রমজানে রংপুরে বেড়েছে নিত্যপণ্যের দাম। এক সপ্তাহ আগে সবজি, মুরগি ও মাছের দাম কম থাকলেও এখন বেড়ে গেছে। তবে গরুর মাংসের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। প্রায় তিন মাস ধরে সরবরাহসংকটে থাকা সয়াবিন তেলের বাজার এখনো স্বাভাবিক হয়নি।
শনিবার (১ মার্চ) রংপুর নগরীর সিটি বাজার ঘুরে ক্রেতা ও বিক্রেতার সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। বিক্রেতাদের দাবি, সরবরাহ কম থাকায় মাছের দাম প্রতিদিন উঠানামা করছে। ক্রেতাদের দাবি, ব্যবসায়ীরা নিজেদের ইচ্ছেমতো দাম নিচ্ছেন। যখন যেভাবে দরকার, সেভাবে দাম বাড়াচ্ছেন।
সরেজমিনে গিয়ে সিটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ডিমের হালিপ্রতি বেড়েছে ৪ থেকে ৫ টাকা। গত সপ্তাহে যে রুই মাছ বিক্রি হয়েছে ২৭০ টাকা কেজি, গতকাল সেটা বেড়ে হয়েছে ৩৮০ টাকা। সিলভার কার্প মাছ গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছে ২২০ টাকা কেজিতে, গতকাল বিক্রি হয়েছে ২৮০ টাকায়। পাঙাশ গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছে ১৬০ টাকা কেজি দরে, গতকাল বিক্রি হয়েছে ২০০ টাকায় এবং তেলাপিয়া মাছ গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছে ১৪৫ টাকা কেজিতে, গতকাল বিক্রি হয়েছে ২২০ টাকায়।
চলমান পরিস্থিতিতে সবজির সরবরাহ বেশি থাকলেও রমজান উপলক্ষে দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। যেমন বেগুনের কেজি ৩০ টাকা থেকে ৯০ টাকা হয়েছে। করলা ৪৫ টাকা থেকে হয়েছে ৭০ টাকা। পটোল ৬০ টাকা হয়েছে কেজিতে যা গত সপ্তাহে ছিল ৫৫ টাকা। কাটিনাল আলু ৩০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ২৫ টাকা। আদা ৪০০ টাকা কেজি যা গত সপ্তাহে ছিল ৩৮০ টাকা কেজি। রসুন ৩০০ টাকা কেজি যা গত সপ্তাহে ছিল ২০০ টাকা। বরবটি ৫৫ টাকা কেজি যা গত সপ্তাহে ছিল ৪০ টাকা। পেঁপে ৪০ টাকা কেজি যা গত সপ্তাহে ছিল ৩০ টাকা। রমজানের নিত্যপ্রয়োজনীয় ছোলার কেজি ৯০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১০৫ টাকায়। লেবুর হালি ২৫ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৪০ টাকা।
এ দিকে ব্রয়লার মুরগি কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। সোনালি মুরগি এক সপ্তাহের ব্যবধানে ২৫ থেকে ৩০ টাকা বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরবরাহ কম থাকায় দাম কিছুটা বেড়েছে। তবে বাজার থেকে উধাও বোতলজাত সয়াবিন। খোলা সয়াবিন তেল লিটারপ্রতি ২২০ টাকায় বিক্রি হলেও এর সঙ্গে নিতে হচ্ছে ময়দা বা অন্য পণ্য।
সিটি বাজারে বাজার করতে আসা জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘রমজানে বিভিন্ন পণ্যের দাম বেড়েছে। যে টাকা বেতন পাই তা দিয়ে সংসার চলে না। সবজির দাম দিন দিন বাড়ছে, সঙ্গে বাড়ছে মাছ, মসলার দামও। জীবন চালানো অনেক কঠিন হয়ে পড়েছে।’
মেসে থাকা শিক্ষার্থী আদিত হাসান লিখন বলেন, ‘আমাদের যে বাজেট তাতে বাজারে এলে মন খারাপ হয়ে যায়। রমজানে রোজা রাখতেই হবে। তাই কম করে হলেও বাজার করতে হবে।’
বাজারে সবজি কিনতে আসা নাজমা খাতুন বলেন, ‘কিছু সবজি কিনতে বাজারে এসেছি। কিন্তু দাম শুনে হতবাক! একদিকে রমজানে আমাদের খরচ বেশি হয় তার ওপর পণ্যের বাড়তি দামের বোঝা আরও কষ্টদায়ক। বিষয়টি প্রশাসনের নজরদারি করা প্রয়োজন।’
সিটি বাজারের ব্যবসায়ী মনজুর কাদের বলেন, ‘আদা-রসুনের চাহিদা বেড়েছে। আর পণ্য আমদানি কম। বেশি দামে কিনতে বাধ্য হওয়ায় বিক্রি করার দামও বেড়ে যায়।’
মসলা ব্যবসায়ী জীবন মিয়া বলেন, ‘রমজানে মসলার দামও বাড়ছে। প্রতিবার দাম বাড়ে। কিন্তু দেখার কেউই নেই। আমরা কিছুটা লাভে বিক্রি করি।’