গ্রাম্য সালিশে বাবা বিচারক থাকায় ছেলেকে বিষ খাইয়ে ও অ্যাসিড ঢেলে হত্যা করেছে অভিযুক্ত ব্যক্তি ও তার ভাই। এমনটাই ঘটেছে কুমিল্লায়। এ ঘটনায় বুড়িচং থানায় মামলা করা হয়েছে।
আসামিরা হলেন বুড়িচং উপজেলার শিকারপুর গ্রামের মো. সোলাইমানের দুই সন্তান আলাউদ্দিন (২২) এবং সাইমুন (১৬)। নিহত মো. হোসাইন একই গ্রামের আবু তাহেরের ছেলে। সে শিকারপুর উচ্চবিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
স্থানীয়রা জানান, সম্প্রতি শিকারপুর এলাকার মইনুল হোসেনের মুদি দোকানে ৫০০ টাকা চুরির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় একই এলাকার সোলাইমানের ছেলে সাইমুনকে অভিযুক্ত করে মইনুল। সে জন্য ওই দিনই গ্রাম্য সালিশ বসানো হয়। সালিশে আবু তাহের ছাড়াও আরও চারজন বিচারক ছিলেন। শালিসে অভিযুক্ত সাইমুনকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
নিহত হোসাইনের বাবা আবু তাহের বলেন, ‘বিচারের জেরে গত ৩১ মে সাইমুন ও তার ভাই আলাউদ্দিন আমার ছেলে হোসাইনকে তাদের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে মারধর করে। এক পর্যায়ে জোর করে বিষপান করিয়ে তার অণ্ডকোষে অ্যাসিড ঢেলে দেয়। তাকে উদ্ধার করে প্রথমে চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানে ৫ দিন চিকিৎসা করার পর তাকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করাই। তবে হোসাইনের অবস্থার অবনতি হলে তাকে আবার সদর হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নিয়ে আসি। সেখানে ভর্তি অবস্থায় গতকাল (বুধবার) মারা যায়।’
হোসাইনের মা শাহেনা বেগম বলেন, ‘আমার ছেলে ১২ দিন ধরে আইসিইউতে ছিল। গতকাল (বুধবার) মারা গেছে। চুরির বিচার করতে গিয়ে আমি আমার নিষ্পাপ ছেলেকে হারিয়েছি। আমি আমার ছেলের হত্যাকারীর বিচার চাই।’
কুমিল্লা জেনারেল হাসপাতালের আইসিইউ বিভাগের মেডিসিন কনসালটেন্ট অরূপ কুমার রায় বলেন, বিষক্রিয়ায় তার গলা ফুলে গিয়েছিল, শ্বাসকষ্টে ভুগছিল। অণ্ডকোষ সম্পূর্ণ ঝলসে গিয়েছিল। ময়নাতদন্ত রিপোর্টেই জানা যাবে কী ধরনের বিষ বা রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়েছিল।
কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) রাশেদুল ইসলাম চৌধুরী জানান, এ ঘটনায় দুইজনের নাম উল্লেখ করে মামলা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।