বজ্রবৃষ্টির মধ্যে নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়ায় এক বৃদ্ধাকে হত্যার পর স্বর্ণালংকার লুট করা হয়েছে। একই সময়ে নাটোর সদর উপজেলার সুগারমিল এলাকায় এক তরুণীকে কুপিয়ে জখম করার ঘটনা ঘটেছে।
নিহত ওই বৃদ্ধার নাম মমতাজ বেগম (৭০)। তিনি বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়া পৌর শহরের সরদারপাড়া মহল্লার ইঞ্জিনিয়ার শফিউল্লাহর স্ত্রী। অপরদিকে জখম ওই নারীর নাম নুসরাত জাহান ইমু (২৪)। তিনি নাটোর সুগারমিল স্টাফ নূর ইসলামের মেয়ে।
রবিবার (৫ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুর রহমান এবং বনপাড়া পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জ সুমন চন্দ্র দাস বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জখম ইমুর বাবা নূর ইসলাম জানান, রবিবার দিনব্যাপী থেমে থেমে বজ্রবৃষ্টি হচ্ছিল। রাত সাড়ে ৮ টার দিকে মেয়ে ইমু ডাইনিং রুমে খাবার খাচ্ছিলেন। পাশের রুমে তার স্ত্রী, ইমুর সন্তানসহ টিভি দেখছিলেন। হঠাৎ মুখোশধারী চার দুর্বৃত্ত বাড়িতে ঢুকেই ইমুকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে পাশে নিয়ে কুপিয়ে জখম করে। ইমুর চিৎকারে অন্য ঘর থেকে সবাই এগিয়ে এলে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে তিনি মেয়েকে নাটোর সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।
নাটোর সদর হাসপাতালের মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. সুব্রত কুমার বলেন, ইমুর দুই হাতে ৬টি ও পেটে ৮টি জখম রয়েছে। সেলাইসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুর রহমান বলেন, ঘটনাটি জানার পর হামলাকারীদের শনাক্ত ও আটকে পুলিশ কাজ করছে।
অপরদিকে বনপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর সুমন চন্দ্র দাস নিহত মমতাজের স্বজনের বরাতে জানান, রবিবার সন্ধ্যার দিকে গৃহকর্মী চলে যান। এশার আযান দিলে প্রহরী মসজিদে নামাজ পড়তে যান। রাত সাড়ে ৮ টার দিকে একাই বাসায় ছিলেন মমতাজ বেগম। এশা নামাজ শেষে প্রহরী কাজী আবু শামা (৬০) ফিরে দেখেন মমতাজ বেগম রক্তাক্ত অবস্থায় নিজ ঘরের মেঝেতে পড়ে আছেন। তার মুখমণ্ডল থ্যাঁতলানো। এ সময় আবু শামা চিৎকার দিলে প্রতিবেশীরা এসে তাকে বনপাড়া পাটোয়ারী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
মমতাজ বেগমের ছেলে জাকির হোসেন মঞ্জু জানান, ফাঁকা বাড়িতে পূর্বপরিকল্পিতভাবে দুর্বৃত্তরা তার মাকে নৃশংসভাবে হত্যা করে দুই হাতে থাকা স্বর্ণের বালা-চুড়ি এবং আঙুলে থাকা তিনটি সোনার আংটি ও গলার চেইন খুলে নিয়েছে।
এক প্রশ্নের জবাবে পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর সুমন চন্দ্র দাস জানান, আসামিদের গ্রেপ্তারে কাজ করছে থানা পুলিশ ও পিবিআই।
কামাল/মেহেদী/