ফেনসিডিলের বিকল্প ভারতে নিষিদ্ধ মাদক এস্কফ সিরাপের ১০০টি বোতলসহ দুজন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) এয়ারপোর্ট থানা পুলিশ।
বুধবার (১০ জুন) দুপুরে এসএমপির মিডিয়া সেল থেকে এডিসি মিডিয়া মো. মনজুরুল আলম সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছেন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বুধবার সকাল ১০টায় এসআই মো. জুনেদ আহমেদের নেতৃত্বে এয়ারপোর্ট থানা পুলিশে একটি দল এয়ারপোর্ট থানাধীন কেওয়াছড়া ব্রিজে গোয়াইনঘাট টু সিলেট সড়কে চেকপোস্ট স্থাপন করে। এ সময় একটি যাত্রীবাহী সিএনজিচালিত অটোরিকশা চল্লাশিকালে ১০০ বোতল এস্কফ (Eskuf) সিরাপসহ মো. ইয়ামিন আহমদ আনিছ (১৯) ও মো. তারেক মিয়াকে মাদকের বাহক হিসেবে আটক করে। তাদের বাড়ি সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার ভিতরগুল মধ্যপাড়া গ্রামে। এ ঘটনায় এয়ারপোর্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করে আটক দুজনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ সূত্র জানায়, এস্কফ মূলত কাশির সিরাপ। ভারতের ল্যাবোরেট ফার্মাসিউটিক্যাল নামের একটি প্রতিষ্ঠান কাশির ওষুধ হিসেবে এই সিরাপ তৈরি করে। তবে নেশাদ্রব্য হিসেবে বহুল ব্যবহারের কারণে ভারতে এটি নিষিদ্ধ করা হলেও উৎপাদন বন্ধ হয়নি। ভারতের মধ্যে মেঘালয় রাজ্যে এই মাদক ছড়িয়েছে। মাদকসেবীরা এটি ফেনসিডিলের বিকল্প হিসেবে গ্রহণ করছে। বাংলাদেশে গত প্রায় পাঁচ বছর ধরে এ সিরাপের চাহিদা থাকায় যারা ফেনসিডিলের কারবার করে, তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ এড়াতে এই মাদক কারবারে জড়িয়েছে। কাশির সিরাপ পরিচয় দিয়ে ‘এস্কাফ’ নামের এই মাদক নিয়ে আসছে মাদক কারবারিরা। তাদের একটি চক্র সীমান্ত উপজেলার গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জ এলাকা থেকে এয়ারপোর্ট থানা হয়ে সিলেট নগরীতে প্রবেশ করে। এ চক্রের মাধ্যমে এস্কফ এখন ফেনসিডিলের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ফেনসিডিল ও এস্কাফ মূলত একই জিনিস। দুটিই কোডিন ফসফেট মিশ্রিত মাদক। ভিন্ন নামের কারণে মাদকসেবীরাও এটার দিকে ঝুঁকছেন। রাসায়নিক পরীক্ষকায় প্রমাণ হয়েছে যে, এস্কফ সেবনে গলা–বুক শুকিয়ে আসে, ঝিমুনির মতো হয়ে থাকে। এটি অতিরিক্ত সেবনে কিডনি ও লিভার অকেজো হয়ে পড়ে। পুরুষের প্রজননক্ষমতাও নষ্ট হয়ে যায়।
নাঈম/