ঝালকাঠির চার উপজেলায় ৫৮৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের ৩৫৭টি পদই শূন্য রয়েছে। চলতি দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রয়েছেন ১৮৯ জন। শহর ও শহরতলীর স্কুলগুলোতে প্রধান শিক্ষকের পদ অবসরের কারণে শূন্য হলেও তা পূরণ হচ্ছে না।
এ ছাড়া প্রত্যন্ত এলাকার স্কুলগুলোতে অবসর বা বদলিজনিত কারণে পদ শূন্য হলে তা শূন্যই রয়ে যাচ্ছে। প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে অনেকটাই প্রশাসনিক কাজে ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে। আবার তাকে শ্রেণিকক্ষে পাঠদানও করতে হচ্ছে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের নির্দেশ সবাই সঠিকভাবে পালনও করেন না। এতে অভিভাবক মহলে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হচ্ছে। বিদ্যালয়ের সার্বিক শৃঙ্খলা রক্ষায় বিঘ্নিত হচ্ছে। ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রমও।
ঝালকাঠি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্যমতে, সদর উপজেলায় ১৬২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৯৯টি প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। নলছিটি উপজেলায় ১৬৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১০৪টি, রাজাপুর উপজেলায় ১২৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৭২টি, কাঠালিয়া উপজেলায় ১৩২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৮২টি প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। চলতি দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রয়েছেন ১৮৯ জন। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৫৫ জন, নলছিটি উপজেলায় ৫৭ জন, রাজাপুর উপজেলায় ৪২ জন, কাঠালিয়া উপজেলায় ৪৫ জন প্রধান শিক্ষকের চলতি দায়িত্ব পালন করছেন।
কোনো কোনো বিদ্যালয়ে পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য। কোনো স্কুলের প্রধান শিক্ষক অবসরে যাওয়ার পর পদগুলো শূন্য হয়ে পড়ে। সেখানে সহকারী শিক্ষকদের চলতি দায়িত্ব দিয়ে কাজ চালানো হচ্ছে।
একাধিক শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শহর এলাকায় বা শহরতলীর স্কুলগুলোতে অবসরের কারণে পদ শূন্য হলে অন্য এলাকা থেকে বদলি করিয়ে এনে পদ পূরণ হয়। কিন্তু প্রত্যন্ত এলাকার স্কুলগুলোতে বদলি বা অবসরে যাওয়ার পর পদ শূন্যই থেকে যাচ্ছে। তাই প্রতি বছরই বাড়ছে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য স্কুলের সংখ্যা।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রধান শিক্ষকের পদগুলো ৬৫ ভাগ পদোন্নতির মাধ্যমে এবং ৩৫ ভাগ সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে পূরণের বিধান রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সরাসরি প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ করা হচ্ছে না। আবার সহকারী শিক্ষকদের প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি দেওয়াও বন্ধ রয়েছে। তাই প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদ পূরণ করা যাচ্ছে না।
সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মীর মু. জাহিদুল কবির তুহিন বলেন, ‘সংকট নিরসনে কাজ চলছে। আমাদের ঝালকাঠি থেকে চাহিদা দিয়ে অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতির প্রক্রিয়া শুরু করছে। পদোন্নতি হলে শূন্য পদগুলো পূরণ করা যাবে।’
ঝালকাঠি সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ও সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) সাবেক সভাপতি শিক্ষাবিদ প্রফেসর লাল মিয়া বলেন, ‘প্রাথমিক বিদ্যালয়েই শিশুদের শিক্ষার মূল ভিত তৈরি হয়। তাই সেখানে পাঠদান সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য পদোন্নতি ও নিয়োগসংক্রান্ত সব জটিলতার অবসান ঘটিয়ে প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদ পূরণের জন্য সরকারের দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।