গাজীপুর মহানগরীতে সুদের পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে রানু বেগম ওরফে রানী (৪৫) নামে এক নারী ব্যবসায়ী ছুরিকাঘাতে খুন হয়েছেন। এ ঘটনায় তার ছেলে হৃদয় (২২) আহত হয়েছেন।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানার আওতাধীন ৩৫নং ওয়ার্ডের পশ্চিম কলমেশ্বর এলাকার দুলাল মার্কেটের কাছে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত রানু বেগম ওরফে রানী (৪৫) ‘রানী ফ্যাশন গ্যালারি’ নামের একটি নারী পোশাকের দোকানের মালিক ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রানী দীর্ঘদিন ধরে কাপড় ব্যবসার পাশাপাশি এলাকায় সুদের ভিত্তিতে টাকা লেনদেন করতেন। একই এলাকার মুদি দোকানদার নজরুল ইসলাম ও তার ছেলে আশিকের কাছে পাওনা টাকা দাবি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে শনিবার সকালে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে নজরুলের ছেলে আশিক ধারালো ছুরি দিয়ে রানীর বুকে আঘাত করে।
এ সময় মাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসার চেষ্টা করলে রানীর ছেলে হৃদয়কেও (২২) ছুরিকাঘাতের চেষ্টা করা হয়। এতে মা-ছেলে দুজনই গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে গাজীপুর শহিদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে দুপুর ১টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক রানীকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত হৃদয় বর্তমানে ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, প্রধান অভিযুক্ত আশিক গাজীপুর মহানগর ছাত্রদলের গাছা থানার ৩৫নং ওয়ার্ড শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তবে এ বিষয়ে গাজীপুর মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি রোহানুজ্জামান শুক্কুর বলেন, ‘আমরা কোনো অপরাধী কর্মকাণ্ডকে প্রশ্রয় দিই না। আশিক যদি দোষী হয়ে থাকে, তাহলে তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। বর্তমানে সে সংগঠনের কোনো কার্যক্রমে যুক্ত নয়।’
নিহতের ছেলে হৃদয় বাদী হয়ে গাছা মেট্রো থানায় নজরুল, আশিক, রনি ও আশিকের পিতাসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও তিনজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেছেন। আসামীরা সবাই একই এলাকার বাসিন্দা।
গাছা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) কামরুজ্জামান লিটন জানান, নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
এদিকে গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পাওনা টাকা সংক্রান্ত বিরোধের জেরেই হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত ঘটে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।’
পলাশ প্রধান/রিফাত/