সাতক্ষীরার শ্যামনগরের প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী যশোরেশ্বরী কালী মন্দিরের জায়গা দখল করে দোকান নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে আকবর মোল্লা নামে স্থানীয় এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
মন্দিরের সীমানা প্রাচীর পর্যন্ত পুরো খোলা চত্বরটি দখলে নিয়ে ওই দোকান নির্মাণ করায় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
তবে মন্দিরের সামনের ১ শতাংশের একটু বেশি জায়গা নিজের কেনা দাবি করে দখলের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আকবর মোল্লা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, যশোরেশ্বরী কালী মন্দিরের প্রধান ফটকের প্রাচীর ঘেষে পাকা দোকান তৈরি করছেন ঈশ্বরীপুর গ্রামের আলতাব মোল্লার ছেলে আকবর মোল্লা। এর ফলে মন্দিরের পূজারী, ভক্ত ও দর্শানার্থীদের খোলা চত্বরে বসা বা যানবাহন রাখার স্থানটিও আর রইল না।
অভিযুক্ত আকবর মোল্লা বলেন, ‘ওই জমিতে আগে মাছের বাজার ছিল। সেখানে আমার ব্যবসা ছিল। ২০২১ সালের মার্চ মাসে নরেন্দ্র মোদি এ মন্দিরে আসার আগে ওই দোকান ভেঙে একটি নতুন ভিত তৈরি করেছিলাম। পরে জ্যোতি চট্টোপাধ্যায়কে এক বছর আগে ঘর তৈরির কথা বলি। তিনি আপত্তি জানালে আমার মন্দিরের সামনের জায়গা মন্দিরের সুবিধার্থে লিখে দিতে চাই তবে ওই জমির পরিবর্তে মসজিদের পাশে তাদের পাঁচ শতক জমি ঈদগাহ নির্মাণের জন্য ঈদগাহের নামে লিখে দিতে বলি এবং বিষয়টি নিয়ে তার (আকবর মোল্লার) মামা সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সাদেকুর রহমান সাদেকের সঙ্গে আলোচনা করতে বলি। তবে দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও জ্যোতি চট্টোপাধ্যায় ওই শর্তে রাজি না হওয়ায় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে এক শতকের একটু বেশি জমির রেকর্ড দেখিয়ে এক মাস আগে নির্মাণ কাজ শুরু করেছি।’
এ ছাড়াও ওই জমি মন্দিরের নয় দাবি করে তিনি বলেন, জনৈক কেষ্ট মিত্রের মেয়ের স্বামী সন্তোষ সেন তার স্ত্রী শিখার নামে দানপত্র করা জমি তিনি কিনেছেন। যা পরবর্তীতে তহশীলদার সঞ্জয় রায়ের মাধ্যমে নামপত্তন ও খাজনা দিয়েছেন। তবে কত দাগের জমি তিনি ভোগদখল করেন তা জানতে চাইলে তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
এবিষয়ে ঈশ্বরীপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সাবেক তহশীলদার সঞ্জয় রায় বলেন, ‘আকবর মোল্লা যে জমিতে দোকান বানাচ্ছেন সেটা মন্দিরের নামে এসএ রেকর্ড করা জমি। কৌশলে রেকর্ড করে নিয়েছেন আকবর। ওই জমির কোনো নামপত্তন বা খাজনা নেওয়া হয় না। আকবর শিখা মিত্রের কাছ থেকে যে জমি কিনেছেন দাবি করেন সেটা মন্দির থেকে উত্তর দিকে কিছুদূর যাওয়ার পর পুকুর পাড়ের সোয়া এক শতক জমি। আকবর মিথ্যাচার করে মন্দিরের জমি জবরদখল করে দোকান বানাচ্ছেন।’
যশোরেশ্বরী কালী মন্দিরের পুরোহিত দীলিপ চক্রবর্তী জানান, আকবর মোল্লা কিভাবে মন্দিরের ফটকের সামনে দোকান বানাচ্ছেন তা ছোট বাবু (জ্যোতি চট্টোপাধ্যায়) বলতে পারবেন।
এ ব্যাপারে জ্যোতি চট্টোপাধ্যায় সাংবাদিকদের জানান, আকবরের অভিযোগ সঠিক নয়। তবে তিনি এ নিয়ে খুব শিগগির গ্রামে ফিরে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নেবেন।
বাংলাদেশ পুজা উদযাপন ফ্রন্টের সাতক্ষীরা জেলা শাখার সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট অসীম কুমার মণ্ডল বলেন, যশোরেশ্বরী মন্দিরের জমির কাগজপত্র যাচাই করে আইনি লড়াই করা হবে।
এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন বলেন, ‘আকবর মোল্লা বর্তমানে সুবিধাজনক অবস্থায় থাকা বিএনপি নেতা সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সাদেকুর রহমান সাদেকের আত্মীয় হওয়ায় তাকে কেউ কিছু বলছে না।’
শ্যামনগর উপজেলা হিন্দু পরিষদের আহ্বায়ক অনাথ মন্ডল ও সদস্যসচিব উৎপল মন্ডল জানান, যশোরেশ্বরী কালী মন্দির রক্ষার যাবতীয় দায়িত্ব মন্দির পরিচালনা কমিটির। এ বিষয়ে তাদেরকেই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলে তারা মনে করেন।
এ বিষয়ে শ্যামনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাশেদ হোসাইন বলেন, ‘বিষয়টি আমি অবগত না। এ বিষয়ে কেউ আমাকে কিছু জানায়নি। আপনার মাধ্যমে জানতে পারলাম। কেউ অভিযোগ দিলে খোঁজ নিয়ে এ ব্যাপারে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
শাহাজান সিরাজ/অমিয়/