সুন্দরবনের দস্যু জোনাব বাহিনীর হাতে অপহৃত জেলে সফিকুল ইসলাম মুক্তিপণের ৭০ হাজার টাকা পরিশোধ করে বাড়িতে ফিরেছেন।
বুধবার (১৮ মার্চ) রাতে তিনি সুন্দরবনের গহীন থেকে তার সঙ্গী অন্য জেলেদের সহযোগিতায় বাড়িতে পৌঁছান।
সফিকুল ইসলাম (৩৭) সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের হরিনগর গ্রামের ইলিয়াস গাজীর ছেলে।
এর আগে, গত শনিবার সন্ধ্যার দিকে সুন্দরবনের ফিরিঙ্গি নদীর কুকোমারী খাল থেকে জোনাব বাহিনী পরিচয়ে একদল জলদস্যু তাকে অপহরণ করে।
সফিকুল ইসলাম জানান, আট সদস্যের জলদস্যু দলটি তাকে অপহরণ করে শুরুতে এক লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছিল। পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের কদমতলা স্টেশন থেকে সম্প্রতি পাশ (অনুমতিপত্র) নিয়ে তার শ্যালক সামাদ আলী (২৩) ও ইব্রাহিম হোসেন (৪৫)সহ তারা তিনজন মাছ শিকার করতে সুন্দরবনে যান। পরবর্তীতে শনিবার সন্ধ্যায় তিনজনের মধ্য থেকে তাকে জলদস্যুরা অপহরণ করে এবং তার সঙ্গী অপর দুজনকে মুক্তিপণের টাকা সংগ্রহের শর্তে ছেড়ে দেয়।
সফিকুল ইসলামের সহযোগী জেলে ইব্রাহিম জানান, জলদস্যুরা তার পাশাপাশি অপর একজন জেলেকেও একই নদী থেকে এক দিন আগে অপহরণ করে। নাম-পরিচয় জানাতে না পারলেও ওই জেলের বাড়ি শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
ইব্রাহিম আরও জানান, টাকা নির্ধারিত সময়ে দিতে না পারায় জলদস্যুরা গাবুরার ওই জেলেকে তাদের সামনে মারপিট করেছে।
সফিকুল ও তার দুই সহযোগী জানান, এসব জলদস্যু ভারতীয় সীমান্তভিত্তিক। জেলেদের অপহরণ করার পরপরই তারা সুন্দরবনের ভারতের অংশে ঢুকে পড়ে।
বুড়িগোয়ালীনি স্টেশন অফিসার ফজলুল হক খবরের কাগজকে জানান, একজন জেলে মুক্তিপণ দিয়ে ফিরেছে বলে তিনি লোকমুখে শুনেছেন।
শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. খালেদুর রহমান জানান, জলদস্যুদের হাতে অপহৃতরা সাধারণত নিজেদের মধ্যে বিষয়টি মিমাংসা করে নেয়। সেজন্য তারা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে গোপন রাখে। তবে বিষয়টির খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।
সুলতান শাহজাহান/অমিয়/