মেঘনা নদীতে নিখোঁজ শিশু তামিমকে উদ্ধারে নদীতে টহল দিচ্ছেন কোস্ট গার্ডের সদস্যরা। ছবি: খবরের কাগজ
নোয়াখালীর হাতিয়ায় বাবাকে দুপুরের খাবার দিতে গিয়ে মেঘনা নদীতে তলিয়ে গেছে তামিম নামে এক শিশু।
খবর পেয়ে প্রথমে ফায়ার সার্ভিস ও পরে কোস্টগার্ডের দুটি টিম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলেও ডুবুরি দল না থাকায় উদ্ধার অভিযান শুরু করতে পারেনি।
মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুরে উপজেলার সোনাদিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম চরচেঙ্গা গ্রামের পাশে মেঘনা নদীতে এই ঘটনা ঘটে।
নিখোঁজ তামিম ওই গ্রামের জেলে শাহাদাত হোসেনের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো মঙ্গলবারও মেঘনা নদীতে মাছ ধরতে যান শাহাদাত হোসেন। দুপুরের দিকে বাবার জন্য খাবার নিয়ে নদীর তীরে যায় ছোট্ট তামিম। খাবার খাওয়ার পর শাহাদাত হোসেন নদীর পাড়ে উঠে চা পান করছিলেন। এ সময় শিশুটি তার সমবয়সী এক চাচাতো ভাইয়ের সঙ্গে নদীর তীরে খেলাধুলা করছিল।
একপর্যায়ে অসাবধানতাবশত সে নদীতে পড়ে যায়। সঙ্গে থাকা চাচাতো ভাই ঘটনাটি দেখে দ্রুত দৌড়ে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের জানায়। পরে স্বজনরা ঘটনাস্থলে ছুটে এসে স্থানীয়দের সহযোগিতায় দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজি করেও শিশুটির কোনো সন্ধান পায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল মন্নান রানা খবরের কাগজকে বলেন, একটা শিশু নদীতে নিখোঁজ হওয়ার দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও তাকে উদ্ধারে কার্যকর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি। ফায়ার সার্ভিস এসে জানায়, তাদের ডুবুরি দল নেই। পরে কোস্টগার্ডও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানায়, সকালে ডুবুরি দল এলে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হবে।
একমাত্র সন্তানকে হারানোর শঙ্কায় পাগলপ্রায় হয়ে উঠেছেন মা-বাবা। তাদের আহাজারি ও কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। প্রতিবেশীরা পরিবারটিকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করলেও স্বজনদের চোখেমুখে এখন শুধুই উৎকণ্ঠা আর অপেক্ষা।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল ইকবাল খবরের কাগজকে বলেন, হাতিয়ায় ফায়ার সার্ভিস ও কোস্টগার্ডের কোনো ডুবুরি নেই। এ কারণে তাৎক্ষণিকভাবে পানির নিচে উদ্ধার অভিযান চালানো সম্ভব হয়নি। কোস্টগার্ড ঘটনাস্থলে নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে। বুধবার সকালে ভোলা থেকে ডুবুরি এনে পূর্ণাঙ্গ উদ্ধার অভিযান শুরু করবে কোস্টগার্ড।
হানিফ উদ্দিন/আজহার/