রাজধানীর উত্তরা মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে দগ্ধ হওয়া মাসুমা (৩৮) শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর কাছে হার মানলেন। দগ্ধ অবস্থায় পাঁচদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শনিবার (২৬ জুলাই) সকালে ঢাকা মেডিকেলের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে তার মৃত্যু হয়।
শনিবার ভোর রাতে মাসুমার মরদেহ পৌঁছায় তার গ্ৰামের বাড়ি ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার বড় মানিকা ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডে। এর পর থেকে স্বজন, প্রতিবেশী ও গ্রামবাসীরা ভিড় করেন তাকে শেষবার একনজর দেখতে। বাতাস ভারী হয়ে ওঠে তাদের কান্নার রোল আর আহাজারিতে।
পরে রবিবার (২৭ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯টায় জানাজা শেষে পারিবারিক গোরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
নিহত মাসুমা মাইলস্টোন স্কুলে আয়ার কাজ করতেন। স্বামী মো. সেলিম ঢাকায় একটি বায়িং হাউজে ড্রাইভার হিসেবে কাজ করেন। মাসুমা তার স্বামী, এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে রাজধানীর তুরাগ নয়ানগর শুক্রভাঙ্গা এলাকায় বসবাস করতেন।
মাসুমার স্বামী সেলিম বলেন, ঘটনার দিন মাসুমা স্কুলে কর্মরত ছিলেন। পরে আগুন লাগার খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে ছুটে যাই। ঘটনাস্থলে গিয়ে জানতে পারি আমার স্ত্রীর শরীরের ৯০ শতাংশ পুড়ে গেছে।
তিনি বলেন, আমার ছোট ছোট দুটি সন্তান রয়েছে, যাদের মুখের দিকে তাকিয়ে আমি শোকে স্তব্ধ হয়ে যাই। আল্লাহর কাছে দোয়া করেছিলাম বাচ্চাদের জন্য হলেও যেন আল্লাহ আমার স্ত্রীকে ফিরিয়ে দেন। কিন্তু সে আমাকে রেখে চলে গেলেন। সবাই তার জন্য দোয়া করবেন।
এদিকে বোরহানউদ্দিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রায়হানুর-উজ্জামান জানাজায় অংশগ্রহণ করে বলেন, উপজেলা প্রশাসন নিহত মাসুমার পরিবারের পাশে আছে এবং সব প্রকার সরকারি সহায়তা তার পরিবারকে দেওয়া হবে।
ইমতিয়াজুর/মেহেদী/