ঝিনাইদহ-৪ (সদরের আংশিক ও কালীগঞ্জ উপজেলা) আসনের তিনবারের সাবেক সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনার হত্যাকাণ্ডের দুই বছর পূর্ণ হলো আজ। তবে বহুল আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের পূর্ণ রহস্য এখনো মেলেনি। নিহতের পরিবারও পায়নি মরদেহের খণ্ডিতাংশ কিংবা নিশ্চিত কোনো ফরেনসিক প্রতিবেদন।
২০২৪ সালের ১২ মে ভারতে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে যাওয়ার পর কলকাতার নিউটাউনের একটি ফ্ল্যাটে তিনি হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। এটি ছিল একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, যেখানে হানি ট্র্যাপের মাধ্যমে তাকে কলকাতার নিউটাউনের একটি ফ্ল্যাটে ডেকে নেওয়া হয়েছিল। পরে বাংলাদেশ ও ভারতের বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ খবর প্রচারিত হয়।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর থেকে মামলার তদন্তে বড় কোনো অগ্রগতি নেই, বিশেষ করে ভারতীয় তদন্ত প্রতিবেদন না আসায় বিচার প্রক্রিয়া বিলম্বিত হচ্ছে।
২০২৪ সালের এই আলোচিত হত্যাকাণ্ড দেশজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছিল। তবে দুই বছর পরও তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ার ধীরগতিতে নিহতের পরিবারের সদস্যরা হতাশা প্রকাশ করেছেন।
কলকাতায় উদ্ধার হওয়া দেহের খণ্ডাংশগুলো নিহত এমপি আনারের কি না, তা নিশ্চিত হতে তার মেয়ে মুমতারিন ফেরদৌস ডরিন ২০২৪ সালের নভেম্বরে ডিএনএ নমুনা দিয়েছিলেন, যার চূড়ান্ত প্রতিবেদন এখনো পাওয়া যায়নি।
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, হত্যার পর মরদেহ গুম করতে তা খণ্ড-বিখণ্ড করা হয়েছিল। পরে বাংলাদেশ পুলিশের তৎকালীন গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) প্রধান হারুনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম তদন্তে ভারতে গিয়ে মরদেহের কিছু খণ্ডাংশ উদ্ধারের তথ্য জানায়। একই সময়ে ভারতের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বাংলাদেশি নাগরিক কসাই জেহাদসহ তিনজনকে আটক করে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কলকাতার অদূরে একটি পুকুর থেকে কয়েক টুকরা হাড় উদ্ধার করা হয়। পরে সেগুলো ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়।
তবে নিহতের স্বজনরা অভিযোগ করেছেন, দুই বছর পার হলেও এখনো চূড়ান্ত ফরেনসিক প্রতিবেদন পরিবারকে জানানো হয়নি। এমনকি মরদেহের খণ্ডিত কোনো অংশও তারা পাননি। এ কারণে ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী জানাজা ও দাফন কাজ সম্পন্ন করতে পারেনি পরিবার।
এ বিষয়ে এমপি আনোয়ারুল আজিম আনারের কন্যা মুমতারিন ফেরদৌস ডরিন বলেন, বাবার হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে আমরা সে সময় বিভিন্ন গণমাধ্যমের মাধ্যমেই জেনেছি। কিন্তু এখনো বিচার প্রক্রিয়ায় দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি দেখতে পাচ্ছি না। হত্যাকাণ্ডে মামলার প্রধান আসামিসহ অন্যরা কীভাবে জামিন পায়, সেটিও আমাদের জন্য বড় প্রশ্ন।
তিনি বলেন, আমি কি আমার বাবার হত্যার বিচার পাবো? আমরা চাই, জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।
ডরিন আরও জানান, ভারতের প্রশাসনের আহ্বানে তারা ডিএনএ ও অন্যান্য নমুনা জমা দিয়েছিলেন, যাতে ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে মরদেহ শনাক্ত করা যায়। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো কোনো চূড়ান্ত প্রতিবেদন হাতে পাননি তারা। বাবার মরদেহের খণ্ডাংশ না পাওয়ায় এখনো জানাজা কিংবা দাফন সম্পন্ন করতে পারিনি। এমনকি মৃত্যুসনদ না পাওয়ায় পারিবারিক ও আইনি নানা কাজেও জটিলতা তৈরি হচ্ছে।
মাহফুজুর রহমান/নাঈম