নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে এলাকাবাসীর চাপে স্ট্যাম্পে মুচলেকা দিয়ে মাদক ব্যবসা ছেড়ে দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন আজগর, সুফি বেগম, রাবি বেগম, শ্যামল মিয়া, রিপন মিয়া, বিল্লাল মিয়া ও আলম মিয়া নামে স্থানীয় সাত চিন্তিত মাদক ব্যবসায়ী।
শনিবার (২৬ জুলাই) দুপুরে উপজেলার তারাব পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের মৈকুলী এলাকায় তারা এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে এ অঙ্গীকার করেন।
এলাকাবাসী জানান, আলী আজগর, সুফি বেগম, রাবি বেগম, শ্যামল মিয়া, রিপন মিয়া, বিল্লাল মিয়া ও আলম মিয়া মৈকুলী এলাকায় বড় মাদকের ডিলার হিসেবে পরিচিত। তারা মৈকুলীসহ উপজেলার বিভিন্নস্থানে তাদের লোকজন দিয়ে খুচরা ও পাইকারিভাবে মাদক বিক্রি করে আসছিলেন। গত বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) রাতে মৈকুলী এলাকায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিসহ এলাকাবাসী মাদকবিরোধী একটি সভার আয়োজন করে। সভায় সিদ্ধান্ত হয় মৈকুলী এলাকায় কাউকে মাদক ব্যবসা করতে দেওয়া হবে না। মাদক ব্যবসা রোধে এলাকায় স্থানীয়রা অভিযান চালিয়ে মাদক ব্যবসায়ীদের আটক করে পুলিশে সোপর্দ করবেন। এর প্রেক্ষিতে শুক্রবার (২৫ জুলাই) সন্ধ্যায় ৪২ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে পিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেন এলাকাবাসী। এতে মাদক ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়।
এর পর শনিবার দুপুরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিসহ এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে মাদক ব্যবসায়ী আলী আজগর, সুফি বেগম, রাবি বেগম, শ্যামল মিয়া, রিপন মিয়া, বিল্লাল মিয়া ও আলম মিয়া স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করে মাদক ব্যবসা ছেড়ে দেওয়ার অঙ্গীকার করেন।
এ সময় মাদক ব্যবসায়ীরা বলেন, 'আমরা পুলিশকে মাসোহারা দিয়েই মাদক ব্যবসা করতাম। এলাকাবাসীর চাপে আমরা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করে অঙ্গীকার করছি আমরা আর মাদকব্যবসা করব না। যদি আমরা মাদক ব্যবসা করি তাহলে এলাকাবাসী আমাদের পুলিশের কাছে সোপর্দ করতে পারবে।'
এ ব্যাপারে রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বলেন, 'মাদকব্যবসা রোধে এ ধরনের উদ্যোগ অবশ্যই ভাল। তবে এতে যাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি না হয়। মাদক রোধে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
পুলিশের মাসোয়ারার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'তাদের কাছ থেকে পুলিশের কে? কত টাকা? নেয় সেটি সুনির্দিষ্টভাবে বললে তার বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এভাবে ঢালাওভাবে বললে তো আর হবে না।'
রুবেল/মেহেদী/