নাটোর শহরের কান্দিভিটুয়া এলাকায় মোটরসাইকেলের লাইট ভাঙা নিয়ে সংঘর্ষে আবুল কালাম (৪৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তার ছেলে কাউসার আলী (২৫) ও কাউসারের মামা শাহিন ওরফে সজল আহত হয়েছেন।
সোমবার (১৬ মার্চ) রাত দেড়টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্তরা হলেন, প্রতিবেশী আল হাফিজ, হাফিজের মামাতো ভাই ইমন ও হাফিজের মামা আব্দুল হাইসহ তাদের পরিবারের সদস্যরা।
প্রতিবেশী সূত্রে জানা গেছে, নিজ বাড়ির গলিতে মোটরসাইকেল রাখেন নিহতের ছেলে কাউসার আলী। একই গলি দিয়ে প্রতিবেশীর বাড়িতে আসবাবপত্র নিয়ে যাওয়ার সময় মোটরসাইকেলটির ইনডিকেটর লাইট ভেঙে যায়। এ নিয়ে প্রতিবাদের জেরে এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয় এবং আবুল কালাম খুন হন। রক্তাক্ত আহত হন তার ছেলে কাউসার। পরে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয় ও সংশ্লিষ্ট পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১ বছর আগে কান্দিভিটুয়া কদমতলা এলাকায় রং মিস্ত্রি আবুল কালামের বাড়ির পাশে অভিযুক্ত আল হাফিজ বাড়ি করলেও পৌরসভার নির্দেশনা অনুযায়ী পর্যাপ্ত রাস্তা না রাখায় একই রাস্তা উভয় পরিবার ব্যবহার করেন। এ নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ ছিল। গত দুই দিন আগে নিজ বাড়ির গলিতে মোটরসাইকেল রেখে বাড়িতে যান কাউসার। ওই সময় একই গলি দিয়ে আল হাফিজের বাড়িতে আসবাবপত্র নেয়ার সময় কাউসারের মোটরসাইকেলের ইনডিকেটর লাইট ভেঙে যায়। এই ঘটনায় কাউসারের মামা শাহীন ওরফে সজল, ঘাতক হাফিজের পরিবারকে অভিযোগ করলে, প্রথমে তারা ক্ষতিপূরণ দিতে না চাইলেও শেষে দেওয়ার আশ্বাস দেন।
সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ওই বিষয়ে কথা বললে তর্কাতর্কির জেরে হাফিজের মামা আব্দুল হাই শাহিন ওরফে সজলকে চড় মারেন। এ নিয়ে উভয় পরিবারে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। রাত দেড়টার দিকে বাড়ির পাশে কোরবানের চা দোকানে উভয় পক্ষ বিষয়টি নিয়ে কথা বলার এক পর্যায়ে কাউসারদের ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে আক্রমণ করে হাফিজ পরিবার। ওই সময়ে হাফিজের মামাতো ভাই ইমনসহ অন্যদের আক্রমণে আবুল কালাম, কাউসার ও শাহিন ওরফে সজল আহত হন। স্থানীয়রা তাদেরকে নাটোর সদর হাসপাতালে ভর্তির পর চিকিৎসক রাজশাহী মেডিকেল কলেজে রেফার্ড করেন। কিন্তু পথে আবুল কালাম মারা যান।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম মঙ্গলবার সকালে জানান, এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন আছে। মামলার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কামাল মৃধা/নাঈম