করা হয়। পরে ভুরঘাটা এলাকায় মেলা বন্ধ থাকবে মর্মে ব্যানার টানিয়ে দেওয়া হয়। এরপর সমালোচনা শুরু হলে জেলা প্রশাসক জরুরি সভা ডেকে মেলা শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন।
এ ব্যাপারে স্থানীয় আলেম ইমামুল ইসলাম বলেন, ‘মেলাকে ঘিরে নানা অসামাজিক কর্মকাণ্ডের কারণেই আপত্তি রয়েছে। এ জন্য উপজেলা প্রশাসনের কাছে লিখিতভাবে বিষয়টি জানানো হয়েছে। তবে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের পূজা করতে কোনো অসুবিধা নেই।’
জেলা প্রশাসক ইয়াসমিন আক্তার বলেন, ‘মেলায় কালকিনি পৌরসভার পক্ষ থেকে বিনামূল্যে বিদ্যুৎ, জেনারেটর ও সিসি ক্যামেরা দেওয়া হবে। এ খাতের নামে কোনো প্রকার চাঁদাবাজি করা যাবে না। মেলার আশপাশে কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রম যেন না ঘটতে পারে, সেই বিষয়ে নজরদারি বাড়ানো হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এ বছর কুণ্ডুবাড়ির মেলা চলবে ৩০ অক্টোবর থেকে ১ নভেম্বর পর্যন্ত। মেলায় আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে নিয়োজিত থাকবে পুলিশ ও আনসার সদস্যরা। এ ছাড়া ২৯ অক্টোবর থেকে ২ নভেম্বর এ পাঁচ দিন এখানে সেনাবাহিনীর একটি অস্থায়ী ক্যাম্প থাকবে।’