পঞ্চগড়ে বিদেশি টমেটো আমদানি বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন করেছে টমেটো চাষি ও ব্যবসায়ীরা।
বুধবার (২০ মে) দুপুরে সদর উপজেলার গলেহা বাজারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে শতাধিক কৃষক ও ব্যবাসায়িরা অংশ নেন।
চাষিদের দাবি পঞ্চগড়ের বিভিন্ন এলাকায় এখনো যে পরিমাণ টমেটো আছে তা দিয়েই দেশে আরও দুই মাস টমেটোর চাহিদা মেটানো সম্ভব। কিন্তু হঠাৎ করে ব্যবসায়িদেও একটি সিন্ডিকেট বিদেশ থেকে টমেটো আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে৷ এ খবর ছড়িয়ে পড়ায় স্থানীয় এবং লগ্নিকারী টমেটো ব্যবসায়ীরা টমেটো কেনা বন্ধ করে দিয়েছেন। ফলে টমেটো চাষিরা বিপাকে পড়েছেন। তাদের দাবি এলসি করে টমেটো আমদানি বন্ধ না করলে চাষিরা লক্ষ লক্ষ টাকা লোকসানে পড়বে। তারা সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে টমেটো আমদানি বন্ধের দাবি জানান।
মানববন্ধনে স্থানীয় টমেটো চাষি আব্দুর রশিদ, মিজানুর রহমান, আইনুল হক ও টমেটো চাষি সোহেল রানা, ফারুখ হোসেন, রফিক হোসেন বক্তব্য দেন।
এ সময় বক্তারা আরও বলেন, মাত্র কয়েক দিন আগে আমরা ১৫শ’ থেকে ১৮’শ টাকায় টমেটো বিক্রি করতাম। এখন ব্যবসায়ীরা আগ্রহ দেখাচ্ছে না।
তারা বলেন, আমদানি হলে টমেটোর দাম কমে যাবে। এখন খেত থেকে টমেটো কিনে রাখলে ব্যবসায়ীরা লোকসানে পড়বে। আর এ জন্য তারা চাষিদেও কাছ থেকে টমেটো কিনছে না। বিক্রি করতে না পাড়ায় বর্তমানে খেতে টমেটো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। চাষিরা আরও বলছেন এক বিঘা জমিতে টমেটো চাষ করতে বীজ, সার, কীটনাশক ও শ্রমিক মজুরি মিলিয়ে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়। অনুকূল আবহাওয়া থাকলে প্রতি বিঘায় দেড়শ’ থেকে ২০০ মণ টমেটো উৎপাদনের আশা ছিল কৃষকদের৷ কিন্তু টানা চার দিনের বৃষ্টিতে সে আশা অনেকটাই ভেস্তে গেছে।
তবে এর মধ্যেও কিছুটা স্বস্তি রয়েছে বাজার দাম। কৃষকরা জানান, এ বছর উৎপাদিত টমেটো ৯০০ থেকে ১১০০ টাকা দরে বিক্রি করতে পারছেন, যা গত বছরের তুলনায় অনেক ভালো। গত বছর উৎপাদন খরচই তুলতে না পেরে অনেক কৃষক খেতেই টমেটো ফেলে রেখেছিলেন। সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারছেন এ বছর। কিন্তু সুফল পেতে না পেতেই আমদানিকারকদের কারণে আবার লোকসানে পড়তে হচ্ছে।
অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা বলছেন, সৈয়দপুর, রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যবসায়ীরা এসে পঞ্চগড়ে চাষিদের কাছ থেকে টমেটো কিনে দেশের বিভিন্ন জেলায় রপ্তানি করেন৷ এই টমেটো তারা ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, ফেনী, বরিশালসহ বিভিন্ন জেলার ব্যবসায়িদেরকে সরবরাহ করে।
আমদানিকারকদের একটি সিন্ডিকেট কয়েকদিন আগে হঠাৎ ঘোষণা দেন, বিদেশ থেকে টমেটো আমদানি করা হবে। ব্যবসায়ীরা বলছেন টমেটো আমদানি করলে স্থানীয় বাজার পড়ে যাবে। দেশে উৎপাদিত টমেটো অর্ধেকেরও কম দামে বিক্রি করতে হবে। বাজারের অবস্থা দেখার জন্য পঞ্চগড়ের টমেটো কেনা বন্ধ করে দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ীরা আরও জানান, পঞ্চগড়ের টমেটোর স্বাদ এবং গুণ অনন্য। বিভিন্ন জেলায় এর চাহিদা রয়েছে৷ জুলাই মাস পর্যন্ত এই জেলার টমেটো দিয়ে দেশের চাহিদা মেটানো সম্ভব।
পঞ্চগড় জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আব্দুল মতিন জানান, চলতি মৌসুমে জেলায় ৭৭৮ হেক্টর জমিতে টমেটোর আবাদ হয়েছে, যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি আবাদ হয়েছে সদর উপজেলায়। তবে সাম্প্রতিক বৃষ্টির কারণে কিছু এলাকায় ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে টমেটো এলসি করলে টমেটো চাষি এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
রনি মিয়াজী/নাঈম