দিনাজপুরে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) প্রথমবারের মতো দিনব্যাপী স্মারক ডাকটিকিট প্রদর্শনী ও বিক্রয় মেলা হয়েছে। শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক-ছাত্র মিলনায়তন (টিএসসি) ভবনে এই প্রদর্শনী ও মেলা হয়।
আয়োজকরা জানান, ১৯৭১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ডাকটিকিট বিভিন্ন দিবসে সম্পাদন হয়ে থাকলেও তা একত্রিত করার যে প্রয়াস, তা এই ডাকটিকিট প্রদর্শনীতে উত্থাপন করা হয়। ডাকটিকিট বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলনের দাবি থেকে শুরু করে একাত্তরের স্বাধীনতার সংগ্রামেও যে প্রেরণা জুগিয়েছিলেন, তা এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে প্রদর্শিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ডাক বিভাগ এবং বরেন্দ্র ফিলাটেলিক সোসাইটি এই প্রদর্শনের আয়োজন করে।
জেলার প্রধান ডাক অফিসের ডেপুটি পোস্ট মাস্টার জেনারেল রশিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হাবিপ্রবি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ এনামউল্ল্যা, প্রোভিসি অধ্যাপক ডক্টর শফিকুল ইসলাম সিকদার, ডাক অধিদপ্তরের পরিচালক মামুনুর রশিদ, বরেন্দ্র ফিলাটেলিক সোসাইটির সাংগঠনিক সম্পাদক উদয় শংকর বিশ্বাস, রাজশাহীর অতিরিক্ত পোস্ট মাস্টার জেনারেল জিয়াউর রহমান প্রমুখ।
ডাকটিকিট দেখতে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন বয়সীর নারী-পুরুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। এতে প্রায় আট হাজার ডাকটিকিট, পোস্টকার্ড, বিশেষ খাম, উদ্বোধনী খাম প্রদর্শন করা হয়েছে।
আয়োজকদের একজন ডাক বিভাগের নকশাকারক সুমন্ত কুমার জানান, ২০২১ সালে কয়েকজন ডাকটিকিট সংগ্রাহক বৃহত্তর রাজশাহী অঞ্চলের বরেন্দ্র ফিলাটেলিক সোসাইটি প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে এই সংগঠনের সদস্য সংখ্যা অর্ধশতাধিক। তাদের প্রত্যেকের সংগ্রহে ১০ থেকে ৫০ হাজার বিভিন্ন দেশি-বিদেশি ডাকটিকিট রয়েছে। এরই মধ্যে দেশের পাঁচটি বিভাগীয় শহরে এই ধরনের ডাকটিকিট প্রদর্শন করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী মনোয়ার হোসেন বলেন, ‘ডাকটিকিট এ প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে এসে অনেক দেশের ডাকটিকিট সম্পর্কে জানতে পারলাম। একটি ডাকটিকিট এক একটি দেশকে প্রতিনিধিত্ব করছে। এটা আমাদের প্রজন্মের কাছে একেবারেই নতুন।’
প্রদর্শনীর বিষয়ে বরেন্দ্র ফিলাটেলিক সোসাইটির সাংগঠনিক সম্পাদক উদয় শংকর বিশ্বাস বলেন, ‘ডাকটিকিট সংগ্রহ করা একটি মজার শখ এবং নেশাও বটে। আপাতদৃষ্টিতে একটি ডাকটিকিট একটি কাগজের টুকরা হলেও এর গুরুত্ব অনেক বেশি। কারণ একটি দেশের মুদ্রা অন্য দেশে বহন করা আইনত বাধা থাকলেও ডাকটিকিটের বিষয়ে বাধা নেই। তাই একজন যেকোনো দেশের ডাকটিকিট বা এই কাগজের টুকরা বহন করতে পারে। এটি একটি জ্ঞানচর্চার প্রয়াসও বটে। তাই আমাদের সুমহান ঐতিহ্যকে আগামী প্রজন্মের কাছে জানতে ডাকটিকিট প্রদর্শনীয় একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।’