রাজধানীর দক্ষিণ বনশ্রীতে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফাতেমা আক্তার লিলি হত্যার কারণ জানালেন গ্রেপ্তার হোটেল কর্মচারী মো. মিলন মল্লিক। র্যাব জানায়, ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে মিলনের সুসম্পর্ক ছিল। পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনাও ছিল তাদের। তবে শেষ পর্যন্ত না যাওয়ায় তাকে হত্যা করে মিলন।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) সকালে র্যাব এক বার্তায় মিলনকে গ্রেপ্তারের তথ্য নিশ্চিত করে। পরে তাকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর এই তথ্য জেনেছে র্যাব।
র্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার আসামি মিলন মল্লিক জানান- ভুক্তভোগীর সঙ্গে তার সুসম্পর্ক ছিল। লিলি তাকে বিভিন্ন সময় আকার ইঙ্গিতে প্রেমের সম্পর্কের বহিঃপ্রকাশ করত এবং তার পরিবার বাসা থেকে গ্রামের বাড়িতে গেলে সে তার সঙ্গে পালিয়ে যাবে বলে জানায়।
মিলন র্যাবকে জানান, সেই পরিকল্পনা অনুসারে ঘটনার দিন দুপুরে মিলন লিলিকে নিয়ে পালিয়ে যেতে প্রস্তাব দেয়। কিন্তু লিলি জানায়, রেস্তোরাঁর মালিকের মেয়ে হয়ে রেস্তোঁরা-কর্মচারীর সঙ্গে সে যাবে না এবং সে বলে– ‘বামন হয়ে চাঁদের দিকে হাত বাড়াও’।
র্যাব জানায়, তখন মিলনের এই প্রস্তাবে সহযোগিতা না করার জন্য সে এই হত্যাকাণ্ড ঘটায়। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত তথ্য আরও জিজ্ঞাসাবাদে ও পরবর্তী তদন্তে বেরিয়ে আসবে।
এরআগে শনিবার দুপুরে দক্ষিণ বনশ্রীর ‘প্রীতম ভিলা’য় এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
নিহত লিলি (১৭) স্থানীয় রেডিয়েন্ট স্কুলের শিক্ষার্থী ছিল। সে হবিগঞ্জ জেলার লাখাই থানার বামৈন গ্রামের সজীব মিয়ার মেয়ে।
ওই হত্যার ঘটনায় গতকাল রবিবার সকালে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে খিলগাঁও থানায় একটি মামলা করা হয়। এই হত্যা মামলার প্রধান আসামি হোটেল কর্মচারী মিলন।
হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করে খিলগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ শনিবার বিকেলের দিকে খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। লিলি আক্তার নামের ওই তরুণীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তাঁর গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাত ছিল। ঠিক কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। রহস্য উদঘাটনে আমরা কাজ করছি।’
>> বনশ্রীতে স্কুলছাত্রী লিলি হত্যায় হোটেলকর্মী মিলন বাগেরহাট থেকে গ্রেপ্তার
অমিয়/