গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় জমিজমা নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে একটি সংখ্যালঘু পরিবারের ওপর হামলা করে ৪ নারী সদস্যসহ অন্তত ৬ জনকে আহত করা হয়েছে। এছাড়া ওই ভুক্তভোগী পরিবারের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
শুক্রবার (২০ মার্চ) বিকেলে উপজেলার মহুয়ার মোড়ে হামলার এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন- কোটালীপাড়া উপজেলার তারাশী গ্রামের বিষ্ণুপদ দাস (৪৫), তার স্ত্রী মুক্তা দাস (৩০), মেয়ে সুস্মিতা দাস (১৫), বোন লিজা দাস (২৫), পরিমল দাস (৬৫) ও রেনু রানী দাস (৬০)।
জানা গেছে, জমিজমা নিয়ে উপজেলার তারাশী গ্রামের বিষ্ণুপদ দাসের সঙ্গে একই গ্রামের দিদাদুর ইসলাম দিদার দাড়িয়া ও তার ভাতিজা সুমন দাড়িয়ার সঙ্গে বিরোধ চলে আসছিল। এর জের ধরে বৃহস্পতিবার রাতে দিদাদুর ইসলাম দিদার দাড়িয়া, তার ভাতিজা সুমন দাড়িয়া ও তাদের লোকজন বিষ্ণুপদ দাসের বাড়িতে গিয়ে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করে। এতে পরিমল দাস ও রেনু রানী দাস আহত হন।
পরে এ ঘটনায় আজ শুক্রবার বিকেলে বিষ্ণুপদ দাস ও তার পরিবারের সদস্যরা থানায় যাবার পথে উপজেলার মহুয়ার মোড়ে পৌঁছালে তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে বিষ্ণুপদ দাস, তার স্ত্রী মুক্তা দাস, মেয়ে সুস্মিতা দাস ও বোন লিজা দাস আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাদেরকে উদ্ধার করে কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। মারাত্মক আহত মুক্তা দাসকে হাসপাতালে
ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
আহত বিষ্ণুপদ দাস বলেন, আমি একটি জমি কিনলেও ওই জমিসহ আমার অন্য জমি দখল নিতে চায় দিদাদুল ইসলাম দিদার ও তার ভাতিজা সুমনসহ তাদের লোকজন। এতে বাধা দিলে প্রায় সময় আমাদের ওপর নির্যাতন চালিয়ে আসছিল। বৃহস্পতিবার রাতে আমাদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে ও নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র লটু করে।
তিনি আরও বলেন, বৃহস্পতিবারের ঘটনায় একটি অভিযোগ দেই থানায়। অভিযোগের বিষয়ে থানায় আসার পথিমধ্যে মুহুয়ার মোড়ে পৌছালে আমাদের ওপর আবার হামলা চালিয়ে মারধর করা হয়।
এ ব্যাপারে বক্তব্য নিতে দিদাদুর ইসলাম দিদার দাড়িয়ারকে ফোন করা হলেও অন্য কেউ রিসিভ করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ ব্যাপারে কোটালীপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রিয়াদ মাহমুদ বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাদল সাহা/সুমন/