পাবনার সুজানগরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে স্থানীয় বিএনপি সমর্থিত দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রতিপক্ষের গুলিতে চায়না খাতুন (৪০) নামে এক গৃহবধূ নিহত হয়েছেন। এই সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।
সোমবার (২৩ মার্চ) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার মানিকহাট ইউনিয়নের ভিটবিলা পশ্চিমপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত চায়না খাতুন ওই গ্রামের শুকুর আলীর স্ত্রী।
আহতদের সুজানগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এলাকার আধিপত্য বিস্তার নিয়ে হাটখালী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রাফিউল ইসলাম রাজা গ্রুপের সঙ্গে মানিকহাট ইউনিয়নের ভিটবিলা গ্রামের বিএনপি সমর্থক ইসলাম প্রামাণিক গ্রুপের দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছিল। গতকাল রবিবার রাতে দুই পক্ষের তরুণদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে, যা নিয়ে রাত থেকেই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল।
স্থানীয় ৯নং ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য হাবিবুর রহমান বলেন, ‘দুই পক্ষই বিএনপি সমর্থক। গত রাতে ভিটবিলা পশ্চিমপাড়া ও পূর্বপাড়া এলাকার ছেলেদের মধ্যে ঝামেলা হয়। এরপর পশ্চিমপাড়া (ইসলাম গ্রুপ) ঘোষণা দেয় যে, তারা পূর্বপাড়ার (রাজা গ্রুপ) কাউকে বাজারে যেতে দেবে না। আজ সকালে তারা লাঠিসোঁটা নিয়ে বাজারে পাহারায় বসে। পরে পূর্বপাড়ার লোকজন একজোট হয়ে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়।’
ভুক্তভোগী পক্ষের ইসলাম প্রামাণিক অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার ভাগ্নে ফরহাদ আওয়ামী লীগ সমর্থক হওয়ায় রবিবার রাতে তাকে মারধর করে রাজা গ্রুপের লোকজন। আমি সমঝোতা করতে গেলে আমাকেও মারে। আজ সকালে আমরা যখন মুরুব্বিদের নিয়ে আলোচনার জন্য জড়ো হচ্ছিলাম, তখন রাজার নেতৃত্বে তার লোকজন অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত গুলি ও হামলা চালায়। তাদের গুলিতে চায়না খাতুন স্পটেই মারা গেছেন।’
অন্যদিকে, অভিযুক্ত রাফিউল ইসলাম রাজা তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘ঘটনার বিষয়ে আমি কিছুই জানি না, আমি এক আত্মীয়ের বিয়ের দাওয়াতের কাজে বাইরে ছিলাম। আমাকে ফাঁসানোর জন্য এটি একটি ষড়যন্ত্র।’
সুজানগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খঈম উদ্দিন গৃহবধূর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গুলিতেই ওই নারীর মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।
সুজানগর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার সাদিক আহমেদ খবরের কাগজকে বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। মরদেহ সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে। হামলার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।
বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
আমিনুল ইসলাম/অমিয়/