ভৈরবকে জেলা ঘোষণার দাবিতে আজ সোমবার সকাল ১০টায় রেলওয়ে স্টেশনে জড়ো হয়ে ঢাকা-চট্রগ্রাম-সিলেট রেলপথ অবরোধ করেন ভৈরববাসী। সকাল ১০টা ২৫মিনিটে নোয়াখালী থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী ‘উপকূল এক্সপ্রেস’ ভৈরব স্টেশনে এসে আটকা পড়ে। শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চলাকালীন বেলা ১০টা ৪০মিনিটে আন্দোলনকারীদের একাংশ উপকূল এক্সপ্রেস ট্রেনে বৃষ্টিরমতো পাথর ছুঁড়তে থাকেন। এতে অন্তত ২০ যাত্রী আহত হয়।
‘‘জেলা জেলা জেলা চাই, ভৈরব জেলা চাই”, ‘‘ওয়ান টু থ্রি ফোর, কিশোরগঞ্জ নো মোর”, ‘ইন্টেরিম সরকার, জেলা মোদের দরকার’’, ইত্যাদি স্লোগানে স্লোগানে ভৈরবের রেলষ্টেশন ব্লকেড কর্মসূচি পালন করে ভৈরবের লোকজন।
ব্লকেড কর্মসূচি চলাকালে ভৈরব সার্কেলের এএসপি নয়ন আহমেদ ও ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ খন্দকার ফুহাদ রুহানী, স্টেশন মাস্টার মো. ইউসুফ, রেলওয়ে ওসি সাঈদ আহমেদসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তাদের উপস্থিততেই ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ করে আন্দোলনকারীরা। এসময় ট্রেনের হেডলাইট ও কিছু গ্লাস ভাঙচুর করা হয়। ট্রেনে থাকা যাত্রীরা ছুঁটতে থাকে এদিকে সেদিকে। এসময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, মূহুর্তের মধ্যে ভৈরব রেলস্টেশনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পরে।
এ ঘটনায় ট্রেনের অন্তত ২০ যাত্রী আহত হয়েছে। এর মধ্যে উপকূল এক্সপ্রেসের দুই যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
এদিকে রেলপথ ব্লকেড কর্মসূচির কারণে পাঁচটি ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় হয়েছে। ভৈরবে দীর্ঘক্ষণ আটকে ছিল কর্ণফুলী এক্সপ্রেস ট্রেন। ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামগামী মালবাহী ট্রেন আটকে ছিল নরসিংদীর দৌলতকান্দি স্টেশনে। তিতাস ট্রেন মেথিকান্দা ও কর্ণফুলী ট্রেন খানাবাড়ি স্টেশনে আটকে ছিল। চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী চট্টলা ট্রেন আটকে ছিল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তাল শহর স্টেশনে। এদিকে ১ ঘণ্টা ১০ মিনিট কর্ণফুলী ট্রেন আটকে থাকায় যাত্রীরা পড়েন চরম বিপাকে। এসময় ভৈরব রেল স্টেশনে আটকে থাকা যাত্রীরা সীমাহীন ভোগান্তিতে পড়েন। পরে ভৈরব রেল স্টেশনের রেলওয়ে পুলিশ সদস্যরা ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করতে আসলে উত্তেজিত জনতা পুলিশকে উদ্দেশ্য করে এলোপাতাড়ি পাথর নিক্ষেপ করেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ১১ অক্টোবর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবে কিশোরগঞ্জ জেলাকে ময়মনসিংহ বিভাগে অন্তর্ভুক্ত করার পর ভৈরববাসীর মাধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। এরপর থেকে লাগাতার শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করে ভৈরববাসী। কর্মসূচিতে একাত্মতা ঘোষণা করে ভৈরব বিএনপিসহ সকল অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা, জামায়াতে ইসলাম, ছাত্র শিবির, গণ অধিকার পরিষদ, খেলাফত মজলিস, ইসলামি আন্দোলন, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদসহ বেশ কয়েকটি সংগঠনের নেতাকর্মীরা যোগ দেন।
ব্লকেড কর্মসূচি পালনকারীরা বলেন, ১৫ দিন লাগাতার শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে। শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি শেষে ২৬ অক্টোবর সড়কপথ ব্লকেড, ২৭ অক্টোবর রেলপথ ব্লকেড ও ২৮ অক্টোবর নৌপথ ব্লকেড কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। ২৬ অক্টোবর ২ ঘণ্টা সড়ক পথ অবরোধ করা হলেও ইন্টেরিম সরকার আমাদের দাবি আমলে নিচ্ছে না। আজ ১ ঘণ্টা রেলপথ অবরোধ করা হয়েছে। আগামীকাল নৌপথ ব্লকেড কর্মসূচি পালন করবে সর্বস্তরের জনতা। সরকার জেলার দাবি মেনে না নিলে অনির্দিষ্টকালের জন্য সড়কপথ, রেলপথ ও নৌপথ বন্ধ করে জেলার দাবিতে কর্মসূচি পালন করা হবে।
ভৈরব রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার মো. ইউসুফ বলেন, আন্দোলনের মুখে উপকূল এক্সপ্রেস ট্রেনটি স্টেশনে আটকা পড়ে। গ্রীন সিগন্যাল দেওয়ার পরও অবরোধের কারণে ট্রেন যেতে পারেনি। আমরা এবং পুলিশ ট্রেনের উপর ও লাইন থেকে আন্দোলনকারীদের সরাতে চাইলে আন্দোলনকারীদের একটা অংশ টেনে পাথর নিক্ষেপ করেন। ১১টা ৪২মিনিটে ট্রেনটি ঢাকার উদ্দেশে ভৈরব স্টেশন ছেড়ে যায়। অবরোধের কারণে কয়েটি ট্রেন পাশ্ববর্তী স্টেশনে অবস্থান নেওয়ায় নির্ধারিত সময়ের ট্রেনগুলো ভৈরব স্টেশনে না আসায় কিছুটা সিডিউল বিপর্যয় হয়।
ভৈরব রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ সাঈদ আহামেদ বলেন, রেলপথ অবরোধের কারণে ১০টা ২৫ মিনিটে উপকূল এক্সপ্রেস ট্রেনটি স্টেশনে আটকা পড়ে। ১ ঘণ্টার মতো ট্রেনটি আটকা ছিল। পরে পুলিশের সহযোগিতায় ট্রেনটি ঢাকার উদ্দেশে ভৈরব স্টেশন ছেড়ে যায়। বর্তমানে রেলস্টেশনের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
তাসলিমা/মাহফুজ