গাইবান্ধা পৌরসভার উপ-সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) মোহাম্মদ শফিউল ইসলামের বিরুদ্ধে ঘুষ ছাড়া বিল না ছাড়ার অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) তার ঘুষ লেনদেনের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ১০ মিনিট ১৬ সেকেন্ডের ওই অডিওতে তাকে ঘুষ চাইতে শোনা যায়।
অডিওতে শোনা যায়, কয়েকজন মিলে ঘুষ লেনদেনের দরকষাকষি করছেন। এতে একজন বলেছেন, ‘আপনি কত দেবেন। উত্তরে অন্যজন বলেন, ঠিকাদারি সিস্টেমে হিসাব করে দেবেন। ছয় পার্সেন্ট।’ একপর্যায়ে প্রকৌশলী শফিউল ইসলামকে বলতে শোনা যায়, ‘আপনার ফাইল আটকে আছে। আপনার ভাগের (পার্সেন্ট) টাকা দেন। এখন ফাইল পার করলে এক লাখ টাকা দিতে হবে। শোনেন, আজরাইল জান কবজ করার জন্য এলে কিছু সুযোগ-সুবিধা বা ছাড় দেয়, কিন্তু এখানে কোনো ছাড় হবে না। আমি যা বলার আগে বলে দিয়েছি। টাকা ছাড়া কাজ হবে না।’
এর আগে শফিউল ইসলামের ঘুষবাণিজ্যের শিকার ঠিকাদার ফিরোজ কবির অডিওতে শুনতে পাওয়া স্বর ওই উপ-সহকারীর বলে নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ এনে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে একজন ঠিকাদার গত জানুয়ারিতে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা বরাবর অভিযোগ দেন। যার অনুলিপি দেওয়া হয় জেলা প্রশাসককে।
অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার শাখার পক্ষে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আল মামুন গত ৫ ফেব্রুয়ারি সরেজমিনে তদন্ত করেন। কিন্তু তদন্তের এক মাস পেরিয়ে গেলেও প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়নি। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, মোহাম্মদ শফিউল ইসলাম প্রায় ১৩ বছর ধরে গাইবান্ধা পৌরসভা কার্যালয়ে চাকরি করছেন। ঘুষ ছাড়াও ওই প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে দুর্ব্যবহার, অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ হওয়া টাকার ছয় শতাংশ তাকে ঘুষ দিলেই কেবল তিনি ফাইল ছাড়েন। পৌরসভায় বাড়ির নকশা অনুমোদনের জন্য তাকে চার থেকে পাঁচ লাখ টাকা ঘুষ দিতে হয়।
গত ২০২০-২০২১ অর্থবছরে মেসার্স সুজন ফার্নিচার নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান একটি প্রকল্পের কাজ পায়। নিয়ম অনুযায়ী প্রকল্পের কাজ শেষ করে ঠিকাদার বিল উত্তোলন করতে যান। কিন্তু প্রকৌশলী মোহাম্মদ শফিউল ইসলাম বিলের ছয় শতাংশ টাকা ঘুষ দাবি করেন। একপর্যায়ে ঠিকাদার ঘুষ দিতে বাধ্য হন।
ঠিকাদার ফিরোজ কবির বলেন, ‘কাজ চলমান অবস্থায় তাকে (শফিউল ইসলাম) টাকা দিতে হয়েছে। বিল উত্তোলন করতে গিয়ে বাধ্য হয়ে ঘুষ দিতে হয়েছে। শুধু আমাকে নয়, সবাইকে তিনি ঘুষ দিতে বাধ্য করেন। লাইসেন্স হারানোর ভয়ে কেউ তার বিরুদ্ধে কথা বলেন না।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ঠিকাদার বলেন, ‘প্রকৌশলী শফিউল ইসলাম ঘুষ লেনদেনের জন্য একটি চক্র তৈরি করেছেন। আমি নিজেও ওই প্রকৌশলীকে পাঁচ লাখ ৫০ হাজার টাকা দিয়ে বিল তুলেছি।’
ভাইরাল হওয়া অডিওর বিষয়ে উপ-সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) মোহাম্মদ শফিউল ইসলাম বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করব না। অভিযোগের তদন্ত প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’