টাঙ্গাইলের সোরাতৈল এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে রডবোঝাই ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৭ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১০ জন। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আহতদের টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সোমবার (২৫ মে) ভোর ৫টার দিকে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, নিহতদের মধ্যে ১৩ জনের বাড়ি নওগাঁর মান্দায় এবং অপর দুজনের বাড়ি রাজশাহীর তানোর উপজেলায়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ঢাকা থেকে উত্তরাঞ্চলের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া একটি রডবোঝাই ট্রাকে চালক ও সহকারীর পাশাপাশি বেশ কয়েকজন যাত্রীও ছিলেন। ভোরে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার সোরাতৈল এলাকায় পৌঁছালে ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে উল্টে যায়। এতে ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে এবং ছিটকে পড়ে ঘটনাস্থলেই ১৫ যাত্রীর মৃত্যু হয়। আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্ধারকাজে অংশ নেন। ট্রাকের নিচে আটকেপড়াদের উদ্ধারে কয়েক ঘণ্টা অভিযান চালানো হয়। গুরুতর আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফৌজিয়া হাবিব জানান, দুর্ঘটনার পরপরই মহাসড়কে যান চলাচলে কিছুটা বিঘ্ন সৃষ্টি হলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ঈদুল আজহা সামনে রেখে মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বেড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে পণ্যবাহী ট্রাকে যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে, যা বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে।
তাদের মতে, অতিরিক্ত যাত্রী বহন এবং দ্রুতগতির কারণে দুর্ঘটনাটি আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।
টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক আহত ব্যক্তি জানান, হঠাৎ করেই ট্রাকটি দুলতে শুরু করে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই সেটি উল্টে যায়। এরপর চারদিকে চিৎকার-আর্তনাদ শুরু হয়। অনেকেই ট্রাকের নিচে চাপা পড়েন।
হাসপাতালে স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। আহত ও নিহতদের পরিবারের সদস্যরা দ্রুত দুর্ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে ছুটে আসেন। স্বজনদের অনেকেই ঘটনার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে এবং ঝুঁকিপূর্ণভাবে যাত্রী বহন বন্ধের দাবি জানান।
এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ শরীফ হোসেন জানান, ট্রাকটি ঢাকা থেকে উত্তরাঞ্চলের দিকে যাচ্ছিল। চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে ট্রাকটি উল্টে যায়। দুর্ঘটনার সময় ট্রাকে অতিরিক্ত যাত্রী ছিল এবং ঘটনাস্থলেই বহু মানুষের মৃত্যু হয়।
এদিকে, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। নিহতদের পরিচয় শনাক্ত ও মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দুর্ঘটনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
অমিয়/