মাদারীপুরের রাজৈরে হাসান শেখ (৩৫) নামে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৬০ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজৈর উপজেলার শঙ্করদী পাট্টাবুকা গ্রামে টেকেরহাট-শাখারপাড় সড়কে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী হাসান একই উপজেলার বদরপাশা ইউনিয়নের উমারখালী গ্রামের মৃত শাজাহান শেখের ছেলে। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে রাজৈর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী হাসানের ব্যবসায়িক পার্টনার শের আলী।
ভুক্তভোগী বলেছেন, 'শঙ্করদী গ্রামের মৃত মজিবর শেখ ওরফে গলাকাটা মজিবরের ছেলে সোহেল শেখ তার দলবল নিয়ে এ ছিনতাইকাণ্ড ঘটিয়েছে।'
পরিবার, ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা জানায়, বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে ঢাকা থেকে ৬০ লাখ টাকা নিয়ে উমারখালীর বাড়িতে আসে হাসান। বৃহস্পতিবার টাকাগুলো একটি বাজারের ব্যাগে করে মোটরসাইকেলযোগে ব্যাংকে জমা দেওয়ার জন্য টেকেরহাট নিয়ে যাচ্ছিল। এ সময় তারা তিনজন ছিলেন। পথে তাদের মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে শঙ্করদী গ্রামের সোহেলসহ তার দলের সদস্যরা। তখন হাসানের কাছে থাকা ৬০ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয়। পরে তাদের ডাক-চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে ছিনতাইকারীরা পালিয়ে যায়।
চাচাতো ভাই শাহা আলী ও চাচা নূর মোহাম্মদ শেখ বলেন, 'সকালে ওরে (হাসান) একজন ফোন দিয়ে বলছে টাকা নিয়ে তাড়াতাড়ি আসেন। পরে গুজগাজ কইরা আরও দুইজন সঙ্গে নিয়া টেকেরহাটের দিকে রওনা করে। টাকাগুলো গোনার সময় আমি (নূর মোহাম্মদ শেখ) উপস্থিত ছিলাম। হয়তো নতুন গাড়ি কিনবে সেই টাকায়। গতকাল (বুধবার) রাতে ঢাকা থেকে টাকা আনছিল। ছোট দুই ভাই ইতালি থেকে টাকা পাঠায়, আবার ব্যবসার টাকাও ছিল।'
হাসান শেখের বোন ঊর্মি আক্তার বলেন, 'আমার ভাই (হাসান) গাড়ির ব্যবসার টাকা লেনদেন করে। এ ছাড়া বাজে কোনো কিছু করে না।'
বদরপাশা ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার নাজির বয়াতি জানান, লিবিয়া লোক পাঠায় হাসান। লিবিয়ায় ৬ জন লোক ধরা পড়ছে, জনপ্রতি সাড়ে ১০ লাখ করে টাকা দেওয়া লাগবে। কিন্তু ১০ লাখ করে নিয়ে গেছিল। ৬ জনের মোট ৬০ লাখ টাকা ব্যাংকে জমা দেওয়ার জন্য যাইতেছিল। এ সময় গলাকাটা মজিবরের ছেলে সোহেল তার দলবল নিয়ে রাস্তার ওপর চলা (টুকরা গাছ) ফেলে ছিনতাই করে পালিয়ে যায়। সোহেলের সঙ্গে পাট্টাবুকা গ্রামের হাকিম মুন্সী ও মিজান কাজী ছিল বলে জানা গেছে।'
ভুক্তভোগী হাসান শেখ (লিবিয়ার দালাল) বলেন, 'দুই ভাই ইতালি থেকে ঢাকায় আমার ভাগনার অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠাইছে। সেই টাকা আর ভাগনার কাছ থেকে কিছু ধার আনছিলাম। গতকাল (বুধবার) রাতে ঢাকা থেকে ৬০ লাখ নিয়ে বাড়ি এনে রাখছিলাম। আজ টাকাগুলো নিয়ে মাহিন্দ্র গাড়ি (ট্রাক্টর) কেনার জন্য যশোর যাওয়ার উদ্দেশে বের হয়েছিলাম। এ সময় আমার ব্যবসায়ী পার্টনার শের আলীসহ ইমন নামে আরেকজন ছিল। শঙ্করদী গ্রামের গলাকাটা মজিবরের ছেলে সোহেল ও তার লোকজন রাস্তা থেকে সব টাকা ছিনতাই করে নিয়ে গেছে।'
রাজৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাসুদ খান বলেন, 'এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত হবে, তার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এখন কিছু বলা যাচ্ছে না।'
রফিকুল ইসলাম/জোবাইদা/