আত্মসমর্পণ করতে চান সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নাজমুল ইসলাম। শিঘ্রই তিনি আত্মসমর্পণ করবেন উল্রেখ করে বুধবার (১২ মার্চ) রাত ১টার দিকে তার ফেসবুক আইডিতে একটি স্ট্যাটাস দেন।
ওই স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন, ‘একজন রাজনৈতিক কর্মীর জন্য কারাগার দ্বিতীয় বাড়ির মতো। আমরা যারা ভবিষ্যতে দেশে রাজনীতি করার ইচ্ছা আছে আমাদের প্রত্যেককেই আত্মসমর্পণ করার প্রস্তুতি নিতে হবে, আদালতে আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে প্রমাণিত হবে আমি/আমরা নির্দোষ নাকি অপরাধী? ইনশাআল্লাহ খুব শিগ্রই আমি এই কাজটি করবো, কাপুরুষের মতো পালিয়ে থেকে বাঁচার চেয়ে কারাগারে বীরের মতো মৃত্যুবরণ করাটাই আমার কাছে সম্মানের।’
এদিকে তার এই ফেসবুক পোস্টকে ঘিরে তৈরী হয়েছে আলোচনা। এই স্ট্যাটাস দেওয়ার পরই ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেনিপেশার মানুষ পোস্টটিতে কমেন্ট ও শেয়ার করেন। ১৪ ঘণ্টায় তার এই স্ট্যাটাসে ৮৪৬টি কমেন্ট পড়ে। কমেন্ট করে অনেকেই তার এ সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন।
মন্তব্যের ঘরে সিলেট জেলা ছাত্রলীগ কর্মী হুমায়ুন লিখেন, ‘আর ভাল্লাগে না ভাই। হই ঐক্য রাজনীতির পাঠশালা কারাগারে থেকে নতুন করে শুরু করি।’
মহানগর ছাত্রলীগ নেতা মাহমুদুল হাসান চৌধুরী অভি তার এই সিদ্ধান্ততে সম্মতি জানিয়ে লিখেন, ‘আছি’।
কামরুণ আহমদ নামে একজন লিখেন, ‘সাধারণ কর্মীরা কী চায় আপনাদের কাছে এটা আপনারা জানতে হবে। কর্মীরা আপনাদের কাছে টাকা পয়সা কিছুই চাই না, ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়েও চায় নি। এখনো সময় আছে আপনার কর্মীদের খোঁজখবর নেন, এদের সাথে যোগাযোগ করুন এরা রাজপথে থাকলেই আপনারা ফিরতে পারবেন। আওয়ামী লীগ খুব শীঘ্রই রাজপথে ব্যাক করবে আপনার আপনাদের মুখ তখন কীভাবে দেখাবেন একটু চিন্তা করুন?’
এস আর নাঈম নামে একজন লিখেন, ‘স্বেচ্ছায় কারাবরণ কর্মসূচি দেন ভাই সিলেটে। জেলে গেলে সবাই যাবে। নতুবা সবাইকে মুক্তি দিতে হবে। রাজনীতিবিদদের সবচেয়ে পছন্দের জায়গা রাজপথ এবং কারাগার। এই দুই জায়গায় থাকতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।’
উল্লেখ্য, ৫ আগস্টের পর সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নাজমুল ইসলামকে আর সিলেটে দেখা যায়নি। জানা যায় তিনি অন্যান্য নেতাদের সাথে ৫ আগস্টের পর ভারতে পালিয়ে যান। তারপর সেখান থেকে সৌদি আরবে যান। বর্তমানে সৌদি আরবেই তিনি অবস্থান করছেন বলে জানা যায়।
শাকিলা ববি/মাহফুজ