চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার দোহাজারী পৌরসভায় নিজের স্ত্রী পারভীন আক্তারের পরকীয়া প্রেমিক জাবেদের মারধর এবং জাবেদের স্ত্রী জাহেদা কর্তৃক জুতাপেটার অপমান সইতে না পেরে সৈয়দ নূর (৪০) নামে এক দিনমজুর বিষপান করে করেছিলেন।
তিনি দীর্ঘ ৪ দিন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় থাকার পর রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) বিকালে মৃত্যুবরণ করেন।
একইদিন রাত ১০টার দিকে সৈয়দ নূরের মরদেহ তার গ্রামের বাড়ি দোহাজারী পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের হাতিয়াখোলা গ্রামের দেলোয়ার সওদাগরের পাহাড় এলাকায় নিয়ে আসা হলে ধুম্রজালের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে চন্দনাইশ থানা পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সৈয়দ নূরের পরিবার ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন। পরে পুলিশ তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পুনরায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে প্রেরণ করেন।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বিকালে সৈয়দ নূরের মরদেহ তার গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। একইদিন সন্ধ্যায় জানাজা শেষে তার দাফনকার্য সম্পন্ন হয়।
জানা যায়, নিহত সৈয়দ নূর তার স্ত্রীর সঙ্গে একই এলাকার জাবেদ নামে এক ব্যক্তির পরকীয়া সম্পর্ক রয়েছে জানিয়ে তিনি জাবেদের মামা ও স্থানীয় হাজেরা বেগম নামে এক নারীকে নালিশ দেন। পরবর্তীতে জাবেদ বিষয়টি জানতে পেরে সৈয়দ নূরকে স্থানীয় একটি দোকানের সামনে নিয়ে মারধর করেন। পরে তিনি রাগান্বিত হয়ে সেখান থেকে বাড়িতে গিয়ে একটি রামদা নিয়ে দরজার সামনে বসে থাকেন। এ সময় তার স্ত্রী পারভীন আক্তার বাইরে থেকে এসে সৈয়দ নূরের অবস্থা দেখে পার্শ্ববর্তী দোকান থেকে দুই ব্যক্তিকে ডেকে নিয়ে আসেন। একই সময় জাবেদের স্ত্রী জাহেদা সেখানে উপস্থিত হয়ে সৈয়দ নূরকে ইচ্ছামতো জুতাপেটা করেন। এরপর তিনি সেই অপমান সইতে না পেরে বিষপান করেন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দোহাজারী ৩১ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে প্রেরণ করেন। সেখানে টানা ৪ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর তার মৃত্যু হয়।
আরও জানা যায়, রবিবার রাতে ছৈয়দ নূরের মরদেহ হাতিয়াখোলা গ্রামে নিয়ে আসা হলে স্থানীয়দের মাঝে সন্দেহ জাগে। পরে তারা হাসপাতালের কাগজপত্র দেখতে চাইলে স্ত্রী পারভীন আক্তার তাদেরকে জানান, সৈয়দ নূর হাসপাতাল থেকে চট্টগ্রাম নগরীর কাপ্তাই রাস্তার মাথায় তার ছেলেকে দেখতে যান। সেখানে ছেলেকে বুকে জড়িয়ে ধরার পরপরই তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। পারভীনের কথাবার্তায় এলাকাবাসীর সন্দেহ হলে তারা থানা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ এসে সৈয়দ নূরের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য প্রেরণ করেন।
জাবেদের স্ত্রী জাহেদা যখন সৈয়দ নূরকে জুতাপেটা করছিলেন তখন ওই এলাকার মাহতাব আমিনসহ দুই ব্যক্তি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। মাহতাব আমিন জানান, জাহেদা তার স্বামীর বিরুদ্ধে নালিশ দেওয়ায় সৈয়দ নূরকে ইচ্ছেমতো জুতাপেটা করেন। ওই সময় সৈয়দ নূর তাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, তুই আমাকে জুতা দিয়ে মেরেছিস, আমি কিন্তু বিষপান করব।
স্থানীয় মোহাম্মদ আরিফ নামে এক সিএনজিচালিত অটোরিকশা বলেন, সৈয়দ নূর যখন বিষপান করেছিল তখন তাকে আমার গাড়িতে করে দোহাজারী ৩১ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে নেওয়া হয়। তখন তিনি মুমূর্ষু অবস্থায় বলেন, আমার যদি মৃত্যু হয় তাহলে আপনারা জাবেদ ও তার স্ত্রী জাহেদাকে ছাড়বেন না।
চন্দনাইশ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ইলিয়াছ খান বলেন, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। স্থানীয়দের মাধ্যমে পাওয়া বিভিন্ন তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অধিকতর তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন করা হবে।
আরিফুল/মাহফুজ