সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসবকে পরিপূর্ণ রূপ দিতে শারদ প্রাঙ্গনে চলছে দেবী বরণের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। ঢাক, ঢোল, শঙ্খধ্বনি ও উলুধ্বনির মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গাকে বরণ করার জন্য ভক্তরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।
আগামী রবিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) মহাষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে শুরু হবে দুর্গোৎসবের মূল আনুষ্ঠানিকতা। ২ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার, দশমী তিথিতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে এই উৎসবের সমাপ্তি ঘটবে।
মৌলভীবাজার জেলায় এবার ১,০১০টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। জেলার প্রতিটি শারদ প্রাঙ্গনে এই উৎসবকে কেন্দ্র করে চলছে শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা।
শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে মৌলভীবাজার শহরের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে দেখা গেছে, প্রতিমা তৈরির পাশাপাশি মণ্ডপ সজ্জায় ব্যস্ত রয়েছেন নিয়োজিত কর্মীরা। কেন্দ্রীয় কালীবাড়ি, রামকৃষ্ণ মিশন, দুর্গাবাড়ি, সৈয়ারপুরের ত্রিণয়নী ও আবাহন এবং গীর্জাপাড়ার মহেশ্বরীতে চলছে ব্যাপক কর্মযজ্ঞ। প্রতিমা শিল্পীদের সুনিপুণ হাতের ছোঁয়ায় দেবী দুর্গার পূর্ণাঙ্গ রূপ ফুটে উঠছে একাগ্রচিত্তে।
জেলা পূজা উদযাপন কমিটি সূত্রে জানা গেছে, মৌলভীবাজার জেলায় এবার ১,০১০টি পূজা মণ্ডপে দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে সদরে ১০৯টি, বড়লেখায় ১৪৫টি, জুড়ীতে ৭৫টি, কুলাউড়ায় ২২১টি, রাজনগরে ১৩৭টি, কমলগঞ্জে ১৫৩টি এবং শ্রীমঙ্গলে ১৭০টি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে।
পূজার আয়োজক কমিটি ও পারিবারিক উদ্যোক্তারা নান্দনিক ও সুন্দর আয়োজনের জন্য বিরামহীনভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। পূজা উপলক্ষে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
মহেশ্বরী পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি দোলন কুমার দাশ বলেন, 'প্রতিবারই আমরা নতুন কিছু করার চেষ্টা করি। এবারও সাত্ত্বিক পূজার্চনার পাশাপাশি মণ্ডপকে বর্ণিলভাবে সাজানো হয়েছে।'
মনু নদীর তীরে সৈয়ারপুর এলাকায় ত্রিণয়নী শিববাড়ি পূজা উদযাপন পরিষদ পূজার আয়োজন করেছে। কমিটির সভাপতি স্বাগত কিশোর দাশ চৌধুরী জানান, ত্রিণয়নী পূজা মণ্ডপের এবারের থিম 'বারো মাসে দেবী শক্তির বারো রূপ'।
জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি আশু রঞ্জন দাশ জানান, শান্তিপূর্ণভাবে পূজা আয়োজনের জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের সঙ্গে ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং প্রশাসনের সার্বক্ষণিক নজরদারি রয়েছে।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্ট মৌলভীবাজারের আহ্বায়ক সুনীল কুমার দাশ বলেন, পূজা নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই।
জেলা পুলিশ সুপার এম কে এইচ জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, পুলিশ, সেনাবাহিনী, র্যাব ও আনসার সদস্যদের সমন্বয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া পুলিশের টহল ও জনসমাগম বেশি এমন এলাকায় সাদা পোশাকে পুলিশ মোতায়েন থাকবে। সবাই যাতে আনন্দের সঙ্গে উৎসব উদযাপন করতে পারেন, সেজন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
পুলক পুরকায়স্থ/সুমন/