সিরাজগঞ্জের বিসিক শিল্প পার্কের সাবেক প্রকল্প পরিচালক (পিডি) জাফর বায়েজিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে খবরের কাগজসহ বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর অবশেষে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বিসিকের প্রধান কার্যালয় থেকে পাঁচ সদস্যের এই কারিগরি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
তদন্ত কমিটিতে পুরকৌশল বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ফেরদৌস জামানকে আহ্বায়ক ও প্রকল্প ব্যবস্থাপনা ও বাস্তবায়ন বিভাগের সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. আজিজুর রহমানকে সদস্যসচিব করা হয়েছে।
কমিটির অন্য তিন সদস্য হলেন - পরিকল্পনা ও গবেষণা বিভাগের পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. আসমাউল ইসলাম সিয়াম, সহকারী প্রকৌশলী শাহাদাৎ হোসেন ও সিরাজগঞ্জ বিসিক শিল্পপার্ক প্রধান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) থাকা হিরন্ময় বর্ধন।
কমিটিকে সরেজমিনে বিসিক শিল্পপার্কের কার্যক্রম পরির্দশন করে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
ইতোমধ্যে তদন্ত কমিটি গত ১৬ নভেম্বর থেকে নবনির্মিত সিরাজগঞ্জ বিসিক শিল্পপার্কে তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে।
বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের প্রভাবশালী ঠিকাদার আরাফাত কনস্ট্রাকশনের সঙ্গে যোগসাজসে বিসিক প্রকৌশল বিভাগের পরিচালক আব্দুল মতিন ও সাবেক প্রকল্প পরিচালক জাফর বায়জিদ সিরাজগঞ্জ বিসিক শিল্প পার্কের কাজ শেষ না করেই ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরের জুনে শতভাগ বিল প্রদান করেন। চলতি বছরে ৩০ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্যোক্তাদের মধ্যে প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু প্রকল্প বাস্তবায়নকারীদের ব্যাপক দূর্নীতি ও অনিয়মের কারণে উদ্যোক্তারা এখনও প্লটে কাজ শুরু করতে পারেননি। বিসিক শিল্প পার্কটি সম্পূর্ণরূপে চালু হলে প্রায় এক লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা রয়েছে।
সরেজমিনে মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) বিসিক শিল্প পার্কে এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বিসিকের তদন্ত কমিটি শিল্পপার্কের বিভিন্ন প্লট,ড্রেন ও সড়কের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ঘুরে দেখছেন ও ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।
অনিয়ম নিয়ে এর আগে গত ৬ মার্চ শিল্পপার্ক এলাকা পরিদর্শন করেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কর্মকর্তারা।
এদিকে এম রেজাউল করিম রঞ্জু, সাইফুল ইসলাম, হাজী মো. একাব্বর আলী, আবু সাঈদ, আতিকুল ইসলাম, আমিনুল ইসলাম, আবদুস সালাম, রঞ্জিত কুমার সরকার এবং মজনু মোল্লাসহ বেশ কয়েকজন প্লট গ্রহীতা অনিয়মের প্রতিকার চেয়ে বিসিক কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে শিল্প-কারখান স্থাপনের জন্য উপযুক্ত প্লট তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় মাটি ভরাটের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
শিল্প উদ্যোক্তা এবং প্লট গ্রহীতারা বলছেন, এই শিল্পপার্ক নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জোড়াতালি দিয়ে কাজ অসম্পূর্ণ রেখেই চলে গেছে। বিসিক কর্তৃপক্ষ, বিশেষ করে তৎকালীন পিডি জাফর বায়েজিদ মিথ্যা অজুহাতে অসম্পূর্ণ প্রকল্পটি শিল্প মন্ত্রণালয়ের কাছে হস্তান্তর করেছেন। মাটি ভরাটে অনিয়মের কারণে অনেক প্লট এখন পুকুরে পরিণত হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, ড্রেন ও রাস্তা নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান আরাফাত কনস্ট্রাকশন, নিরাপত্তা জামানত নেওয়ার জন্য বিসিকের প্রধান ঢাকা অফিসে চিঠি দিয়েছেন।
তদন্তের বিষয়ে জানতে বিসিক শিল্পপার্কের সাবেক প্রকল্প পরিচালক জাফর বায়োজিদকে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে তদন্ত কমিটির সদস্যসচিব আজিজুর রহমান বলেন, তদন্তের কাজ শেষ করতে আরও সময় লাগতে পারে। তবে কতদিন লাগবে তা নিদিষ্ট করে বলতে পারব না।
তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ফেরদৌস জামান বলেন, আমাদের তদন্ত কমিটি ছাড়াও আরও একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলা অফিস থেকে নিষেধ করা হয়েছে। আপনার কোনো কিছু জানার থাকলে আমাদের প্রধান কার্যালয়ে যোগাযোগ করতে পারেন। আমি আর বেশি কিছু বলতে পারব না।
প্রসঙ্গত, যমুনা সেতুর পশ্চিম পাশে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার ছাতিয়ানতলী, পশ্চিম মোহনপুর, বনবাড়িয়া, বেলটিয়া ও মোরগ্রাম মৌজার অংশ নিয়ে প্রায় ৪০০ একর জমিতে এই বিসিক শিল্পপার্ক। কয়েক দফায় সময় ও ব্যয় বাড়িয়ে সবশেষ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় ৭১৯ কোটি ২১ লাখ টাকা। শিল্প পার্কের ৮২৯টি প্লটে কমপক্ষে ৫৭০টি শিল্প স্থাপনের কথা রয়েছে।
সিরাজুল ইসলাম/অমিয়/