সারা দেশে ২০২৪ সালে ৩৬৪টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। কিন্তু চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ছয় মাসে এই সংখ্যা ৩৫৪ জনে ঠেকেছে। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের করা এক সমীক্ষায় এমন চিত্র উঠে এসেছে।
গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ আয়োজিত ‘বাংলাদেশে নারী ও কন্যা নির্যাতন: ২০২৪ সমীক্ষা’ প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের আনোয়ারা বেগম মুনিরা খান মিলনায়তনে এ আয়োজন করা হয়।
সমীক্ষা প্রতিবেদনের তথ্য উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সিনিয়র প্রশিক্ষণ ও গবেষণা কর্মকর্তা আফরুজা আরমান। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে নারী ও কন্যা নির্যাতন চিত্র-২০২৪ শিরোনামে প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনটি বাংলাদেশে নারীর প্রতি সহিংসতার প্রকৃতি, বর্তমান অবস্থা ও প্রভাবগুলোর একটি সুস্পষ্ট চিত্র উপস্থাপন করেছে। ধর্ষণ, দলবদ্ধ ধর্ষণ, ধর্ষণের চেষ্টা, উত্ত্যক্তকরণ ও যৌন হয়রানি, যৌতুক, বাল্যবিয়ে, গৃহকর্মী নির্যাতন ও সাইবার অপরাধ- এই আট ধরনের নির্যাতনের মাত্রা পত্রিকায় প্রকাশিত খবরে বেশি পরিলক্ষিত হওয়ার কারণে এগুলো নিয়ে সমীক্ষা প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। সমীক্ষার তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির বা ওই বয়সী কন্যারা বেশি ধর্ষণের ঘটনার মতো যৌন সহিংসতার শিকার হচ্ছে। অপরাধী ও ভুক্তভোগী উভয়ই তরুণ বয়সের।’
মডারেটরের বক্তব্যে ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, ‘গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য থেকে দেখা যায় নারী ও কন্যার প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে নারী আন্দোলনের ব্যাপ্তি বেড়েছে, এখানে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে নারী নির্যাতনকে প্রতিরোধ করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হলে উপজেলা, তৃণমূলে তার প্রভাব বেশি পড়ে, ফলে সহিংসতার ঘটনা বেশি ঘটে। সমীক্ষায় অপরাধী ও ভিকটিমকে অল্প বয়সের দেখা গেছে, এটা ভালো সমাজ গড়ে তোলার পথে একটা বড় প্রতিবন্ধকতা। আমরা দেখেছি যে যুবক ধর্ষণের ঘটনায় একবার জড়িয়ে যায়, সে বার বার একই ঘটনায় লিপ্ত হচ্ছে। এ বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক যে, অল্প বয়সী তরুণরা যৌন সহিংসতার মতো অপরাধমূলক ঘটনায় জড়িয়ে পড়ছে। ক্ষমতাসীনরাও অপরাধের সঙ্গে জড়িত।’
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সীমা মোসলেম, লিগ্যালএইড সম্পাদক রেখা সাহা এবং লিগ্যাল অ্যাডভোকেসি ও লবি পরিচালক অ্যাডভোকেট দীপ্তি শিকদার।