চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় মদ্যপান করে ও অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে এক নববধূকে একাধিকবার ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে নুরুল ইসলাম প্রকাশ নুরাইয়ার (৩৫) নামে ওই নববধূর খালুশ্বশুরের বিরুদ্ধে।
শনিবার (১৬ আগস্ট) দুপুর ১টার দিকে ভুক্তভোগী গৃহবধূর স্বামীসহ পরিবার এ ঘটনায় পুলিশের শরণাপন্ন হয়েছেন।
অভিযুক্ত খালুশ্বশুর উপজেলার বাজালিয়া ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের সিকদার পাড়ার বাসিন্দা। তিনি একই ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের বন বিভাগের সংরক্ষিত বনাঞ্চলের উদ্দুরিক্যা পাড়ায় স্থায়ীভাবে বসবাস করেন।
জানা গেছে ভুক্তভোগী চন্দনাইশ উপজেলার হাশিমপুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের বড়পাড়ার বাসিন্দা। গত আড়াই মাস আগে তিনি সাতকানিয়া উপজেলার বাজালিয়া ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের গোয়ালউড়া গ্রামের রাজমিস্ত্রী আবদুর রহমানকে পালিয়ে বিয়ে করেন। একপর্যায়ে আবদুর রহমান তার মা-বাবার সঙ্গে রাগ করে স্ত্রীকে নিয়ে খালা মনোয়ারা বেগমের বাড়িতে আশ্রয় নেন। সেখানে তারা দেড় মাস ধরে অবস্থান করছেন।
এর পর ভুক্তভোগীর স্বামী রাজমিস্ত্রীর কাজে গেলে অভিযুক্ত খালুশ্বশুর নুরুল ইসলাম প্রকাশ্যে মদ্যপ অবস্থায় তাকে বিভিন্ন সময় একাধিকবার ধর্ষণের চেষ্টা করেন। তাকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তিনি বিভিন্ন সময় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তার শরীর স্পর্শ করার চেষ্টা করতেন। পরবর্তীতে ওই নববধূ বিষয়টি তার স্বামীকে জানান। সবশেষ শুক্রবার (১৫ আগস্ট) নববধুর স্বামী কাজে যাওয়ার কথা বলে ঘরের কোনায় লুকিয়ে থেকে নুরুল ইসলামকে হাতেনাতে ধরতে সক্ষম হন।
ভুক্তভোগী খবরের কাগজকে বলেন, দেড় মাস আগে আমি এবং আমার স্বামী শ্বশুরবাড়ি থেকে বের হয়ে খালাশাশুড়ির বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলাম। ওই সময় আমার খালুশ্বশুর মদ পান করে ও অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে আমাকে একাধিকবার ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। আমি তাকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তিনি আমার স্বামীকে হত্যার হুমকি দিতেন।
ভুক্তভোগীর স্বামী আবদুর রহমান খবরের কাগজকে বলেন, আমি মা-বাবার সঙ্গে রাগ করে স্ত্রীকে নিয়ে খালার বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলাম। একপর্যায়ে আমার স্ত্রী আমাকে জানায় আমার খালু তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেছে। একদিন আমি বসতঘরের এককোনায় লুকিয়ে পুরো ঘটনা নিজ চোখে দেখে অবাক হই। আমি এ ঘটনায় প্রতিবাদ করলে তিনি আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দেন।
ভুক্তভোগী গৃহবধুর বাবা মো. ফোরকান বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি আজ আমার মেয়ের সঙ্গে এ কাজ করেছে। আমরা নিশ্চুপ থাকলে আরেকদিন অন্য মেয়ের সঙ্গে এমন কর্মকাণ্ড করবে। তাই আমরা বিচারের আশায় থানা পুলিশের শরণাপন্ন হয়েছি। আমি পুরো ঘটনা তদন্তপূর্বক অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহেদুল ইসলাম খবরের কাগজকে বলেন, ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় ভিকটিম ও তার স্বামী থানায় উপস্থিত হয়ে বিষয়টি মৌখিকভাবে জানানোর পর আমরা অভিযুক্তকে আটকের জন্য ঘটনাস্থলে ফোর্স পাঠিয়েছি। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
আরিফুল/নাঈম/মেহেদী/