ইরানের ধারাবাহিক হামলা থেকে বাঁচতে এবং নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানের প্রায় ১০ থেকে ২০ বিলিয়ন ডলারের অবরুদ্ধ তহবিল ছেড়ে দিতে সম্মত হয়েছে। ইতোমধ্যে তিন বিলিয়ন ডলার হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির চূড়ান্ত আলোচনার মাঝেই নতুন এক নাটকীয় মোড় নিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই বিপুল অর্থ ছাড়ের বিনিময়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতে ড্রোন ও মিসাইল হামলা বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ইরান।
গত সপ্তাহে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) কর্মকর্তারা আবুধাবিতে গিয়ে আমিরাতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার সঙ্গে গোপন বৈঠক করার পরই এই প্রক্রিয়ায় গতি আসে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের তীব্র প্রতিবাদ
তবে রয়টার্সের এই রিপোর্ট প্রকাশের পর তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে তারা জানায়, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ইরানের তহবিল ছেড়ে দেওয়া বা তিন বিলিয়ন ডলার স্থানান্তরের যে দাবি করা হয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত তা স্পষ্টভাবে অস্বীকার করছে। আমিরাতের মাধ্যমে কোনো ইরানি তহবিল স্থানান্তর বা মুক্ত করা হয়নি।
তারা গণমাধ্যমগুলোকে এই ধরনের সংবেদনশীল বিষয়ে গুজব না ছড়িয়ে অফিসিয়াল সূত্র থেকে তথ্য যাচাই করার অনুরোধ জানায়।
কৌশলগত অবস্থান
বিশ্লেষকরা বলেন, একদিকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানান- শর্ত পূরণ না করা পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কোনো টাকা ছাড়বে না। অন্যদিকে ইরান যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ দাবি করছে।
যদি রয়টার্সের দাবি সত্যি হয়, তবে এটি হতে পারে দুই পক্ষের জন্য একটি ‘মাঝামাঝি প‘’- যেখানে যুক্তরাষ্ট্র বলতে পারবে, তারা কোনো টাকা দেয়নি, আর ইরান দাবি করতে পারবে তারা যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ আদায় করেছে। আর এর মাধ্যমে দুবাই ও আবুধাবি নিজেদের বাণিজ্যিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারছে। সূত্র: আল জাজিরা
তামান্না রুপা/অমিয়/