সুন্দরবনের মান্দারবাড়িয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিপন্ন প্রজাতির শিকার নিষিদ্ধ ৪০০ কেজি শাপলা পাতা মাছসহ দুটি ট্রলার জব্দ করেছে বনবিভাগ। এ সময় মৎস্য শিকারের সরঞ্জামসহ ২২ জন জেলেকে আটক করা হয়েছে।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) মাছসহ জব্দকৃত দুটি ট্রলার ও আটক জেলেদের নিয়ে লোকালয়ে ফেরে বনবিভাগের সদস্যরা। এর আগে শুক্রবার সুন্দরবনের মান্দারবাড়িয়া অভয়ারণ্য এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।
বনবিভাগ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে নিয়মিত টহল কার্যক্রমের অংশ হিসেবে মান্দারবাড়িয়া সংলগ্ন নদী এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় সন্দেহজনকভাবে মাছ আহরণের সময় দুটি ট্রলারসহ জেলেদের আটক করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া পশ্চিম সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মো. মশিউর রহমান জানান, জেলেরা অনুমতি ছাড়া সংরক্ষিত বনাঞ্চলে প্রবেশ করে অবৈধভাবে মাছ আহরণ করছিলেন।
তিনি আরও জানান, আটক ব্যক্তিরা অনুমতি ছাড়া সংরক্ষিত বনাঞ্চলে প্রবেশ করে শিকার নিষিদ্ধ শাপলা পাতা মাছ আহরণ করছিলেন। অভিযানকালে দুটি ট্রলার থেকে দড়ি বড়শি, বরফের বক্সসহ মাছ ধরার বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি ৪১০ কেজি বিপন্ন প্রজাতির শিকার নিষিদ্ধ শাপলা পাতা মাছ জব্দ করা হয়। পরে শনিবার দুপুরে আটক জেলেদের বিরুদ্ধে বন আইনে পৃথক দুটি মামলা করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এছাড়াও জব্দকৃত বিপন্ন প্রজাতির শিকার নিষিদ্ধ শাপলা পাতা মাছগুলো সাতক্ষীরা রেঞ্জের এলাকার সুন্দরবন সংলগ্ন নদীর চরে পুঁতে ফেলা হয়েছে।
আটক জেলেরা হলেন, পটুয়াখালীর মহিপুর থানার আলীপুর গ্রামের জামাল হওলাদার (৩২), মো. কালু (৪৮), ফরহাদ (৩০), মো. ইয়াছিন খান (৪০), দুলাল গাজী (৩০), মো. হানিফ হাওলাদার (৪০), রাজীব হাওলাদার (অপ্রাপ্তবয়স্ক), ইব্রাহিম (অপ্রাপ্তবয়স্ক), মহিপুর গ্রামের মো. ছমেদ (৪৫), চাপলি গ্রামের মো. রাসেল (৩০), তালতলী থানার তালতলী গ্রামের ইসমাইল (অপ্রাপ্তবয়স্ক), পটুয়াখালী সদরের দক্ষিণ বড়বিঘা গ্রামের মো. শরিফ মিয়া (অপ্রাপ্তবয়স্ক) ও বাগেরহাটের মোল্লাহাটের কোদালীয়া গ্রামের মো. শফিকুল খানসহ (২০) মোট ২২জন।
উল্লেখ্য, শাপলা পাতা মাছের বৈজ্ঞানিক নাম ‘স্টিংরেস’। আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘ (আইইউসিএন) এই মাছকে বিপন্নপ্রায় প্রজাতি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছে। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন ২০১২ সালের আইন অনুযায়ী শাপলা পাতা মাছ শিকার নিষিদ্ধ।
নাঈম/