যশোরে এক মাসেরও বেশি সময় আগে অপহৃত কাপড় ব্যবসায়ী রেজাউল ইসলামের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রবিবার (২৭ এপ্রিল) বিকেলে সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার দক্ষিণ একসরা গ্রামের একটি বাগান থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসনাত জানান, ঘটনার মূল অভিযুক্ত সবুজকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তারের পর তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী অভিযান চালিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। অভিযানকালে সবুজের শ্বশুর খোকন মোল্লাকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, যশোর শহরের শংকরপুর ইসহাক সড়কের বাসিন্দা রেজাউল ইসলাম স্থানীয়ভাবে কাপড় ও টেইলার্সের ব্যবসা করতেন। তিনি কামরুল ইসলামের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। একই বাড়িতে থাকতেন রিপন হাওলাদার ও সবুজ নামে দুই যুবক, যাদের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
রেজাউল সম্প্রতি পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া বাড়িসহ দুই শতক জমি বিক্রির সিদ্ধান্ত নেন। এর পর সবুজ ও রিপনের সহায়তায় বাড়িসহ জমিটি ২১ লাখ টাকায় বিক্রি করেন। সেই টাকা লেনদেনের কথা বলে গত ২২ মার্চ রাত সাড়ে ১২টার দিকে রেজাউলকে মোবাইলে ডেকে নেন সবুজ ও রিপন। এর পর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন।
এ ঘটনায় পরিবার প্রথমে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে। পরে অপহরণ ও গুমের অভিযোগে সবুজ ও রিপনসহ অজ্ঞাত আরও তিনজনের নামে থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।
ওসি আবুল হাসনাত জানান, তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্তদের সনাক্ত করে গত শনিবার (২৬ এপ্রিল) চট্টগ্রাম থেকে সবুজ ও রিপনকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা রেজাউলকে হত্যা ও মরদেহ গুমের কথা স্বীকার করেন।
তাদের দেওয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, রেজাউলকে যশোরেই হত্যা করে মরদেহ বস্তাবন্দি করা হয়। এর পর ইজিবাইকে করে কিছুদূর নিয়ে গিয়ে একটি অ্যাম্বুলেন্স ও পরে বাসে করে সাতক্ষীরায় নিয়ে যাওয়া হয়। সবুজ তার শ্বশুরবাড়ির পাশে একটি বাগানে মরদেহটি পুঁতে রাখে। পরে তার শ্বশুর খোকন মোল্লা মরদেহটি উত্তোলন করে পাশের আরেকটি বাগানে পুনরায় পুঁতে রাখেন।
এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং পুলিশ বলেছে, খুব শিগগিরই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে ব্রিফ করবেন।
তুহিন/তাওফিক/