চট্টগ্রাম মহানগরের হালিশহরের আনিন্দপুর এলাকায় নালায় পড়ে তিন বছর বয়সী শিশু হুমায়রার মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) গঠিত তদন্ত কমিটি। তবে প্রতিবেদনটিতে সিটি করপোরেশন নিজের কোনো দায় স্বীকার করেনি। বরং শিশুটির মায়ের কর্মস্থল, পরিবারের গাফিলতিসহ চারটি কারণ উল্লেখ করেছে কমিটি।
একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে সাতটি সুপারিশ করা হয়েছে।বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) রাতে কমিটি প্রতিবেদন দাখিল করে। চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা কমান্ডার ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী জানান, শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় চারটি কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। কারণগুলো হলো শিশুটির মায়ের কর্মস্থলে শিশু রাখার ব্যবস্থা না থাকায় সে বাইরে অবস্থান করছিল। পরিবারের দায়িত্বে গাফিলতির কারণে শিশুটি ভারী বর্ষণের মধ্যে বাইরে ছিল। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ভবনের মূল ফটক খোলা ছিল এবং কোনো প্রহরী ছিল না। সড়কের উচ্চতা ও অবস্থানগত তারতম্যও মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ভবিষ্যতের জন্য কমিটি সাতটি সুপারিশ করেছে। সুপারিশগুলো হলো কর্মস্থলে কর্মীদের শিশুদের নিরাপদে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। পরিবারকে শিশু ও বয়স্কদের প্রতি আরও মনোযোগী হতে হবে। জলাবদ্ধতা নিরসনে এলাকাভিত্তিক পর্যাপ্ত ড্রেনেজব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। ভবন নির্মাণে অনুমোদিত নীতিমালা মানতে হবে এবং ড্রেনেজের জন্য জায়গা রাখতে হবে। ঝুঁকিপূর্ণ নালাগুলোর ওপর স্ল্যাব বসাতে হবে। আবাসিক এলাকায় গার্মেন্টস কারখানা পরিচালনায় আইনগত বিধান মানতে হবে। নগরবাসীকে নিরাপত্তাবিষয়ক সচেতনতা তৈরিতে প্রচার কার্যক্রম চালাতে হবে।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন কানাডার টরন্টো থেকে এ ঘটনায় শোক জানিয়েছেন। তিনি বলেন, দুর্ঘটনাস্থল একটি আবাসিক এলাকা হওয়া সত্ত্বেও সেখানে কীভাবে গার্মেন্টস কারখানা স্থাপন হয়েছে তা জানতে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হবে। এ ছাড়া ওই এলাকায় গার্মেন্টস পরিচালনায় আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে চসিকের আইন শাখার মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গত বুধবার বেলা আড়াইটার দিকে নালায় পড়ে যায় শিশুটি। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগেই স্থানীয়রা শিশুটিকে উদ্ধার করে। পরে আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতালে নেওয়া হলে যাবতীয় পরীক্ষা শেষে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। স্থানীয়দের অভিযোগ ছিল, নালা পরিষ্কার করে সব স্ল্যাব বসালেও একটি বসানো হয়নি। শিশুটি ওই খোলা জায়গা দিয়েই নালায় পড়ে যায়। ঘটনাটি তদন্তে গত বুধবার রাতেই তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা কমান্ডার ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরীকে আহ্বায়ক করে কমিটির সদস্যসচিব করা হয় নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার জাহানকে। পাশাপাশি ম্যালেরিয়া ও মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা সরফুল ইসলামকে সদস্য করা হয়। এক কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।