সিলেটের বিশ্বনাথের গোয়াহরি গ্রামের দক্ষিণের বড় বিলে বার্ষিক ‘পলো বাওয়া’ উৎসব হয় নতুন বছরের শুরুতে। শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী পলো বাওয়া উৎসবকে ঘিরে বিলপাড়ে জড়ো হন হাজারও মানুষ। শীত উপেক্ষা করে পলো হাতে মাছ মারায় অংশ নেন শত শত গ্রামবাসী। এ বছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি। শীতের সকালে উৎসবের উত্তাপে কেটেছে গোয়াহরি বিল এলাকা।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) বিশ্বনাথ উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের গোয়াহরি গ্রামের বড় বিলে এই ঐতিহ্যবাহী উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। ভোর থেকেই উৎসবের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন গ্রামবাসী। নির্দিষ্ট সময়ে সবাই পলো, উড়াল জাল, ঠেলা জাল, টানা জাল, ছিটকি জাল ও কুচা নিয়ে একত্রিত হন বিলের পাড়ে। তারপর একযোগে ঝাঁপিয়ে পড়েন বিলের হাঁটুসমান জলে। মুহূর্তেই দেখা মেলে বড় বড় মাছের। কয়েক ঘণ্টা চলে মাছ শিকার। বিলের জলে পলোর ঝাপে ধরা পড়ে বোয়াল, রুই, কাতলা, ঘনিয়া, বাউশ, শোলসহ নানা প্রজাতির মাছ। পলো ছাড়াও টেলা আর ছিটকি জালে আটকা পড়ে বিলে জন্ম নেওয়া ছোট মাছ। কারও হাতে বড় বোয়াল, কারও ঝুড়িতে রুই-কাতলা।
উৎসব দেখতে বিলপাড়ে ভিড় করেন নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরসহ নানা বয়সী মানুষ। প্রবাসে থাকা অনেকেই এই উৎসব উপলক্ষে গ্রামে ফিরে আসেন। স্বজনদের সঙ্গে দেখা, পুরোনো স্মৃতি রোমন্থন আর মাছ ধরার আনন্দে গোয়াহরি বড় বিল পরিণত হয় এক মিলনমেলায়।
পলোতে বড় বোয়াল ধরতে পেরে খুশি রাজু আহমদ। তিনি বলেন, ‘নিজের হাতে এত বড় বোয়াল ধরতে পেরে খুব আনন্দ লাগছে।’ পলো বাওয়া দেখতে যুক্তরাজ্য থেকে আসা প্রবাসী তৈমুছ আলী বলেন, ‘গ্রামের মানুষ আনন্দের সঙ্গে মাছ ধরছে। এ দৃশ্য দেখতেই দেশে আসা। বসে বসে পলো বাওয়া উপভোগ করছি, খুব ভালো লাগছে।’
গোয়াহরি বিল বার্ষিক পলো বাওয়া উৎসবকে ঘিরে আয়োজক কমিটিও রয়েছে। এ কমিটির সদস্য গোলাম হোসেন ও ইকবাল হোসাইন জানান, গোয়াহরি বড় বিলে প্রতিবছরই এই পলো বাওয়া উৎসব উদযাপিত হয়। এটি পূর্বপুরুষের স্মৃতি ও ঐতিহ্যের ধারক। যুগ যুগ ধরে এ উৎসব ধরে রাখা হয়েছে। আনন্দের পাশাপাশি এটি এখন গর্বেরও বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।