ঢাকা ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
‘রকস্টার’ যেন মাদকের বিজ্ঞাপন ৬৫ ভাগ মানুষকে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির চাপ থেকে মুক্ত রাখা হয়েছে: তথ্যমন্ত্রী চৌদ্দগ্রামে দাঁড়িয়ে থাকা বাসে মোটরসাইকেলের ধাক্কা, নিহত ২ টেকনাফে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মোটরসাইকেল শোডাউন একাগ্র একলিম, পরিচ্ছন্ন সিলেট সীতাকুণ্ডে পুলিশের টহল গাড়িতে ধাক্কা, সার্জেন্টসহ আহত ৫ অতিথির স্মৃতি গল্প থেকে ৪টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ১২তম পর্ব, অষ্টম শ্রেণির বাংলা হরমুজে ইরানের ড্রোন উৎক্ষেপণ, পাল্টা রাডার সাইট লক্ষ্যবস্তু করল যুক্তরাষ্ট্র চাক্তাই খালে নির্মাণাধীন সেতুর ধীরগতি সহ্য করা হবে না: চসিক মেয়র ডেঙ্গু প্রতিরোধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী আর্জেন্টিনার জার্সি পরলেই দাঁতের চিকিৎসা ফ্রি! ঘাঘট নদীতে গোসলে নেমে বেরোবি শিক্ষার্থীর মৃত্যু সাতকানিয়ায় কৃষিজমি ও পাহাড় রক্ষায় অবৈধ ইটভাটা বন্ধের দাবি বরগুনায় বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু হাতিয়ায় ছাত্রদল নেতার বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ জমি নিয়ে বিরোধে রণক্ষেত্র খুলশি, আহত ১০ ফটিকছড়িতে মনজুর-সনিসহ ২৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা কুয়েত ও বাহরাইনে ৭টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল ইরান সোনারগাঁয় বাবার মৃত্যুর খবর দিতে গিয়ে ছেলের ঝুলন্ত মরদেহের সন্ধান এআই মামলা: ডিএমপি মাত্র দুটি নম্বর থেকে এসএমএস পাঠায়, অন্যগুলো ভুয়া ঈশ্বরগঞ্জে বসতঘর থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার হরিপুর সীমান্তে বিএসএফের হাতে দুই বাংলাদেশি আটক লালমনিরহাটে ৩ সীমান্ত পয়েন্টে পুশইন ব্যর্থ, লোকজন ফিরিয়ে নিল বিএসএফ ইতিহাস, সৌন্দর্য আর প্রশান্তির পরভো শহরে এক দিন চন্দনাইশে দ্রুতগামী অটোরিকশার ধাক্কায় বৃদ্ধের মৃত্যু রাসুল (সা.) এর খাদ্য তালিকায় কেন দুধ ছিল সেরা নওগাঁ সীমান্তে ১৭ ব্যক্তিকে শূন্যরেখা থেকে সরিয়ে নিল বিএসএফ গাইবান্ধায় দুই ভুয়া সরকারি কর্মকর্তা গ্রেপ্তার মাইজদীতে কিশোর গ্যাংয়ের ১৮ সদস্যকে পুলিশে দিল ছাত্রদল রংপুরে মাদকমুক্ত সামজ গঠনে শিক্ষার্থীদের শপথ
Nagad desktop

সাতক্ষীরায় সুপেয় পানির তীব্র সংকট

প্রকাশ: ২৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:৪৬ এএম
সাতক্ষীরায় সুপেয় পানির তীব্র সংকট
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার মুন্সীগঞ্জ ইউনিয়নের আইটপাড়া গ্রামের নারীরা দলবেঁধে পানি সংগ্রহ করতে যাচ্ছেন। ছবি: খবরের কাগজ

সাতক্ষীরার শ্যামনগর ও আশাশুনির উপকূলীয় জনপদে সুপেয় পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। জলাধারের পানি লবণাক্ত হওয়ায় এসব এলাকার মানুষ বর্ষায় বৃষ্টির পানি জমিয়ে রাখেন। এরই মধ্যে সেই পানি ফুরিয়ে যাওয়ার পথে। যেসব জায়গার পানি কিছুটা পানের উপযোগী সেখান থেকে সংগ্রহ করতে এ অঞ্চলের নারীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা পথ হাঁটতে হয়। এমন পরিস্থিতিতে উপকূলের মানুষের মনে আশার আলো জাগিয়েছে ‘সৌরচালিত রিভার্স অসমোসিস প্রযুক্তি’। ব্যক্তিগত উদ্যোগে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে এখন সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে বড় পরিসরে লোনা পানিকে মিঠা করার প্রযুক্তি স্থাপন করা হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পথ দেখাচ্ছে।

শ্যামনগর উপজেলার দ্বীপ ইউনিয়ন গাবুরা। এই ইউনিয়নের চাঁদনীমুখা গ্রামে ঢুকতেই চোখে পড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে মানুষের লড়াইয়ের চিত্র। দিনমজুর পরিবারের গৃহবধূ রহিমা খাতুন ঘরের কাঁচা মেঝে আর বারান্দায় বড় বড় গর্ত খুঁড়েছেন। এসব গর্তে পুরু পলিথিন বিছিয়ে তার ওপরে রেখেছেন সিমেন্ট দিয়ে বানানো শিট। গত বর্ষায় এসব শিটের মধ্যে বৃষ্টির পানি জমিয়ে রাখেন। ঘরের ভেতরের এসব গর্তের ওপর তক্তা রেখে তার ওপর বিছানা পেতেছেন। রহিমা খাতুন বলেন, ‘ঘরের মধ্যে গর্ত করে পানি রাখলাম, তাও এখন শেষ হওয়ার পথে। আর মাত্র কয়েক দিন চলবে। এরপর আবার কলসি নিয়ে মাইলের পর মাইল ছুটতে হবে।’

রহিমার ঘরের ঠিক পাশেই বিলকিস খাতুনও একই যুদ্ধ করছেন। তার বারান্দাজুড়ে মাছ বহনের পরিত্যক্ত ককশিটের বাক্স সারিবদ্ধভাবে সাজানো। প্লাস্টিকের ট্যাংক কেনার সামর্থ্য নেই, তাই ফেলে দেওয়া এসব বাক্স সংগ্রহ করে সেগুলোতে পানি জমিয়ে রাখেন। বিলকিস বলেন, ‘ট্যাংক কেনার টাকা পাব কই? এই ককশিটই আমার সম্বল। বর্ষায় এসব বাক্সে বৃষ্টির পানি ধরে রাখি। কিন্তু মাঘ আসতে না আসতেই সব খালি। এক ড্রাম পানি কিনতে ৪০ টাকা লাগে। চাল কিনব নাকি পানি, সেই চিন্তায় রাতে ঘুম হয় না।’

বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের দাঁতিনাখালীর মহাসিনের হুলা এলাকায় অনেক নারীকে দলবেঁধে সুপেয় পানি সংগ্রহ করতে দেখা যায়। গ্রামের ষাটোর্ধ্ব সোহরাব গাজী দাঁড়িয়ে তখন পানি সংগ্রহের সেই যুদ্ধ দেখছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের ছোটবেলায় এমন ছিল না। পুকুরের পানি খেয়ে মানুষ বাঁচত। এখন আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকা ছাড়া কোনো উপায় থাকে না। বর্ষায় একটু জানে বাঁচলেও, শীত এলে মনে হয় গলায় লবণ লেগে আছে। সরকার কত কিছু দেয়, কিন্তু আমাদের পিপাসা মেটায় না।’

পানির সংগ্রহে যাওয়া নারীরা জানান, সারা দিন তারা যে কাজ করেন তার অর্ধেক সময় যায় পানি সংগ্রহের পেছনে। চার-পাঁচ মাইল হেঁটে যখন দুই কলসি পানি আনেন, তখন মনে হয় শরীরের হাড় ভেঙে যাচ্ছে। নোনা পানিতে গোসল করলে শরীর চুলকায়, ঘা হয়।
 
উপকূলের এই চিত্র কেবল দাঁতিনাখালী কিংবা চাঁদনীমুখাতে নয়, শ্যামনগর ও আশাশুনির প্রতিটি গ্রামের একই অবস্থা। আইলা, আম্পান আর ইয়াসের মতো ঘূর্ণিঝড়ে নোনা পানি লোকালয়ে ঢুকে সব মিষ্টি পানির উৎস নষ্ট করে দিয়েছে। মাটির নিচের স্তর এখন লবণে পূর্ণ। টিউবওয়েল চাপলে তিতা-নোনা পানি ওঠে। 

বিপর্যয়ের এই পরিস্থিতিতে আশার আলো দেখাচ্ছে আধুনিক ‘পানি পরিশোধন প্ল্যান্ট’। চীনা প্রতিষ্ঠান সিসিইসিসির নির্মিত এই প্ল্যান্টটি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ও একটি বেসরকারি সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগে চালু করা হয়েছে। 

এখানে ব্যবহৃত ‘রিভার্স অসমোসিস’ প্রযুক্তি সম্পর্কে দায়িত্বরত চীনা প্রকৌশলী ওয়াং বাইলু বলেন, ‘এই ব্যবস্থাটি লোনা পানি থেকে লবণ ও ক্ষতিকর সব উপাদান দূর করে সরাসরি পানযোগ্য পানি সরবরাহ করে। যেহেতু এতে বিদ্যুতের প্রয়োজন হয় না, তাই এটি উপকূলীয় এলাকার জন্য খুবই সাশ্রয়ী।’ 

সাতক্ষীরা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহিদ পারভেজ বলেন, ‘অনিয়মিত বৃষ্টি আর তীব্র খরার কারণে শুধু বৃষ্টির পানির ওপর নির্ভর করে এখন আর সারা বছর চলা প্রায় অসম্ভব। এ জন্য উপকূলীয় প্রত্যেক মানুষের দোরগোড়ায় সুপেয় পানি পৌঁছে দিতে আমরা রিভার্স অসমোসিস প্ল্যান্টের ওপর জোর দিচ্ছি। একটি প্ল্যান্ট প্রতিদিন ৩৫০ থেকে ৪০০ পরিবারের নিরবচ্ছিন্ন সুপেয় পানির চাহিদা মেটাতে সক্ষম। চাহিদার ভিত্তিতে আমরা ধাপে ধাপে আরও প্ল্যান্ট স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েছি।’

চৌদ্দগ্রামে দাঁড়িয়ে থাকা বাসে মোটরসাইকেলের ধাক্কা, নিহত ২

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ১২:১৭ পিএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ১২:৪৬ পিএম
চৌদ্দগ্রামে দাঁড়িয়ে থাকা বাসে মোটরসাইকেলের ধাক্কা, নিহত ২
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে সড়ক দুর্ঘটনায় দুই মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হওয়ার পর দুর্ঘটনাস্থলের চিত্র। ছবি: খবরের কাগজ
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ছুফুয়া এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকা একটি বাসের পেছনে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় দুই যুবক নিহত হয়েছেন।
 
শনিবার (৬ জুন) সকালে এ  দুর্ঘটনা ঘটে। বেলা ১১টা পর্যন্ত  নিহত দুই যুবকের পরিচয় জানা যায়নি।
 
দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে মিয়াবাজার হাইওয়ে ক্রসিং ফাঁড়ি ইনচার্জ রুহুল আমিন জানান, শনিবার সকালে দ্রুতগতিতে চলা একটি মোটরসাইকেল চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ছুপুয়া এালাকায় মহাসড়কে দাঁড়িয়ে থাকা একটি বাসের পেছনে ধাক্কা দেয়। এতে মোটরসাইকেলে থাকা দুই আরোহী ছিটকে পরে ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
 
খবর পেয়ে পুলিশ নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। দুর্ঘটনাকবলিত মোটরসাইকেল ও বাসটি জব্দ করা হয়েছে। তবে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই বাসের চালক ও হেলপার পালিয়ে যান।
 
রুহুল আমিন বলেন, নিহত দুই যুবকের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। মরদেহ দুটি থানায় রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
 
জহির/ আজহার/

টেকনাফে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মোটরসাইকেল শোডাউন

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ১২:১০ পিএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ১২:১১ পিএম
টেকনাফে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মোটরসাইকেল শোডাউন
ছবি: খবরের কাগজ

ফুটবলপ্রেমীদের উৎসবমুখর অংশগ্রহণে কক্সবাজারের টেকনাফে অনুষ্ঠিত হয়েছে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের বর্ণাঢ্য বাইক শোডাউন ও কনসার্ট। এ অনুষ্ঠানে অংশ নেন শতাধিক মোটরসাইকেল আরোহী ও বিপুলসংখ্যক দর্শক।

শুক্রবার (৫ জুন) দুপুর ২টায় টেকনাফ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ থেকে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রার মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়।

আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের পতাকা, জার্সি ও বিভিন্ন ব্যানার নিয়ে শোভাযাত্রাটি টেকনাফ স্থলবন্দর এলাকা থেকে শুরু হয়ে মেরিন ড্রাইভ সড়ক প্রদক্ষিণ করে নির্ধারিত স্থানে গিয়ে শেষ হয়।

বাইক শোডাউন শেষে অনুষ্ঠিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও কনসার্ট। এতে কক্সবাজারের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী ইফতি ও সংগতি সঙ্গীত পরিবেশন করেন। তাদের প্রাণবন্ত পরিবেশনায় উপস্থিত দর্শক, ফুটবলপ্রেমী ও সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা যায়। গান, সঙ্গীত ও আনন্দঘন পরিবেশে অনুষ্ঠানটি পরিণত হয় এক মিলনমেলায়।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে সাবেক ফুটবল খেলোয়াড় হেলাল উদ্দিন জানান, খেলাধুলা ও সংস্কৃতিচর্চার মাধ্যমে তরুণ সমাজকে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা, পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বৃদ্ধি করা এবং সুস্থ বিনোদনের পরিবেশ গড়ে তোলাই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।

শাহীন/আমান

একাগ্র একলিম, পরিচ্ছন্ন সিলেট

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ১২:০৬ পিএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ১২:৪৩ পিএম
একাগ্র একলিম, পরিচ্ছন্ন সিলেট
পরিচ্ছন্ন সিলেট নগরীর প্রধান সড়কটির ছবি গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে তোলা। পরিচ্ছন্নতা তাদারকে নিজ দপ্তরে একাগ্র একলিম আবেদীন (ইনসেটে)। ছবি: মামুন হোসেন

ঈদুল আজহার দিন। দেশের অনেক শহরে তখনও কোরবানির বর্জ্য অপসারণে ব্যস্ত সিটি করপোরেশনের কর্মীরা। কোথাও রাস্তায় পড়ে আছে পশুর উচ্ছিষ্ট, কোথাও দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ নগরবাসী। কিন্তু সিলেট নগরীর প্রধান সড়কগুলোতে তখন ভিন্ন দৃশ্য। দুপুর গড়ানোর আগেই অধিকাংশ কোরবানির বর্জ্য সরিয়ে ফেলা হয়েছে। পরিচ্ছন্ন নগরীর সেই দৃশ্য দেখে অনেকেই বিস্মিত হয়েছেন।

এভাবে কেবল ঈদের দিন নয়, সিলেট নগরীর প্রতিদিনকার দৃশ্য। নিরবচ্ছিন্ন এই পরিচ্ছন্নতার পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা, নিয়মতান্ত্রিক ব্যবস্থাপনা এবং একদল পরিচ্ছন্নতাকর্মীর নিরলস শ্রম। আর সেই প্রচেষ্টার নেতৃত্বে আছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা লে. কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ একলিম আবদীন।

৫ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবস। এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘প্রকৃতি থেকে অনুপ্রাণিত: জলবায়ুর জন্য, আমাদের ভবিষ্যতের জন্য’। 

পরিবেশ ও নগর ব্যবস্থাপনার এই বিশেষ দিনে সিলেটের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তনের গল্প বলতে গেলে উঠে আসে একাগ্র একলিম আবদীনের নাম।

সেনাবাহিনীর গৌরবময় কর্মজীবন শেষে ২০২৩ সালের ১ ডিসেম্বর সিসিকের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব নেন তিনি। সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার সন্তান একলিম আবদীন বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি থেকে সেনাবাহিনী প্রধানের স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। দেশ-বিদেশে বিভিন্ন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এই কর্মকর্তা অবসরের পর নিজ অঞ্চলের জন্য কিছু করার প্রত্যয় নিয়েই সিলেটে ফেরেন।

your image

দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম দিন একলিম দেখেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমে শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতার ঘাটতি রয়েছে। কোথায় কত বর্জ্য উৎপন্ন হয়, কতটি ভ্যান কাজ করছে কিংবা কতটুকু বর্জ্য প্রতিদিন সংগ্রহ করা হচ্ছে- এসব বিষয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্যও ছিল না। 

খবরের কাগজকে তিনি বলেন, ‘আমি প্রথমেই বুঝতে পারি, তথ্য ছাড়া কোনো ব্যবস্থাপনা কার্যকর হতে পারে না। তাই আমরা জরিপ করেছি, তথ্য সংগ্রহ করেছি এবং পুরো ব্যবস্থাকে একটি কাঠামোর মধ্যে আনার চেষ্টা করেছি।’

এরপর শুরু হয় পরিবর্তনের অভিযাত্রা। ওয়ার্ডভিত্তিক সুপারভাইজার নিয়োগ, নির্দিষ্ট রুট পরিকল্পনা, নিয়মিত সমন্বয় সভা এবং তদারকি ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রযুক্তিকেও যুক্ত করা হয় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে। কাজের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে গুগল ক্যামেরা অ্যাপ ব্যবহার শুরু করেন তিনি। পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শেষে শ্রমিক ও সুপারভাইজারদের নির্ধারিত স্থানের ছবি তুলে গ্রুপে পাঠাতে হয়। ফলে কোথায় কাজ হয়েছে, কখন হয়েছে এবং কতটুকু হয়েছে- তার একটি ডিজিটাল রেকর্ড তৈরি হতে থাকে। 

একলিম আবদীনের ভাষায়, ‘জবাবদিহিতা থাকলে কাজের মান বাড়ে। প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে সবাই নিজের দায়িত্ব সম্পর্কে আরও সচেতন হয়েছে।’

তবে শুধু নিয়ম আর প্রযুক্তি দিয়েই পরিবর্তন আসেনি। পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গিতেও পরিবর্তন আনার চেষ্টা করেছেন তিনি। যেসব শ্রমিক দীর্ঘদিন শহর পরিষ্কার রাখার দায়িত্ব পালন করছেন, তাদের স্বাস্থ্যসেবা, পোশাক ও কর্মপরিবেশের বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে দেখেছেন। ভালো কাজ করা শ্রমিক ও সুপারভাইজারদের প্রকাশ্যে প্রশংসা ও পুরস্কৃত করার ব্যবস্থাও চালু করেছেন। 

তিনি বলেন, ‘শ্রমিকদের সম্মান দিতে হবে। তারা যদি ভালোভাবে কাজ করতে পারেন, তাহলে পুরো শহরই উপকৃত হবে।’

সিলেটের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তনের আরেকটি বড় দিক হচ্ছে নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা, লিফলেট বিতরণ, শিক্ষার্থী ও তরুণদের সম্পৃক্ত করে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে নাগরিকদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। এর সুফলও মিলছে। আগে যেখানে ছড়া ও ড্রেন পরিষ্কারের সময় বিপুল পরিমাণ বর্জ্য পাওয়া যেত, এখন সেই পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

একলিম আবদীন খবরের কাগজকে বলেন, ‘এই কৃতিত্ব শুধু সিটি করপোরেশনের নয়। নগরবাসীও অনেক বেশি সচেতন হয়েছেন। তারা এখন আগের তুলনায় কম বর্জ্য ফেলছেন এবং নির্ধারিত ব্যবস্থার মাধ্যমে ময়লা দিচ্ছেন।’

বর্তমানে সিসিক প্রতিদিন প্রায় ৩০০ টন বর্জ্য সংগ্রহ ও পরিবহন করছে। কয়েক বছর আগেও এ পরিমাণ ছিল প্রায় ২৪৫ টন। বর্জ্য সংগ্রহ বৃদ্ধিকে তিনি জনসচেতনতা ও সেবার পরিধি বাড়ার ইতিবাচক ফল হিসেবে দেখেন। তবে কাজের পথ সব সময় মসৃণ ছিল না। সমালোচনা, অপপ্রচার এবং নানা প্রতিবন্ধকতার মুখেও তাকে কাজ চালিয়ে যেতে হয়েছে। কিন্তু তাতে দমে যাননি। 

নিজের শহরের প্রতি দায়বদ্ধতার কথা বলতে গিয়ে একলিম বলেন, ‘আমি একজন সিলেটি। নিজের শহরের জন্য কিছু করতে পারাটা আমার কাছে সৌভাগ্যের বিষয়। ভালো কাজ করতে গেলে বাধা আসবেই। কিন্তু মানুষ যখন পরিবর্তন দেখে, তখন সেই কষ্ট সার্থক মনে হয়।’

প্রকৃতি, নদী, পাহাড় ও সবুজে ঘেরা সিলেটকে একটি পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব নগরীতে পরিণত করার স্বপ্ন দেখেন একলিম আবদীন। তার বিশ্বাস, প্রশাসন, পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও নাগরিকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সিলেট একদিন দেশের অন্যতম পরিচ্ছন্ন নগরীতে পরিণত হবে। সেই স্বপ্ন নিয়েই প্রতিদিন নতুন করে শুরু হয় পরিচ্ছন্ন সিলেট গড়ার কাজ।

/থিও

সীতাকুণ্ডে পুলিশের টহল গাড়িতে ধাক্কা, সার্জেন্টসহ আহত ৫

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ১১:৫৭ এএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ১২:২৭ পিএম
সীতাকুণ্ডে পুলিশের টহল গাড়িতে ধাক্কা, সার্জেন্টসহ আহত ৫
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দায়িত্ব পালনকালে হাইওয়ে পুলিশের একটি টহল গাড়িকে পেছন থেকে ধাক্কা দিয়েছে অজ্ঞাত একটি যানবাহন। এতে এক সার্জেন্টসহ পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

‎বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের পৌরসভার নুনাছড়ায় চট্টগ্রামমুখী লেনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

‎আহতরা হলেন- সার্জেন্ট মো. শামীম হোসেন, কনস্টেবল মো. আনিসুর রহমান, মো. আব্দুল হান্নান, মো. শাহ আলমসহ পাঁচজন। 

‎কুমিরা হাইওয়ে থানা জানায়, মহাসড়কে দায়িত্ব পালনকালে হাইওয়ে পুলিশের টহলরত পিকআপ সীতাকুণ্ডের দিকে যাচ্ছিলে। এ সময় দ্রুতগতির অজ্ঞাত একটি গাড়ি পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। এতে পুলিশের গাড়িতে থাকা পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। ‎পরে তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। আহত পুলিশ সদস্যরা সবাই প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছে এবং সবাই ভালো আছেন।

‎কুমিরা হাইওয়ে থানার ইনচার্জ মো. নুরুল আবছার জানান, গাড়িটিকে সনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। দুর্ঘটনার কারণ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। মহাসড়কে বসানো ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরার (সিসিটিভি) মাধ্যমে গাড়িটি সনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।

মুসলে উদ্দিন/তামান্না রুপা/

চাক্তাই খালে নির্মাণাধীন সেতুর ধীরগতি সহ্য করা হবে না: চসিক মেয়র

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ১১:৪৭ এএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ১২:১১ পিএম
চাক্তাই খালে নির্মাণাধীন সেতুর ধীরগতি সহ্য করা হবে না: চসিক মেয়র
ছবি: খবরের কাগজ

চাক্তাই খালের ওপর নির্মাণাধীন সেতুর কাজে কোনো ধরনের ধীরগতি বা অনিয়ম সহ্য করা হবে না বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

তিনি বলেন, ‘চাক্তাই খালের ওপর নির্মাণাধীন ব্রিজটি স্থানীয় যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জনগণের ট্যাক্সের টাকায় উন্নয়ন কাজ হয়, তাই কাজে কোনো ধরনের ধীরগতি বা অনিয়ম সহ্য করা হবে না।’

শুক্রবার (৫ জুন) দুপুরে নগরীর চকবাজার এলাকা-সংলগ্ন চাক্তাই খাল ও চলমান ব্রিজের নির্মাণকাজ সরেজমিনে পরিদর্শনে এসে তিনি এসব কথা বলেন।

মেয়র স্থানীয় এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের কথা শোনেন। তিনি কাজের গুণগত মান বজায় রেখে নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্টদের কঠোর নির্দেশ দেন।

মেয়র আরও বলেন, ‘চাক্তাই খাল চট্টগ্রামের দুঃখ হিসেবে পরিচিত। তাই খাল নিয়মিত খনন ও পরিষ্কার রাখতে হবে। যদি আমরা নিয়মিত পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালিয়ে যেতে পারি এবং সবাই মিলে এই খালে ময়লা আবর্জনা ফেলা বন্ধ করি, তাহলে এই এলাকা জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পাবে। বর্ষা মৌসুমের আগেই চলমান ব্রিজের নির্মাণকাজ শেষ করে জনগণের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে হবে।’

জনগণকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মেয়র বলেন, ‘গণসচেতনতা ছাড়া শহরকে জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে মুক্ত করা সম্ভব নয়। বাজারের লোকজন যেন ফুটপাথ ও খালপাড়ে পসরা সাজিয়ে না বসেন, তা নিশ্চিত করতে ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে। পুনর্বাসনের পরও যারা খালের পাশে এসে বসেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা শুধু অবকাঠামো নির্মাণে সীমাবদ্ধ থাকতে চাই না। আমরা চাই নাগরিকদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি হোক, এই নগরী আমাদের সবার, তাই পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্বও সবার।’

ইফতেখারুল ইসলাম/খাদিজা রুমি/