ঢাকা ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, রোববার, ১৪ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
রাজধানীতে মাদরাসার সাইনবোর্ড লাগানোর সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ৩ শিক্ষার্থী দগ্ধ ইংল্যান্ড দলের চুরি যাওয়া সরঞ্জাম উদ্ধার সিন্ডিকেট ভাঙতে প্রাথমিক শিক্ষক বদলিতে বড় সংস্কার, দায়িত্বে ডিসি-ইউএনও জাপানিজ সমর্থকরা কেন স্টেডিয়াম পরিষ্কার করেন? ইন্টারনেট সেবাদাতাদের কার্যালয়ে হামলা-দখলের নিন্দা, শাস্তির দাবি আইএসপিএবির এনএসইউ ট্রাস্টি বেনজীর আহমেদ ফের সাউথ এশিয়া রিজিওনাল কাউন্সিলের কোষাধ্যক্ষ সিলেটে হাম উপসর্গে আরও ১ শিশুর মৃত্যু খুলনায় মসজিদে ঢুকে ২ মুসল্লিকে গুলি কু‌ড়িগ্রামে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ব্যবসায়ীর মৃত্যু ঈশ্বরদীতে ব্রাজিল-মরক্কো খেলা দিয়ে বিশ্বকাপ ফুটবল উত্তেজনা শুরু ময়মনসিংহ মেডিকেলে হাম উপসর্গে প্রাণ গেল আরও ১ শিশুর ইনজুরি নিয়ে শঙ্কিত নয় মরক্কো বেনাপোল বন্দরে ন্যায্য মজুরির দাবিতে শ্রমিকদের কর্মবিরতি স্থগিত এনড্রিককে নিয়ে প্রশ্ন এড়িয়ে গেলেন আনচেলত্তি আরাগচির বিরুদ্ধে তেহরানে বিক্ষোভ ব্যাপন, অভিস্রবণ ও প্রস্বেদন অধ্যায়ের ৯টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ১ম পর্ব, অষ্টম শ্রেণির বিজ্ঞান হাতিয়ায় কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে ওসি প্রত্যাহার মতলবে ৬৪ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ, নিরাপত্তাহীনতায় লাখো মানুষ জয় দিয়ে শুরু অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ অভিযান কেনেডি সেন্টার থেকে অপসারণ করা হলো ট্রাম্পের নাম ক্রিকেটার নাঈমকে হেনস্থায় প্রত্যাহার খুলশী থানার ওসি আরিফুল যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তিচুক্তি: সময় নিয়ে দ্বিমত তেহরানের ২৫ মে থেকে বছরব্যাপী ‘নজরুল বর্ষ’ পালনের ঘোষণা কুড়িগ্রাম সীমান্তে ৯ জনকে পুশইনের চেষ্টা মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে সোহেল-স্বপ্নার আপিল আজ ইন্টারন্যাশনাল বাথ ডে রবিবার বন্ধ থাকবে রাজধানীর যেসব মার্কেট ও দোকানপাট সিঙ্গাপুর, কানাডা নয়, বেটার বাংলাদেশ গড়তে চাই: প্রধানমন্ত্রী টস জিতে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ চট্টগ্রামে পারিবারিক বিরোধের জেরে মা-মেয়েকে হত্যা
Nagad desktop

ইসরায়েলি কারাগারে বন্দিদের ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতন

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ০৮:৩৯ এএম
আপডেট: ১০ জুন ২০২৬, ০৮:৪২ এএম
ইসরায়েলি কারাগারে বন্দিদের ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতন
ছবি: সংগৃহীত

মুহাম্মদ আল-বাকরি তার ধর্ষণের তারিখটি স্পষ্টভাবে মনে রেখেছেন। ২০২৪ সালের ১০ এপ্রিল। পবিত্র রমজান মাস শেষে ঈদুল ফিতরের ছুটি চলছিল। গাজার সরকারি এই কর্মচারীকে এর এক মাস আগে গ্রেপ্তার করে ইসরায়েলি সেনারা। তাকে মারধর, নির্যাতন, বেঁধে রাখা এবং অপমানজনক অবস্থায় থাকতে বাধ্য করা হয়েছিল।

সেদিন তার চারপাশে ঘিরে ছিল ইসরায়েলি সেনারা এবং তাদের প্রশিক্ষিত কুকুর। তিনি বলেন, ‘ডান পাশে ছয়জন সৈন্য, বাম পাশে ছয়জন সৈন্য ছিল। তারা নাম জিজ্ঞেস করত। যদি বলতাম ‘মুহাম্মদ’, তারা বলত, ‘না, বল তোমার নাম হারামজাদা।’

আল-বাকরি জানান, তার সঙ্গে আরও সাতজন বন্দি ছিলেন। সবাইকে সম্পূর্ণ উলঙ্গ করে চোখ বেঁধে হাতকড়া পরানো হয়েছিল। তিনি বলেন, “আমাদের পোশাক খুলে নেওয়ার পর ধর্ষণ করা হয়। আমরা চিৎকার করে বলছিলাম, ‘হে আল্লাহ, হে সৃষ্টিকর্তা’, কিন্তু তারা শুধু হাসছিল এবং ভিডিও ধারণ করছিল।”

আল-বাকরি আরও বলেন, কারারক্ষীরা যৌন নির্যাতনের সময় কুকুরও ব্যবহার করত। তিনি বলেন, ‘কুকুরগুলো কর্মকর্তাদের নির্দেশ মেনে আমাদের ওপর হামলা করে। কোনো দয়া ছিল না। প্রায় ২০ থেকে ৩০ মিনিট আমরা এই যৌন নির্যাতন ও মারধরের শিকার হয়েছিলাম। পরে তারা আমাদের কাপড় পরতে বলে আবার কারাগারে নিয়ে যায়।’

আল-বাকরি সেই সব বন্দির মধ্যে একজন, যারা ‘বডিজ অব এভিডেন্স: ইসরায়েলস ডার্কেস্ট ওয়েপন’ অনুষ্ঠানের জন্য আল-জাজিরাকে বিস্তারিত সাক্ষ্য দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিচারকরা, জাতিসংঘ এবং অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডবিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক ফ্রানচেস্কা আলবানেজে বলেন, ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি বাহিনীর ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের ব্যবহার ব্যাপক এবং সুসংগঠিত পর্যায়ে পৌঁছেছে।

ফিলিস্তিনি মানবাধিকার সংগঠন প্যালেসটাইনিয়ান সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস (পিসিএইচআপর) এবং ইউরো-মেড মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ সংস্থাও এমন বহু সাক্ষ্য নথিভুক্ত করেছে, যেখানে বন্দিরা ইসরায়েলি সেনাদের কুকুর দিয়ে যৌন নির্যাতনের কথা জানিয়েছেন।

ইসরায়েলি কারাগারে ফিলিস্তিনিদের যৌন নির্যাতনের অভিযোগ নতুন নয়; এর ইতিহাস কয়েক দশকের পুরোনো। আল-জাজিরার অনুসন্ধান এবং জাতিসংঘসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাসের হামলার পর গাজায় পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরু হয়। এরপর থেকে ধর্ষণকে উল্লেখযোগ্যভাবে যুদ্ধের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে আসছে ইসরায়েল। 

২০২৫ সালের মার্চে প্রকাশিত জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর থেকে ইসরায়েল পদ্ধতিগতভাবে যৌন, প্রজননসংক্রান্ত এবং অন্যান্য লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা ব করেছে।

মে মাসে ইসরায়েলকে জাতিসংঘের ‘সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে যৌন সহিংসতার কালো তালিকা’য় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ সংস্থা, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন, ইসরায়েলি মানবাধিকার সংগঠন বিৎসেলেম এবং ফিলিস্তিনি মানবাধিকার কেন্দ্র—সবাই ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে যৌন সহিংসতার বিস্তৃত সংস্কৃতির কথা উল্লেখ করেছে। বিশেষ করে ফিলিস্তিনি বন্দিদের তত্ত্বাবধানে নিয়োজিত সদস্যদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ বেশি।

এদের অনেককে ইসরায়েলের প্রশাসনিক আটকব্যবস্থার আওতায় কোনো অভিযোগ ছাড়াই আটক রাখা হয়েছিল। এখন পর্যন্ত কোনো ইসরায়েলি সৈন্য বা কারারক্ষীকে ফিলিস্তিনিদের যৌন নির্যাতনের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়নি। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে নেগেভ মরুভূমির স্দে তেইমান আটক শিবিরে এক বন্দিকে ধর্ষণের ভিডিও ফাঁস হওয়ার পর ইসরায়েল ১০ জন নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে আটক করেছিল। কিন্তু ডানপন্থি বিক্ষোভকারীরা, যাদের মধ্যে সংসদ সদস্যও ছিলেন, অভিযুক্তদের মুক্ত করার জন্য আটক কেন্দ্রটিতে হামলা চালানোর চেষ্টা করে।

গত জুলাইয়ে ইসরায়েল ওই রক্ষীদের বিরুদ্ধে সব অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেয়। ভিডিওটি ফাঁস করার অভিযোগে নারী কর্মকর্তা মেজর জেনারেল ইফাত তোমের-ইয়েরুশালমিকেও পরে গ্রেপ্তার করা হয়।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সৈন্যদের ধর্ষণের ভিডিও প্রকাশ করাকে দেশের প্রতিষ্ঠার পর থেকে ‘সবচেয়ে গুরুতর জনসংযোগ আক্রমণ’ বলে অভিহিত করেন।

জাতিসংঘের রিপোর্টার ফ্রানচেস্কা আলবানেজ বলেন, ফিলিস্তিনি বন্দিদের যৌন নির্যাতনের উদ্দেশ্য শুধু শারীরিক কষ্ট দেওয়া নয়, বরং তাদের ব্যক্তিসত্তা ও আত্মমর্যাদাবোধকে ধ্বংস করা।

তিনি বলেন, ‘নির্যাতনের মধ্যে, বিশেষ করে ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতন মানুষের মানসিক জগৎকে ধ্বংস করে দেয়। এতে একজন মানুষের নিজের জীবন পুনর্গঠন করা এবং স্বাভাবিক ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক উপভোগ করার সক্ষমতাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।’

গণহত্যা ও ধর্ষণের মধ্য দিয়ে বেঁচে থাকা
মজুর হিসেবে কাজ করা আইয়ুব (ছদ্মনাম) আল-জাজিরা বলেন, কখনো ভাবেননি যে তার জীবন অন্যদের কাছে বিশেষ কিছু। আল-বাকরির মতো তিনিও ছিলেন গাজার এক সাধারণ মধ্যবয়সী পারিবারিক মানুষ। নিজের চেয়ে সন্তানদের ভবিষ্যৎকে বেশি গুরুত্ব দিতেন। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধের পর পরিবারের নিরাপত্তাই ছিল তার প্রধান চিন্তা।

কিন্তু গ্রেপ্তার হওয়ার পর তাদের জীবন বদলে যায়। আল-বাকরির মতো আইয়ুবও স্পষ্টভাবে নিজের ধর্ষণের স্মৃতি মনে করে বলেন, ‘নারী সৈন্যরা আমার কক্ষে প্রবেশ করে আমার দুই হাত পেছনে নিয়ে লোহার হাতকড়া পরাল। তারপর পায়ের হাতকড়া খুলে অন্য হাতকড়া পরাল। এরপর আমার সব কাপড় খুলে নেয়। সৈন্যরা তার ঘাড় ও পিঠের ওপর বুট চেপে ধরে রেখেছিল। এরপর নারী সৈন্যরা বিভিন্ন কৃত্রিম বস্তু ব্যবহার করে তাকে ধর্ষণ করে। চারপাশে থাকা সৈন্যরা হাততালি দিচ্ছিল এবং ভিডিও ধারণ করছিল।

প্রতিশোধের উন্মত্ততা
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায় ১ হাজার ১৩৯ জন নিহত এবং প্রায় ২৫০ জন অপহৃত হওয়ার ঘটনা ইসরায়েলি সমাজকে গভীরভাবে নাড়িয়ে দেয়। আইয়ুব বলেন, গ্রেপ্তারের সময় তাকে চোখ বেঁধে রাখা হয়েছিল, মারধর করা হয়েছিল এবং পদদলিত করা হয়েছিল। একই সঙ্গে তাকে ৭ অক্টোবরের ঘটনা নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছিল।

মানবিক মর্যাদা কেড়ে নেওয়া
পর্যবেক্ষকদের মতে, যেসব ইসরায়েলি সৈন্যের বিরুদ্ধে নির্যাতন ও ধর্ষণের অভিযোগ রয়েছে, তাদের অনেকেই এমন একটি সামাজিক পরিবেশে বড় হয়েছে, যেখানে ফিলিস্তিনিদের সমমর্যাদাসম্পন্ন মানুষ হিসেবে দেখার সংস্কৃতি দুর্বল।

দায়মুক্তির সংস্কৃতি
বিশ্লেষকদের মতে, ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের একটি সুস্পষ্ট ধারা থাকা সত্ত্বেও ইসরায়েল এখন পর্যন্ত কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থার কাছ থেকে কার্যকর আইনি শাস্তি কিংবা নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হয়নি।

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে জাতিসংঘ যৌন নির্যাতনের অভিযোগ তদন্ত করতে চাইলে ইসরায়েল তাতে বাধা দেয়। জাতিসংঘের মতে, জোরপূর্বক নগ্ন করা, ধর্ষণের হুমকি দেওয়া এবং যৌনাঙ্গ লক্ষ্য করে হামলা চালানো- এসব কর্মকাণ্ড ইসরায়েলি বাহিনীর মধ্যে প্রায় নিয়মিত চর্চায় পরিণত হয়েছে। সূত্র: আল-জাজিরা

আরাগচির বিরুদ্ধে তেহরানে বিক্ষোভ

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ১২:৩১ পিএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬, ০১:০৩ পিএম
আরাগচির বিরুদ্ধে তেহরানে বিক্ষোভ
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তিচুক্তির তীব্র বিরোধিতা করে ইরানের রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে ব্যাপক বিক্ষোভ করেছে দেশটির কট্টরপন্থি রাজনৈতিক দল ও নেতারা। বিক্ষোভকারীরা ইরানের বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিকে ‘অনুপ্রবেশকারী’ ও ‘বিশ্বাসঘাতক’ আখ্যা দিয়ে তার পদত্যাগ দাবি করেন।

ইরানের আধাসরকারি সংবাদসংস্থা ফার্স নিউজ জানায়, তেহরান এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়ে শত শত মানুষ স্লোগান দেন।

কট্টরপন্থীদের আপত্তির মূল কারণ:

হরমুজ প্রণালীতে নিয়ন্ত্রণ হারানোর আশঙ্কা: কট্টরপন্থি নেতাদের দাবি, ওয়াশিংটনের সঙ্গে এই চুক্তি সম্পন্ন হলে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর ওপর তেহরানের একক প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই কমে যাবে।

গোপন সমঝোতার অভিযোগ: বিক্ষোভকারীদের মতে, চুক্তির খসড়ায় সরকার সাধারণ মানুষের কাছে যতটুকু প্রকাশ করেছে, তার চেয়েও অনেক বেশি বিষয়ে আমেরিকার কাছে আপস করা হয়েছে।

পরমাণু নীতিতে ছাড়: কট্টরপন্থিরা দীর্ঘদিন ধরে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি আরও বাড়ানোর পক্ষে সাফাই গেয়ে আসছেন। এমনকি বৈশ্বিক পরমাণু অস্ত্র অসংসারণ চুক্তি থেকে ইরানকে সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করার জন্য তারা চাপ দিচ্ছেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য: বিক্ষোভের মুখে এক টেলিভিশন ভাষণে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, হরমুজ প্রণালী ইরানের অন্যতম প্রধান প্রতিরোধ হাতিয়ার হিসেবেই থাকবে। তবে এই চুক্তির ফলে ইরানি বন্দরগুলোর ওপর থাকা মার্কিন নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়া হবে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য বড় স্বস্তি আনবে।

বিক্ষোভকারীরা স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির চূড়ান্ত অনুমোদন ছাড়া ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো চুক্তিই কার্যকর করা যাবে না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রবিবারই চুক্তি সইয়ের জোরালো দাবি তোলার পর ইরানের অভ্যন্তরে এই কট্টরপন্থিদের বিক্ষোভ চুক্তিটির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে ধোঁয়াশা তৈরি করল।

তামান্না রুপা/

কেনেডি সেন্টার থেকে অপসারণ করা হলো ট্রাম্পের নাম

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ১২:১৯ পিএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬, ১২:২৭ পিএম
কেনেডি সেন্টার থেকে অপসারণ করা হলো ট্রাম্পের নাম
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের আদালতের নির্দেশ মেনে অবশেষে ওয়াশিংটন ডিসির বিখ্যাত কেনেডি সেন্টার থেকে অপসারণ করা হলো প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম।

পারফর্মিং আর্টস থিয়েটার কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আদালতের নির্দেশ পুরোপুরি কার্যকর করা হয়েছে এবং ভবন, ওয়েবসাইটসহ সমস্ত নথিপত্র থেকে ট্রাম্পের নাম সরিয়ে ফেলা হয়েছে।

গত মে মাসের শেষভাগে মার্কিন জেলা আদালতের বিচারক ক্রিস্টোফার কুপার এক রুলে জানান, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া এই জাতীয় স্মৃতিসৌধের নাম পরিবর্তন করা সম্পূর্ণ অবৈধ। আদালত ১২ জুনের মধ্যে ট্রাম্পের নামফলক সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেন।

শুক্রবার (১২ জুন) থেকেই ক্রেন ও স্ক্যাফোল্ডিং এনে কাজ শুরু হয়, যা শনিবারের মধ্যে শেষ হয়।

ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই আদেশের ওপর স্থগিতাদেশ চেয়ে আপিল করা হলেও আদালত তা খারিজ করে দেন।

২০২৫ সালে ওয়াশিংটন ডিসির বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তনের অংশ হিসেবে কেনেডি সেন্টারে নিজের নাম যুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। পরবর্তীতে একই বছরের ফেব্রুয়ারিতে তিনি সেন্টারের ট্রাস্টি বোর্ডের কয়েকজন সদস্যকে সরিয়ে নিজেকে চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী, এই সাংস্কৃতিক কেন্দ্রটি সাবেক প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডির স্মৃতির উদ্দেশ্যে উৎসর্গীত হওয়ায় ট্রাম্পের এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে ‘হ্যান্ডস অব দ্য আর্টস’ নামক একটি সংগঠন আইনি লড়াইয়ে নামে এবং শেষ পর্যন্ত আদালতের রায়ে ট্রাম্পের নামফলক সরিয়ে নেওয়া হয়। সূত্র: বিবিসি

তামান্না রুপা/অমিয়/

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তিচুক্তি: সময় নিয়ে দ্বিমত তেহরানের

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ১১:৫৮ এএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬, ১২:২২ পিএম
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তিচুক্তি: সময় নিয়ে দ্বিমত তেহরানের
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা হোসেইনি খামেনি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কয়েক মাস ধরে চলা রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের অবসান এবং বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ধমনী হরমুজ প্রণালী সচল করার লক্ষ্যে রবিবার (১৪ জুন) একটি শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে বলে দাবি করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে চুক্তি স্বাক্ষরের সুনির্দিষ্ট সময়সীমা নিয়ে কিছুটা ভিন্ন সুর শোনা গেছে ইরানের গলায়।

গতকাল শনিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ‘আগামীকালই (রবিবার) এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে। আর চুক্তি সম্পন্ন হওয়া মাত্রই হরমুজ প্রণালী সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।’ 

ট্রাম্প আরও ইঙ্গিত দেন, পরিস্থিতি শান্ত হলে উপযুক্ত সময়ে ইরানের ভূগর্ভস্থ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র থেকে পারমাণবিক বর্জ্য অপসারণ ও তা ধ্বংস করা হবে।

শান্তি আলোচনার অন্যতম মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও ট্রাম্পের এই আশাবাদের প্রতিধ্বনি করেছেন। 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, ‘‘আমরা একটি ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তির ইতিহাসের সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছি। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চুক্তিটি চূড়ান্ত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে এবং পাকিস্তান ইতোমধ্যেই এর ‘ইলেকট্রনিক সিগনেচার’ বা ডিজিটাল স্বাক্ষরের প্রস্তুতি নিচ্ছে।’’

তবে চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার ব্যাপারে তেহরান ইতিবাচক হলেও এর নির্দিষ্ট সময় নিয়ে কিছুটা সতর্কতা অবলম্বন করছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই ট্রাম্পের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বলেন, ‘চুক্তি স্বাক্ষরের সমঝোতা স্মারকের সঠিক তারিখের জন্য আমাদের আরও কিছুটা অপেক্ষা করতে হবে। তবে এটি আগামীকালই (রবিবার) ঘটছে না।’

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি অবশ্য শুক্রবারই নিশ্চিত করেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। তার মতে, এই চুক্তির আওতায় লেবাননে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যকার সংঘাতের অবসান ঘটবে, মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার হবে এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া হবে। তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা পরবর্তী ধাপে অনুষ্ঠিত হবে।

চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলার পর ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শুরু হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিলে বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের সরবরাহ ব্যাহত হয় এবং বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতি দেখা দেয়।

গত এপ্রিল মাসে একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি হলেও চলতি সপ্তাহেও উভয় পক্ষ কয়েক দফা পাল্টাপাল্টি হামলায় লিপ্ত হয়। ফলে রবিবারের এই সম্ভাব্য চুক্তিটি মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ফেরাতে পারে কি না, সেদিকেই এখন তাকিয়ে আছে গোটা বিশ্ব।

তামান্না রুপা/অমিয়/

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির দাফন ৯ জুলাই

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৮:৪৫ এএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬, ০৯:০৪ এএম
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির দাফন ৯ জুলাই
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় নিহত ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজা এবং দাফন প্রক্রিয়া জুলাই মাসে অনুষ্ঠিত হবে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা শনিবার (১৩ জুন) এ খবর জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী ৪ ও ৫ জুলাই তেহরানে একটি বিদায় সংবর্ধনার আয়োজন করা হবে। এরপর ৬ জুলাই তেহরানে এবং ৭ জুলাই কোম শহরে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। ৯ জুলাই মাশহাদ শহরে ইমাম রেজার মাজারে আরেকটি জানাজা অনুষ্ঠানের পর খামেনির মরদেহ সেখানে দাফন করা হবে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসনের শুরুতেই তেহরানে নিজের সরকারি বাসভবনে খামেনি নিহত হন। সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে তার স্থলাভিষিক্ত হন তারই ছেলে আয়াতুল্লাহ মোজতবা আলী খামেনি। তবে বাবার মৃত্যুর পর থেকে তাকে আর জনসমক্ষে দেখা যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, ওই হামলায় তিনিও আহত হয়েছেন। সূত্র: আল-জাজিরা

ভারতের নতুন সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ধীরাজ শেঠ

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৮:৪০ এএম
ভারতের নতুন সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ধীরাজ শেঠ
ভারতের নতুন সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ধীরাজ শেঠ/ছবি: সংগৃহীত

ভারতের নতুন সেনাপ্রধান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ধীরাজ শেঠ। বর্তমানে তিনি ভাইস চিফ অব আর্মি স্টাফ (ভিসিওএএস) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি আগামী ৩০ জুন বিকেলে বর্তমান সেনাপ্রধান উপেন্দ্র দ্বিবেদীর স্থলাভিষিক্ত হবেন। গতকাল শনিবার এই নিয়োগের ঘোষণা দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু। 

ধীরাজ শেঠ ১ এপ্রিল ২০২৬ সালে উপ-সেনাপ্রধানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি এর আগে ভারতীয় সেনাবাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনাল কমান্ডে দায়িত্ব পালন করেছেন।

ন্যাশনাল ডিফেন্স একাডেমির সাবেক শিক্ষার্থী ধীরাজ শেঠ ১৯৮৬ সালের ডিসেম্বরে আর্মার্ড কোরে কমিশনপ্রাপ্ত হন। প্রায় চার দশকের সামরিক জীবনে তিনি নানা ধরনের দায়িত্ব পালন করেছেন, যার মধ্যে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান ও বিদ্রোহ দমন কার্যক্রমে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে।

তিনি মরু অঞ্চলে একটি আর্মার্ড রেজিমেন্ট, একটি আর্মার্ড ব্রিগেড এবং জম্মু-কাশ্মীরে একটি সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে নেতৃত্ব দিয়েছেন। লেফটেন্যান্ট জেনারেল হিসেবে তিনি মর্যাদাপূর্ণ সুদর্শন চক্র কোরের কমান্ডার ছিলেন। পরবর্তীতে দিল্লি এরিয়ার জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

আর্মি কমান্ডার পদে উন্নীত হওয়ার পর তিনি ভারতীয় সেনাবাহিনীর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় কমান্ড ও দক্ষিণাঞ্চলীয় কমান্ডের প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। খুব কম কর্মকর্তাই এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনাল কমান্ডের নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।

প্রচলিত যুদ্ধ পরিচালনা, সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান এবং কৌশলগত নেতৃত্বে বিস্তৃত অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ধীরাজ শেঠ এমন এক সময়ে ভারতীয় সেনাবাহিনীর দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন, যখন আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে এবং বাহিনীর আধুনিকায়ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে।