রংপুরের বদরগঞ্জে কিশোর গ্যাংয়ের দুই পক্ষের সংঘর্ষে আরিফুল ইসলাম (২৫) নামে এক ভ্যানচালককে দিবালোকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহত আরিফুল পৌরশহরের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পাঠানপাড়া গ্রামের রেজাউল ইসলামের ছেলে।
মঙ্গলবার (৫ এপ্রিল) বিকাল ৪টায় বালুয়াভাটা গ্রামে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, একই দিন রংপুর আদালতে একটি মামলায় কিশোর গ্যাংয়ের মমিনুলসহ ৫ জন হাজিরা দিতে যায়। আদালতে একই মামলার কিশোর গ্যাংয়ের ফিরোজ শাহ (ওরফে মার্ডার ফিরোজ)-এর নেতৃত্বে মমিনুল গ্রুপের ওপর হামলা করা হয়। এতে মমিনুলসহ কয়েকজন আহত হন। পরে সেখানে বিষয়টি মীমাংসা হয়।
পুলিশ আরও জানায়, ওই ঘটনার জের ধরে বদরগঞ্জে আনুমানিক দুপুর ৩টা ৩০ মিনিটে আবারও পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়। প্রতিশোধ নিতে মমিনুল তার লোকজন নিয়ে দেশীয় অস্ত্রসহ ফিরোজ বাহিনীকে খুঁজতে থাকে। একপর্যায়ে ফিরোজ বাহিনীর সদস্যরা পাঠানপাড়া গ্রামের ভ্যানচালক আরিফুলকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করেন। তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত আরিফুলের বাবা রেজাউল ইসলাম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার ছেলেকে পাঠানপাড়ার লোক বলে মেরে ফেলেছে। আমার তিন ছেলের মধ্যে একজনকে বাঁচাতে পারলাম না, আরেকজনকে মেরে ফেলেছে। বাবার কাঁধে ছেলের লাশের চেয়ে দুঃখ আর কিছু হতে পারে না। আমার ছেলে কোনো অপরাধ করেনি। আমি দোষীদের কঠোর বিচার চাই। বিচার না পেলে আমি আত্মহত্যা করব।’
বদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক যাদোন্দ্রনাথ বলেন, ‘রোগীকে হাসপাতালে আনার আগেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে। এখানে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছে।’
বদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত র্ককর্তা হাসান জাহিদ সরকার বলেন, ‘আদালতে আগের মামলার হাজিরা দিতে গিয়ে মারামারি হয়। পরে পাঠানপাড়ার লোকজন সংগঠিত হয়ে একটি দোকান ভাঙচুর করে চলে যায়। এরপর ফিরোজ গ্রুপ এসে একটি নিরীহ ছেলেকে পাঠানপাড়ার লোক ভেবে হত্যা করে। ফিরোজের বিরুদ্ধে এর আগেও তিনটি হত্যা মামলাসহ ১১টি মামলা রয়েছে। এ ঘটনায় নতুন করে মামলা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।’
রিফাত/