নড়াইলের তুলারামপুর হাইওয়ে থানার কার্যক্রম চলছে ভাড়া বাড়িতে। ছোট্ট কয়েকটি রুমের মধ্যে চলছে পুলিশ সদস্যদের থাকা-খাওয়াসহ অফিসের কার্যক্রম। অপরদিকে থানাটির নিজস্ব ভবনের নির্মাণকাজ প্রায় পাঁচ বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। দ্রুত ভবন নির্মাণের দাবি সংশ্লিষ্টদের।
জানা গেছে, নড়াইল সদর উপজেলার নড়াইল-যশোর মহাসড়কের দক্ষিণ পাশে ভাড়া বাসায় তুলারামপুর হাইওয়ে থানা। থানায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ ২৩ জন সদস্য রয়েছেন। মহাসড়কের শৃঙ্খলা ফেরাতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা, দুর্ঘটনা প্রতিরোধে চালকদের সচেতনতা বৃদ্ধি, যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ, চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়মিত যাচাই-বাছাই করে থাকে তুলারামপুর হাইওয়ে থানার পুলিশ। এ ছাড়া মহাসড়কে দুর্ঘটনার শিকার হওয়া ভুক্তভোগীদের উদ্ধার, মামলা দেওয়াসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। ভাড়া করা ভবনের সাতটি কক্ষের মধ্যে একটি ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কক্ষ, একটি অফিস কক্ষ ও পাঁচটি কক্ষ পুলিশ সদস্যদের থাকা-খাওয়ার কাজে ব্যবহৃত হয়।
তুলারামপুর হাইওয়ে থানার পুলিশ কনস্টেবল হৃদয় বলেন, ‘আমাদের থানাটি সম্পূর্ণ অরক্ষিত। চারপাশে পানি এবং ঝোপজঙ্গলে ভরা। প্রতিনিয়ত রুমের মধ্যে বিভিন্ন পোকামাকড় আসে। সম্প্রতি আমাদের রুমের মধ্যে সাপ উঠেছে।’ দ্রুত সময়ের মধ্যে নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানান তিনি।
থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) রবিউল ইসলাম বলেন, ‘থানার রুমগুলো ছোট ছোট। সেখানে থাকতে আমাদের সমস্যা হয়।’
এএসআই গৌরঙ্গ কুমার বলেন, ‘এই ভবনটির ছোট ছোট রুমের মধ্যে তিনটি করে বেড রয়েছে। যেখানে আমরা চারজন করে থাকি। দ্বিতীয় তলার রুমগুলোতে বর্ষাকালে পানি পড়ে। যার কারণে পলিথিন দিয়ে রাখা হয়েছে। আমাদের থাকা-খাওয়াসহ অন্যান্য কাজে অনেক সমস্যা হয়।’
তুলারামপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ সেকেন্দার আলী বলেন, ‘আমরা ২৩ জন সদস্য এখানে কর্মরত। থাকতে অনেক সমস্যা হয়। তবু আমরা আমাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করে আসছি। নতুন ভবন পেলে কাজে আরও গতি আসবে।’
নড়াইল গণপূর্ত অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, নড়াইল-যশোর মহাসড়কের উত্তর পাশে তুলারামপুরের ব্যাতেঙ্গায় দুই একর জমির ওপর ৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০২০ সালে তুলারামপুর হাইওয়ে থানার নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০২১ সালে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজের বিল প্রদানের জন্য আবেদন জানালে তাদের কোনো অর্থ দেওয়া হয়নি। এ কারণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ করতে অপারগতা প্রকাশ করে গণপূর্ত অধিদপ্তরকে চিঠি দেয়। এরপর থেকে বন্ধ রয়েছে নির্মাণকাজ। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় ভবনের নির্মিত এলাকায় ঝোপজঙ্গলে ভরে গেছে। রডে মরিচা পড়ে গেছে। সেখানে গেলে হঠাৎ করে কারও বোঝার উপায় নেই, এখানে একটি ভবনের নির্মাণকাজ চলছে।
নড়াইল গণপূর্ত অধিদপ্তরে নির্বাহী প্রকৌশলী মু. সরোয়ার হোসেইন বলেন, ‘সম্প্রতি আগের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কার্যাদেশ বাতিল করা হয়েছে। সেই সঙ্গে নতুন করে টেন্ডার আহ্বান করেছে গণপূর্ত অধিদপ্তর নড়াইল। প্রায় চার কোটি টাকা ব্যয়ে হাইওয়ে থানার ভবন নির্মাণ করা হবে।’ দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ শুরু হবে বলে জানান তিনি।