বাংলাদেশের বুক চিরে বয়ে গেছে হাজারো নদী। দখল আর দুষণে দেশের অধিকাংশ নদীই মৃতপ্রায়। কালের পরিক্রমায় হারিয়ে গেছে তেমনই এক নদী, তার নাম ‘কলঙ্কিনী’।
এটি ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার মগটুলা ইউনিয়নের ধীতপুর ও বাগবেড় এলাকায় অবস্থিত। এই নদী ঘিরে মানুষের মুখে মুখে প্রচলিত রয়েছে নানান লোকগল্প।
প্রচলিত আছে, এ নদীর নামকরণ হয় একটি ঘটনার মধ্য দিয়ে। কোনো এক সময় ধীতপুর বাগবেড় গ্রামের ওই নদীতে একটি বড় সিন্দুকের সন্ধান পেয়েছিলেন কয়েকজন। পরে ওই সিন্দুকটি বেঁধে রাখা হয় নদীর পাড়ের একটি প্রকাণ্ড বটগাছের সঙ্গে। এর পর হঠাৎ একদিন শান্ত নদীটি অশান্ত হয়ে ওঠে। প্রচণ্ড স্রোত আর ভয়ংকর শব্দে বটগাছসহ উসমান নামে একজনের ভিটেমাটি নদীগর্ভে চলে যায়। এরপর থেকেই এ নদীর নাম হয় ‘কলঙ্কিনী’।
এই নদী নিয়ে আরও কিছু মিথ প্রচলিত আছে। এই নদীতে বিয়েশাদি কিংবা চল্লিশা অনুষ্ঠানের আয়োজনে যত বাসন-কোশন প্রয়োজন হতো, নদীর কাছে রাতে চাইলে চাহিদা অনুযায়ী সব বাসন-কোশন সকালে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় থাকতো। কিন্তু একদিন এক নারী লোভে পড়ে একটি থালা নিজের কাছে রেখে দেন। এতেই নদীর কলঙ্ক হয়। সেই থেকে এই নদীর নাম ‘কলঙ্কিনী’ নদী।
জানা যায়, বড়হিত হারহাইল বিল থেকে নবাবগঞ্জ বাজার হয়ে বাঁশাটি কুড়েরপাড় নাউরী হয়ে ধীতপুর বাঘবেড় হয়ে ‘কলঙ্কিনী’ বাকাইল বিলে গিয়ে মিলিত হয়েছে।
স্থানীয় আয়শা ছফির উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. বজলুর রশীদ খবরের কাগজকে বলেন, এ নদীকে ঘিরে অনেক লোকগল্প ও রহস্য রয়েছে। এ লোকগল্প আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে জানানো প্রয়োজন।
স্থানীয় আ. মজিদ (৫৫) বলেন, ‘এই নদীতে আমার মতো বড় গজার মাছ ছিল। মানুষ ভয় পাইতো মাছ দেইখ্যা। মুরব্বিদের মুখে শুনছি- মাইনষের বিয়াশাদি বা অনুষ্ঠান হইলে এই নদী থেকে বাসন-কোশন দিতো।’
ফয়সল আহমেদ/অমিয়/