কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে গ্রাহকের হাজার কোটি টাকার অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার দুই মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি, আইসিএল গ্রুপের এমডি এএইচএম শফিকুর রহমানকে পুলিশ আটক করেছে।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কুমিল্লা শহর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আইসিএল গ্রুপের এমডি শফিকুর রহমান কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার শুভপুর ইউনিয়নের ধনিজকরা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি কর্মজীবনে ইসলামী ব্যাংকে কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে ব্যাংকের চাকরি ছেড়ে আইসিএল কোঅপারেটিভ প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন এবং একাধিক স্থানে প্রতিষ্ঠানটির শাখা প্রতিষ্ঠা করেন।
জানা গেছে, তার বিরুদ্ধে অন্তত ২৩টি মামলার ওয়ারেন্ট রয়েছে। এছাড়া শফিকুর রহমানের বিরুদ্ধে চৌদ্দগ্রাম থানাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অন্তত দুই শতাধিক মামলা রয়েছে।
শনিবার চৌদ্দগ্রাম থানা সেকেন্ড অফিসার সৈয়দ সানাউল্লাহ তথ্যটি নিশ্চিত করে বলেন, ‘আটক শফিকুর রহমানকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।’
পুলিশ সূত্রে আরও জানা যায়, শফিকুর রহমানের নামে বিভিন্ন থানায় অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার মামলা রয়েছে। এর মধ্যে দুইটি মামলায় যথাক্রমে এক বছর ছয় মাস ও এক বছরের সাজা রয়েছে। তেইশ মামলার ওয়ারেন্ট রয়েছে। দীর্ঘদিন আত্মগোপন থাকা অবস্থায় শুক্রবার বিকেলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে কুমিল্লা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
২০২০ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিভাগীয় সমবায় কার্যালয়ের নিবন্ধকের দপ্তর থেকে প্রকাশিত তদন্ত প্রতিবেদনের মাধ্যমে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটিতে অন্তত ১৮০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে অর্থ আত্মসাৎ এর মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে শফিকুর রহমানকে উল্লেখ করা হয়েছে।
কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুল আলম শাহ বলেন, ‘শফিকুর রহমানের বিরুদ্ধে গ্রাহকদের টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগে একাধিক মামলায় সাজা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। পরে কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ এবং চৌদ্দগ্রাম থানা পুলিশের একটি টিম তাকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠায়।’
জহিরুল/রিফাত/