বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে মানহানির মামলায় কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) মুফতি আমির হামজা আত্মসমর্পণ করেছেন।
রবিবার (১৪ জুন) দুপুর আড়াইটার দিকে সিরাজগঞ্জ চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করেন তিনি।
সিরাজগঞ্জ চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের আইনজীবী ও আসামীর পক্ষের আইনজীবী আবু তালেব বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, 'মুফতি আমির হামজা হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন নিয়েছেন এবং আজ তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন।
এর আগে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে নাস্তিক ও ইসলামবিদ্বেষী বলে মন্তব্য করার অভিযোগে গত ২ এপ্রিল মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করা হয়। একই দিন আদালত সমন জারি করে ২১ এপ্রিল তাকে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন।
নির্ধারিত তারিখে আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয় এবং গত ১৭ মে সিরাজগঞ্জ অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সুমন কর্মকার তার বিরুদ্ধে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেন।
শিশির/থিও
সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে ‘কালো মানিক’ নামে একটি গরু উপহার দিয়ে আলোচনায় আসা পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জের সোহাগ মৃধাকে মারামারি ও পর্নোগ্রাফি মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
রবিবার (১৪ জুন) তাকে গ্রেপ্তারের পর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
গ্রেপ্তার সোহাগ মৃধা উপজেলার উত্তর ঝাটিবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোহাগ মৃধার বিরুদ্ধে একটি মারামারি এবং একটি পর্নোগ্রাফি আইনের মামলাসহ মোট দুটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে মারামারির মামলায় তিনি এক নম্বর আসামি এবং পর্নোগ্রাফি মামলায় সহযোগী আসামি। এসব মামলার ভিত্তিতেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সোহাগ মৃধা গ্রেপ্তার থাকায় এ বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুজ্জামান বলেন, মারামারি ও পর্নোগ্রাফি আইনের মামলায় সোহাগ মৃধাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
গত বছর বেগম খালেদা জিয়াকে ‘কালো মানিক’ নামের একটি গরু উপহার দিয়ে আলোচনায় আসেন সোহাগ মৃধা। পরে খালেদা জিয়া উপহারটি গ্রহণ করে সোহাগের পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতার কথা বিবেচনা করে গরুটি তাকে ফিরিয়ে দেন। পরবর্তীতে চলতি ঈদুল আজহা উপলক্ষে গরুটি বিক্রি করেন সোহাগ মৃধা।
হাসিবুর রহমান/খাদিজা রুমি/
‘সবাই মিলে গড়বো দেশ, দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ; এই শ্লোগানে ঝিনাইদহে অনুষ্ঠিত হয়েছে দুর্নীতি বিরোধী চিত্রাংকন ও রচনা প্রতিযোগিতা ।
রবিবার (১৪জুন ) সকালে শহরের কলাবাগান এলাকার ল্যাবরেটরি স্কুলে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করে জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি (দুপ্রক)।
‘বাংলাদেশে দুর্নীতির কারণগুলো ও তার প্রতিকারের উপায়’ এই বিষয়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় শহরের বিভিন্ন এলাকার ৮ টি বিদ্যালয়ের অর্ধশত শিক্ষার্থী। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার দেওয়া হয়।
দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির জেলা শাখার সভাপতি প্রফেসর রুহুল আমিনের সভাপতিত্বে সাধারণ সম্পাদক বাবলু কুন্ডুর পরিচালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সরকারি কেসি কলেজের বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. নওশের আলম, সহকারী অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম, দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক কওসার আহম্মেদ, সরকারি বালক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ফারজানা আফরোজ, দুপ্রক’র সদস্য ইসাহাক আলী, গাউস গোর্কি, তরিকুল আলম রনি প্রমুখ।
সে সময় বক্তারা, দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনে নতুন প্রজন্মকে নৈতিক মূল্যবোধ ও সততার শিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তুলতে আহ্বান জানান।
সেই সঙ্গে শিশু-কিশোরদের মধ্যে দুর্নীতিবিরোধী মনোভাব সৃষ্টি করা গেলে ভবিষ্যতে একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে বলে আশা ব্যক্ত করেন।
মাহফুজুর রহমান/তামান্না রুপা/
রাজধানীর মিরপুরের রূপনগরে মাদরাসার ছাদে সাইনবোর্ড লাগানোর সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে এক শিক্ষক ও দুই শিক্ষার্থী দগ্ধ হয়েছেন।
রবিবার (১৪ জুন) সকাল ১০টার দিকে রূপনগর দুয়ারীপাড়া আশরাফুল উলুম মাদরাসার তিনতলার ছাদে এই ঘটনা ঘটে। দগ্ধদের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।
দগ্ধরা হলেন, শিক্ষক সালমান ফারসি (২৪) দুই শিক্ষার্থী মারুফ হাসান (১৪) ও খাইরুল ইসলাম (১২)। মারুফ হেফজ বিভাগে ও খাইরুল কিতাব বিভাগে পড়াশোনা করে।
তাদেরকে হাসপাতালে নিয়ে আসা অপর শিক্ষক জাহিদুল ইসলাম জানান, শিক্ষক সালমান ও দুই শিক্ষার্থী মাদরাসার ছাদে একটি ব্যানার টাঙাতে যায়। এ সময় বাইরের তারের সঙ্গে ব্যানারের সংস্পর্শে লেগে তারা বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। এতে তাদের শরীরের বিভিন্ন জায়গা ঝলসে যায়। পরে তাদেরকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।
বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. শাওন বিন রহমান জানান, মারুফের শরীরের ১৮ শতাংশ, সালমানের ২ শতাংশ ও খাইরুলের ৩ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। তাদের মধ্যে মারুফকে ভর্তি দেয়া হয়েছে। বাকি দুজনকে অবজারভেশনে রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
আমান/
জামালপুরে ‘শিশুশ্রমকে লাল কার্ড দেখাই, শিশুর ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করি, প্রাপ্তবয়স্কদেরজন্য উপযুক্ত কর্মসংস্থান গড়ি’ প্রতিপাদ্য নিয়ে বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস পালিত হয়েছে।
রবিবার (১৪ জুন) দুপুরে শহরের দয়াময়ী মোড়ে দিবসটি উপলক্ষে মানববন্ধনের আয়োজন করে সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) ও ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
মানববন্ধনে সনাক সভাপতি শামীম খানের সভাপতিত্বে মানবাধিকারকর্মী জাহাঙ্গীর সেলিম, জেলা ব্র্যাক প্রতিনিধি শফিকুল ইসলাম, ওয়ার্ল্ড ভিশন জামালপুরের এরিয়া প্রোগ্রাম ম্যানেজার বিমল ডি কস্তা, উন্নয়ন সংঘের প্রোগ্রাম ম্যানেজার মিনারা পারভীন, সূর্য তোরণ সমাজ সেবা সংস্থার নির্বাহী পরিচালক খোরশেদ আলম, সনাক সদস্য মনোয়ারা খানম, রফিকুজ্জামান মল্লিক, শর্মী চৌধুরী, আসমাউল আসিফ, টিআইবির এরিয়া কোঅর্ডিনেটর মো. আরিফ হোসেনসহ অন্যান্যরা বক্তব্য রাখেন।
বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস ২০২৬ উপলক্ষে সংশ্লিষ্ট অংশীজনের বিবেচনার জন্য টিআইবি কর্তৃক একগুচ্ছ সুপারিশের প্রস্তাবনা সম্বলিত ধারণাপত্র পাঠ করেন ইয়েস সহদলনেতা রত্ন বারই।
এ সময় বক্তারা বলেন, শিশুশ্রম সস্তা হওয়ায় বিভিন্ন ঝুকিপূর্ণ কাজে শিশুদের নিয়োজিত করা হয়। বিশেষ করে কলকারখানা, ওয়ার্কশপ, রেস্টুরেন্ট, ঘর, গৃহস্থালির বর্জ্য পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ শিশুদের দিয়ে করানো হয়। শিশুশ্রম কেবল একটি আইনী লঙ্ঘন নয়,এটি শিশুর ভবিষ্যৎ ও মানবিক মর্যাদার উপর সরাসরি আঘাত। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা খাতে শিশুশ্রমের অবসান ঘটাতে সরকার, স্থানীয় প্রশাসন, সুশীল সমাজ এবং সাধারণ নাগরিকদের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
বাংলাদেশে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কাজগুলো বহুলাংশে অপ্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার উপর নির্ভরশীল। ফলে দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের এই খাতে ব্যবহার করা অব্যাহত রয়েছে। এই খাতে শিশুরা সাধারণত কোনো প্রতিরক্ষামূলক সরঞ্জাম ছাড়াই কাজ করার ফলে রোগ-ব্যাধিসহ নানারকমের ঝুঁকির সম্মুখীন হয়।
শিশুশ্রম ক্রমাগতভাবে বেড়ে চলেছে। গৃহস্থালি ও হোটেলের বর্জ্য সংগ্রহ, ডাম্পসাইট ও রাস্তাঘাট থেকে বর্জ্য সংগ্রহ, অপ্রাতিষ্ঠানিক কারখানা ও বিভিন্ন ওয়ার্কশপের বর্জ্য ইত্যাদি শিশুদের অনিরাপদ হাতেই করানো হচ্ছে। মানববন্ধনে শিশুশ্রমকে লাল কার্ড প্রদর্শন করে শিশুশ্রম বন্ধে সরকার ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান বক্তারা।
আসমাউল আসিফ/খাদিজা রুমি/