রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে ড্রোন হামলায় ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার আবদুর রহিম (৩০) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। পরিবারের দাবি, ভালো বেতনের কথা বলে তাকে রাশিয়ায় নেওয়া হয়েছিল; কিন্তু দালাল চক্র তাকে ধোঁকা দিয়ে রুশ সেনাবাহিনীতে পাঠিয়ে দেয়।
সোমবার (১১ মে) সন্ধ্যায় ফুলবাড়িয়া উপজেলার পুটিজানা ইউনিয়নের পুটিজানা নামাপাড়া গ্রামে পরিবারের কাছে আবদুর রহিমের মৃত্যুর খবর পৌঁছায়। মঙ্গলবার (১২ মে) বাড়িতে স্বজন ও প্রতিবেশীদের ভিড় জমায়। ছেলের এমন আকস্মিক মৃত্যুর খবরে পরিবারটিতে চলছে মাতম।
নিহত আবদুর রহিম ফুলবাড়িয়া উপজেলার পুটিজানা নামাপাড়া গ্রামের আজিজুল হকের ছেলে। আ. রহিম গত বছর রাশিয়া গিয়েছিলেন। আজিজুল হক পুটিজানা ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি।
স্বজনরা জানান, আজিজুল হক ও রমিছা খাতুন দম্পতির তিন ছেলের মধ্যে সবার বড় ছিলেন আবদুর রহিম। গত ২ মে প্রতিপক্ষের ড্রোন হামলায় তিনি নিহত হন। রুশ সেনাবাহিনীতে একই ক্যাম্পে থাকা তার বন্ধু নরসিংদীর লিমন দত্ত ফেসবুক মেসেঞ্জারে কিশোরগঞ্জের তরুণ মো. রিয়াদ রশীদের মৃত্যুর খবর জানান। একইসঙ্গে আবদুর রহিমের মৃত্যুর খবরও রিয়াদের পরিবারের কাছে পাঠান। পরে রিয়াদ রশীদের পরিবার ও লিমন দত্তের মাধ্যমে আবদুর রহিমের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয় তার পরিবার।
নিহত রহিমের বাবা আজিজুল হক জানান, ২০১৪ সালে উচ্চমাধ্যমিক পাসের পর পরিবারের অভাব ঘোচাতে জমি বন্ধক রেখে ও ঋণ করে ২০১৫ সালে সিঙ্গাপুরে যান রহিম। সেখানে তিনি ওয়েল্ডিংয়ের কাজ করতেন। সাত বছর সিঙ্গাপুরে থাকার পর দেশে ফেরেন। দেশে বছরখানেক থাকার পর ২০২৪ সালের ৭ ডিসেম্বর পাঁচ লাখ টাকা খরচ করে তিনি রাশিয়ায় যান। পরিবার জানত, সেখানেও তিনি ওয়েল্ডিংয়ের কাজেই গেছেন। পরে জানা যায়, গত এক মাস রাশিয়ান সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ শেষে ১ মে তিনি কর্মস্থলে যোগ দেন। এরপর ২ মে যুদ্ধে অংশ নিতে গিয়ে ড্রোন হামলায় তার মৃত্যু হয়।
আজিজুল হক আক্ষেপ করে বলেন, ‘সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার ব্যাপারে আমরা কিছুই জানতাম না। অনেক কষ্ট করে ছেলেটাকে বিদেশ পাঠাইছি, আমাদের তো সবই শেষ।
আবদুর রহিমের মা রমিছা খাতুন বলেন, ‘আমার পুতে এক বছর ধইরা ওয়েল্ডিংয়ের কাম করতাছিন (করছিল)। দালাল ওই কোম্পানি থেইকা তাকে সৈনিকে নিয়া গেছে। আমরা কিছুই জানতাম না। ওরা আমার কলিজার টুকরারে শেষ কইরা দিল।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহ-৬ ফুলবাড়িয়া আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুল হাসান বলেন, ‘পরিবারটিকে নিয়ম অনুযায়ী উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে আবেদন দিতে বলেছি। আমি নিজে ও উপজেলা প্রশাসন এ ব্যাপারে সর্বাত্মক চেষ্টা করব পরিবারটির পাশে থাকব।
কামরুজ্জামান/নাঈম