পাবনায় পদ্মা নদী থেকে বস্তাবন্দি অজ্ঞাত কিশোরীর মরদেহের পরিচয় মিলেছে। উন্মোচিত হয়েছে হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য। নিহত কিশোরীর নাম রিয়া খাতুন (১৫)।
রিয়ার বাড়ি পাবনা সদর উপজেলার ভাড়ারা ইউনিয়নের পূর্ব রাঘবপুর গ্রামে। তার বাবার নাম আজিজুল প্রামানিক। সে মাওলানা কাসিমুদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণির ছাত্রী ছিল।
চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারী প্রেমিকসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। উদ্ধার করা হয়েছে মরদেহ পরিবহনে ব্যবহৃত একটি সাদা রঙের প্রাইভেটকার।
গ্রেপ্তার তিনজন হলেন- মূলহোতা প্রেমিক পাবনা সদর উপজেলার ভাড়ারা ইউনিয়নের পূর্ব রাঘবপুর গ্রামের মো. নাঈম এবং তার দুই সহযোগী একই গ্রামের ইয়াসিন শেখ ও তুহিন প্রামানিক।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্কে টানাপোড়েন ও আর্থিক লেনদেনে বিরোধে প্রেমিক নাঈম তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। পরে বন্ধুদের সহযোগিতায় মরদেহ বস্তায় ভরে পদ্মা নদীতে ফেলে দেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (২ মে) আনুমানিক বেলা ১১টার দিকে রিয়া খাতুন প্রেমিক নাঈমের বাসায় বেড়াতে যায়। সেখানে উভয়ের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের একপর্যায়ে কিছু আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কথা-কাটাকাটি হয়। পরবর্তীতে তা বিরোধে রূপ নিলে নাঈম ক্ষিপ্ত হয়ে রিয়া খাতুনকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন।
হত্যার পর নাঈম ঘটনা গোপন করার জন্য তার দুই সহযোগী একই গ্রামের ইয়াসিন শেখ ও তুহিন প্রামানিককে ঘটনাস্থলে ডেকে আনেন। তারা রিয়ার দুই হাত দড়ি দিয়ে বাঁধে এবং গলায় একটি বাজারের ব্যাগ পেঁচিয়ে মুরগির খাবারের বস্তায় ভরেন। এরপর রাত সাড়ে ১০টার দিকে রিয়ার বস্তাবন্দি মরদেহ পদ্মা নদীতে ফেলতে যায়।
নদীর তীরে নিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ প্রাইভেটকারটি নষ্ট হয়ে গেলে গাড়ির ভেতরে মরদেহ থাকা অবস্থাতেই চারজন যুবককে গাড়ি ঠেলতে দেখে স্থানীয়রা এগিয়ে আসেন। মানবিক কারণে স্থানীয়রা গাড়িটি ঠেলে বলরামপুর মুজিব বাঁধ পর্যন্ত পৌঁছে দেন। তবে যুবকদের সন্দেহজনক আচরণে স্থানীয়দের মনে সন্দেহ তৈরি হয়। শেষ পর্যন্ত স্থানীয়দের সেই সন্দেহের সূত্র ধরেই ঘটনার জট খুলল পুলিশ।
পরে বুধবার (৩ মে) সকাল ১০টার দিকে পাবনা সদরের ভাড়ারা ইউনিয়নের বলরামপুর পীরপুর-সংলগ্ন পদ্মা নদীর তীরে কৃষকেরা চরে কাজে যাওয়ার সময় একটি নৌকার পাশে বস্তা ভাসতে দেখেন। পরে তারা বস্তার মুখ কেটে হাত-পা বাঁধা কিশোরীর মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।
মরদেহ উদ্ধারের পর তদন্তে নামে পুলিশ। তদন্তকারীরা স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য এবং বলরামপুর স্কুলের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ডে জড়িত নাঈম, ইয়াসিন ও তুহিনকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাদের স্বীকারোক্তিতে মরদেহ বহনকারী প্রাইভেটকারটি জব্দ করা হয়।
পাবনা জেলা পুলিশ সুপার মো. ছুফি উল্লাহ জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছেন। ঘটনার সঙ্গে অন্য কোনো ব্যক্তি জড়িত আছেন কি-না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আমিনুল জুয়েল/তামান্না রুপা/